এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে শতভাগ সাফল্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা। জাতীয় দলের পর অনূর্ধ্ব-২০ দলও নিশ্চিত করেছে মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বের খেলা।
অন্যদিকে জাতীয় পুরুষ ফুটবল দল বাছাইয়ের ৬ ম্যাচের দুটি খেলেছে। বাকি আরও চারটি। পুরুষদের বয়সভিত্তিক অনূর্ধ্ব-২৩ দল এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ৩ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামে বাংলাদেশের যুবারা বাছাইয়ের ‘সি’ গ্রুপে খেলবে ইয়েমেন, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে। বাছাইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ ১২ দিন বাহরাইনে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করে এসেছে। এখন কোচ সাইফুল বারীর অধীনে এবং জাতীয় দলের প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার তত্ত্বাবধানে ঢাকায় অনুশীলন করছেন ফুটবলাররা।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরুর আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন কোচ সাইফুল বারী টিটু ও ভিয়েতনাম সফরের জন্য মনোনীত অধিনায়ক শেখ মোরসালিন।
চলতি বছরটি দেশের নারী ফুটবলে সাফল্যে ভরপুর। মেয়েদের এই সাফল্য পুরুষ ফুটবলারদের জন্য কোনো চাপ কিনা, এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল মোরসালিনকে। তবে তিনি নারীদের সাফল্যকে চাপ হিসেবে নয়, অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
মোরসালিন বলেছেন, ‘মেয়েরা ভালো করছে। এটা আমাদের খুব অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা চেষ্টা করবো অবশ্যই ভালো করার জন্য।’
দলের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মোরসালিন বলেন, ‘প্রতিযোগিতার জন্য আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত। বাহরাইনে করা ক্যাম্প আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়েছে। বাহরাইন ও ভিয়েতনামের খেলার ধরন প্রায় একই রকম। আমরা আমাদের অবস্থান বুঝতে পেরেছি। ভিয়েতনামে ইনশাল্লাহ ভালো কিছু আশা করছি। আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ কিছু করার চেষ্টা করবো। ভালোর শেষ নেই। চেষ্টা করবো আরও ভালো করার।’
দলে আছেন কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার। বিশেষ করে কিউবা মিচেল ও জায়ানের কথা উল্লেখ করে মোরসালিন বলেন, ‘আমাদের দলে ভালো কিছু খেলোয়াড় আছে। তারা আমাদের দলের জন্য খুব ইতিবাচক। তারা আসাতে আমরা মানসিকভাবে আরও উজ্জীবিত। আমাদের দলে ভালো ভালো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় আছেন। কিউবা ও জায়ান আক্রমণে খুব ভালো। সব কিছু মিলিয়ে মানসিকভাবে আমরা প্রস্তুত। জাতীয় দলের ১৩ জন খেলোয়াড় আছেন আমাদের সঙ্গে। এটা বাড়তি একটা অনুপ্রেরণা। আমরা জাতীয় দলে খেলি, অনূর্ধ্ব-২৩ দলেও খেলছি। এটা আমাদের জন্য একটা অভিজ্ঞতা।’
কোচ সাইফুল বারী টিটু বলেন, ‘বাহরাইনের প্রস্তুতিটা ভালো ছিল। আরেকটা ম্যাচ খেলতে পারলে আরও ভালো হতো। বাহরাইনের শক্তিমত্তা এবং ওদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা গিয়েছিলাম। ম্যাচগুলো খেলার পর মনে হয়েছে ভিয়েতনামে আমাদের কিছু সুযোগ আছে। ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই ম্যাচটা আমাদের পথ দেখাবে। ওই ম্যাচের জন্য যে মনোবল ও আত্মবিশ্বাস লাগে, সেটা আমরা বাহরাইন থেকে পেয়েছি।’
‘এটা খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করে, সে কতটা দ্রুত আমাদের গেমপ্ল্যানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবে। জাতীয় দলে যারা খেলে, যারা নিয়মিত গেমটাইম পায়, কিউবা যদি এর চেয়ে বেশি সুপেরিয়টি দেখায়, তাহলে সে শুরুর একাদশে খেলবে। যাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ আউটপুট পাব তাদেরই খেলাবো।’
সাইফুল বারী আরও বলেন, ‘কৃতিত্ব কে পাবে এর চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আমরা যদি কোয়ালিফাই করি সেটাতেই আনন্দিত। সবচেয়ে বড় ক্রেডিট পাবে খেলোয়াড়েরা। কারণ ওরাই কাজগুলো করবে। আমরা যৌথভাবে যদি দলের ভালো করতে চাই, এতে দোষের কিছু দেখছি না। আমরা ফোকাসটা খেলোয়াড়দের ওপরই রাখছি।’
আরআই/এমএইচ/জেআইএম