নানা আয়োজনে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের প্রয়াণ দিবস পালিত
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের প্রয়াণ দিবসে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে দিবসটির কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, অধ্যাপক সেলিম আল দীন আমাদের জাতির গর্ব। নাট্যকলার একাডেমিক ভিত্তি নির্মাণে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন, তা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সারাদেশে বিস্তৃত। পাশ্চাত্য প্রভাবের বাইরে গিয়ে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নাট্যভাষায় রূপ দেওয়ার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা বাংলা নাটকের ইতিহাসে অনন্য। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার বলেন, হাজার বছরের বাংলা নাট্যধারার ভেতর থেকে সেলিম আল দীন শিল্পের মূল সূত্র অনুসন্ধান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নাট্য আঙ্গিকের প্রচলিত অবয়ব ভেঙে নির্মাণ করেছেন নতুন শিল্পভাষা। এ নিরন্তর ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে তার নাটকে এ জনপদের জীবন উঠে এসেছে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায়। তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের প্রয়াণ দিবসে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে দিবসটির কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, অধ্যাপক সেলিম আল দীন আমাদের জাতির গর্ব। নাট্যকলার একাডেমিক ভিত্তি নির্মাণে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন, তা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সারাদেশে বিস্তৃত। পাশ্চাত্য প্রভাবের বাইরে গিয়ে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নাট্যভাষায় রূপ দেওয়ার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা বাংলা নাটকের ইতিহাসে অনন্য।
শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার বলেন, হাজার বছরের বাংলা নাট্যধারার ভেতর থেকে সেলিম আল দীন শিল্পের মূল সূত্র অনুসন্ধান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নাট্য আঙ্গিকের প্রচলিত অবয়ব ভেঙে নির্মাণ করেছেন নতুন শিল্পভাষা। এ নিরন্তর ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে তার নাটকে এ জনপদের জীবন উঠে এসেছে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায়।
তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ তাঁরই হাতে গড়া। তাঁর অবর্তমানেও তাঁর সৃষ্টি ও শিল্পচিন্তা আমাদের আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে এবং নিরন্তর প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
কর্মসূচির শেষ পর্বে পুরাতন কলা ভবনে অনুষ্ঠিত হয় ‘সেলিম আল দীন ও বাংলা নাট্যের ঔপনিবেশিক আত্মপরিচয়’ শীর্ষক একটি সেমিনার। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নিজার। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ খান।
এসময় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. ইফসুফ হাসান অর্কসহ বিভাগীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর হাত ধরেই ১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের যাত্রা শুরু হয় এবং তিনিই ছিলেন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মো. রকিব হাসান প্রান্ত/আরএইচ/জেআইএম
What's Your Reaction?