নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারত

বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি) ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নয়াদিল্লি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের (নির্ভরশীলদের) দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে কালবেলাকে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।  ভারতের এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন ও চারটি সহকারী হাইকমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পরিবার-বহির্ভূত’ কূটনৈতিক পোস্টিং গন্তব্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতদিন এই শ্রেণীটি কেবল ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও দক্ষিণ সুদানের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশে প্রয়োগ করেছিল। এখন বাংলাদেশও সেই তালিকায় যুক্ত হলো।   নির্ভরযোগ্য এক সূত্র কালবেলাকে জানায়, এই সিদ্ধান্ত মূলত সতর্কতামূলক। হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলো (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু থাকবে এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে কর্মকর্তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের অস্থায়ীভাবে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত গত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। কর্মকর্তাদের জানানো

নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারত

বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি) ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নয়াদিল্লি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের (নির্ভরশীলদের) দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে কালবেলাকে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। 

ভারতের এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন ও চারটি সহকারী হাইকমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পরিবার-বহির্ভূত’ কূটনৈতিক পোস্টিং গন্তব্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতদিন এই শ্রেণীটি কেবল ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও দক্ষিণ সুদানের মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশে প্রয়োগ করেছিল। এখন বাংলাদেশও সেই তালিকায় যুক্ত হলো।  

নির্ভরযোগ্য এক সূত্র কালবেলাকে জানায়, এই সিদ্ধান্ত মূলত সতর্কতামূলক। হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলো (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু থাকবে এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে কর্মকর্তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের অস্থায়ীভাবে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত গত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল, তাদের পরিবারকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে ভারতে ফিরিয়ে নিতে হবে। স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। ফলে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহীতে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের পরিবার দ্রুত ভারতে ফিরে যায়।  

যদিও এ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে একাধিক সূত্র নির্ভরযোগ্য সূত্র এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।  

নয়াদিল্লির এমন সিদ্ধান্তের কারণ:
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে বাংলাদেশের ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা, যা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ নিয়ে কয়েকদিন দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের তলব পালটা তলব করা হয়। 

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, নির্বাচনের আগে ভারতের এমন সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়। ভারতের কাছে নিশ্চয়ই গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে ভারতীয় নাগরিক বা কূটনৈতিক কর্মীদের পরিবারকে লক্ষ্য করে সহিংসতা হতে পারে। তাই তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া ২০১৬ সালে ঢাকার হলি আর্টিসান হামলার পর বাংলাদেশে মার্কিন কূটনীতিকরা তাদের পরিবার নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমেরিকা প্রায় এক দশক ধরে এই নিয়ম চালু রেখেছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের সিদ্ধান্ত নতুন নয়। তবে এই সিদ্ধান্ত অস্থায়ী। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে নীতি পুনর্বিবেচনা হতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow