নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বৈশাখী মেলা, বন্দিদের মুখে হাসি

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।  মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার পরিবেশে দিনটিকে উৎসবমুখর করে তুলতে এ আয়োজন করে কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারের প্রাঙ্গণে আয়োজিত মেলায় বন্দিদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য ছিল প্রধান আকর্ষণ। হস্তশিল্প থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সবকিছুতেই ফুটে উঠে তাদের সৃজনশীলতা। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়িও স্থান পায় স্টলে, যা উপস্থিতদের দৃষ্টি কাড়ে। মেলায় আরও ছিল দেশীয় পিঠা, বিলুপ্তপ্রায় মিষ্টি, ফুসকা, চা ও কফির স্টল। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য রাখা হয় পান্তা-ইলিশের বিশেষ আয়োজন, যা বৈশাখের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার ফোরকান ওয়াহিদ জানান, বন্দিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেশীয় খেলাধুলা। গান, খেলা ও বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়ে বন্দিরা কিছু সময়ের জন্য ভুলে থাকেন কারাবন্দি জীবনের একঘেয়েমি। এ আয়োজন তাদের মাঝে স্বস্তি ও নতুন আশার সঞ্চার করে। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার ফেরদৌস মিয়া জানান, সকালে বন্দিদের পরিবেশন করা হয় পান

নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বৈশাখী মেলা, বন্দিদের মুখে হাসি

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। 

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার পরিবেশে দিনটিকে উৎসবমুখর করে তুলতে এ আয়োজন করে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারাগারের প্রাঙ্গণে আয়োজিত মেলায় বন্দিদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য ছিল প্রধান আকর্ষণ। হস্তশিল্প থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সবকিছুতেই ফুটে উঠে তাদের সৃজনশীলতা। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়িও স্থান পায় স্টলে, যা উপস্থিতদের দৃষ্টি কাড়ে।

মেলায় আরও ছিল দেশীয় পিঠা, বিলুপ্তপ্রায় মিষ্টি, ফুসকা, চা ও কফির স্টল। কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য রাখা হয় পান্তা-ইলিশের বিশেষ আয়োজন, যা বৈশাখের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার ফোরকান ওয়াহিদ জানান, বন্দিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেশীয় খেলাধুলা। গান, খেলা ও বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নিয়ে বন্দিরা কিছু সময়ের জন্য ভুলে থাকেন কারাবন্দি জীবনের একঘেয়েমি। এ আয়োজন তাদের মাঝে স্বস্তি ও নতুন আশার সঞ্চার করে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার ফেরদৌস মিয়া জানান, সকালে বন্দিদের পরিবেশন করা হয় পান্তা-ইলিশ, আলু ভর্তা, কাঁচা পেঁয়াজ ও মরিচ। দুপুরে ছিল পোলাও, মুরগির রোস্ট, ডিম, কোমল পানীয়, মিষ্টি ও পান-সুপারি। রাতে দেওয়া হয় ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা।

পুরো আয়োজনটি উপভোগ করেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন ও তার সহধর্মিণী। এ সময় কারা মহাপরিদর্শক জানান, এ ধরনের আয়োজন বন্দিদের মানসিক প্রশান্তি দিতে সহায়ক এবং তাদের সমাজে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। 

পরে কারা মহাপরিদর্শক কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেন এবং সেখানে বন্দিদের সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি বন্দি, কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের নতুন বছরের শুভকামনা জানান। পরিদর্শনকালে কারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow