‘নিউ গাজা’ নিয়ে যেসব পরিকল্পনা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে ‘নিউ গাজা’ নামে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিকল্পনায় গাজাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, যেখানে ভূমধ্যসাগরের তীরজুড়ে সারি সারি উঁচু ভবন, আবাসিক এলাকা, শিল্পাঞ্চল ও পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন। এই বোর্ডের দায়িত্ব হবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি করা। সেখানে ‘নিউ গাজা’ পরিকল্পনার স্লাইডে দেখা যায়, গাজার উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১৮০টি উঁচু ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি রাফাহ এলাকায় বড় আকারের আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। একটি মানচিত্রে দেখানো হয়, প্রায় ২১ লাখ মানুষের জন্য ধাপে ধাপে আবাসন, কৃষিজমি ও শিল্পাঞ্চল তৈরি করা হবে। পরিকল্পনায় আরও রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি কেন

‘নিউ গাজা’ নিয়ে যেসব পরিকল্পনা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে ‘নিউ গাজা’ নামে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিকল্পনায় গাজাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, যেখানে ভূমধ্যসাগরের তীরজুড়ে সারি সারি উঁচু ভবন, আবাসিক এলাকা, শিল্পাঞ্চল ও পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন। এই বোর্ডের দায়িত্ব হবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি করা।

সেখানে ‘নিউ গাজা’ পরিকল্পনার স্লাইডে দেখা যায়, গাজার উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১৮০টি উঁচু ভবন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি রাফাহ এলাকায় বড় আকারের আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। একটি মানচিত্রে দেখানো হয়, প্রায় ২১ লাখ মানুষের জন্য ধাপে ধাপে আবাসন, কৃষিজমি ও শিল্পাঞ্চল তৈরি করা হবে।

পরিকল্পনায় আরও রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, আধুনিক কারখানা, পার্ক, খেলাধুলার সুবিধা এবং উপকূলীয় পর্যটন এলাকা। মিসর সীমান্তের কাছে একটি নতুন সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মিসর ও ইসরায়েল সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ সীমান্ত পারাপার ব্যবস্থার কথা বলা হয়।

মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী, গাজার পুনর্গঠন কাজ চারটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ধাপে রাফাহ থেকে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে গাজা শহরের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মানচিত্রে মিসর ও ইসরায়েল সীমান্ত বরাবর একটি খালি অঞ্চল দেখানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি নিরাপত্তা এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যেখানে গাজা পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করতে পারে।

পরিকল্পনায় নিউ রাফাহ এলাকায় এক লাখের বেশি স্থায়ী আবাসন, ২০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৭৫টি চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধের আগে রাফাহ শহরে প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার মানুষ বসবাস করতেন। তবে ইসরায়েলি হামলায় শহরটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বর্তমানে এটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অনুষ্ঠানে জানান, গাজায় প্রায় ৯০ হাজার টন গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ছয় কোটি টন ধ্বংসস্তূপ জমে আছে। তিনি বলেন, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই নিউ রাফাহ নির্মাণ শেষ করা সম্ভব এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

কুশনার জানান, হামাস নিরস্ত্রীকরণের একটি চুক্তিতে সই করেছে এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে। তার ভাষায়, এখানে প্ল্যান বি বলে কিছু নেই। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ছাড়া গাজায় কোনো বিনিয়োগ সম্ভব নয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ফিলিস্তিনি প্রশাসন; ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)-এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় হামাসের সঙ্গে কাজ করবে।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটনে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হবে, যেখানে বিভিন্ন দেশ গাজা পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে বলে জানান কুশনার।

এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা যেতে পারে। সেসময় ট্রাম্পের এমন বক্তব্য বিশ্বজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি করে।

এদিকে হামাস বরাবরই বলে আসছে, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। তবে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামাসকে অস্ত্র ছাড়তেই হবে, না হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow