নরওয়েকে কখনো হারাতে পারেনি ব্রাজিল

পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল। অন্যদিকে নরওয়ে খেলছে মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপ। কিন্তু অবাক করা হলেও সত্য, বিশ্বকাপ তো বটেই- কোনো প্রতিযোগিতাতেই নরওয়েকে এখনো হারাতে পারেনি সেলেসাওরা। দুই দলের চার দেখায় নরওয়ের জয় দুটি, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র। ফলে আজকের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নয়, ইতিহাস বদলানোর মিশন নিয়েও মাঠে নামবে ব্রাজিল। ১৯৮৮ সালে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। প্রীতি ম্যাচে কার্লোস আলবার্তো সিলভার অধীনে নতুন দল গড়ছিল ব্রাজিল। ম্যাচে রোমারিওর গোলে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র করতে হয় তাদের। প্রায় এক দশক পর ১৯৯৭ সালে আবারও অসলো সফরে যায় ব্রাজিল। তখন জাগালোর অধীনে রোনালদো, রোমারিও, ডেনিলসনদের নিয়ে গড়া তারকাখচিত দল। সবাই যখন ব্রাজিলের সহজ জয়ের অপেক্ষায়, তখন চমক দেখায় নরওয়ে। টোরে আন্দ্রে ফ্লোর জোড়া গোলের সঙ্গে ইয়াকবসেন ও ওস্টেনস্টাডের গোল মিলিয়ে ব্রাজিলকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন রোমারিও ও ডেনিলসন। দুই দলের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি হয় ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে। মার্সেইয়ের স্টেড ভেলোড্রমে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বে

নরওয়েকে কখনো হারাতে পারেনি ব্রাজিল

পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল। অন্যদিকে নরওয়ে খেলছে মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপ। কিন্তু অবাক করা হলেও সত্য, বিশ্বকাপ তো বটেই- কোনো প্রতিযোগিতাতেই নরওয়েকে এখনো হারাতে পারেনি সেলেসাওরা।

দুই দলের চার দেখায় নরওয়ের জয় দুটি, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র। ফলে আজকের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নয়, ইতিহাস বদলানোর মিশন নিয়েও মাঠে নামবে ব্রাজিল।

১৯৮৮ সালে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। প্রীতি ম্যাচে কার্লোস আলবার্তো সিলভার অধীনে নতুন দল গড়ছিল ব্রাজিল। ম্যাচে রোমারিওর গোলে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র করতে হয় তাদের।

প্রায় এক দশক পর ১৯৯৭ সালে আবারও অসলো সফরে যায় ব্রাজিল। তখন জাগালোর অধীনে রোনালদো, রোমারিও, ডেনিলসনদের নিয়ে গড়া তারকাখচিত দল। সবাই যখন ব্রাজিলের সহজ জয়ের অপেক্ষায়, তখন চমক দেখায় নরওয়ে। টোরে আন্দ্রে ফ্লোর জোড়া গোলের সঙ্গে ইয়াকবসেন ও ওস্টেনস্টাডের গোল মিলিয়ে ব্রাজিলকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন রোমারিও ও ডেনিলসন।

দুই দলের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি হয় ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে। মার্সেইয়ের স্টেড ভেলোড্রমে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ব্রাজিল ইতোমধ্যে নকআউট নিশ্চিত করেছিল। তবু জাগালো মাঠে নামান রোনালদো, রিভালদো ও বেবেতোদের মতো তারকাদের।

৭৭ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকার পর ডেনিলসনের ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন বেবেতো। কিন্তু মাত্র ছয় মিনিট পরই সমতা ফেরান টোরে আন্দ্রে ফ্লো।

এরপর আসে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত। ৮৯ মিনিটে বক্সের ভেতরে ফ্লোকে ফাউল করেন জুনিয়র বাইয়ানো। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে গোল করে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন কেতিল রেকডাল। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে আজও স্মরণ করা হয় সেই ম্যাচকে।

দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ ২০০৬ সালে। দুঙ্গার অধীনে নতুন ব্রাজিল দল আবারও অসলো সফরে গিয়েছিল। ড্যানিয়েল কারভালহোর গোলে এগিয়ে গেলেও মর্টেন গ্যামস্ট পেডারসেনের গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয় ব্রাজিলের।

এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২০ বছর। এই সময়ে আর কখনও মুখোমুখি হয়নি দুই দল।

আজ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে আবারও মুখোমুখি ব্রাজিল ও নরওয়ে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কি অবশেষে নরওয়ে-জট কাটিয়ে ইতিহাস বদলাবে, নাকি নরওয়ে ধরে রাখবে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের ‘অজেয়’ রূপকথা—সেই উত্তর মিলবে আজ রাতেই।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow