নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বনাম উপকূলের বাস্তবতা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। ৭টি উপজেলা, ৭৭টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই জেলায় চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২৪ জন। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাই সাতক্ষীরায় ভোটের মাঠে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো সংকট। জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এই জেলার মানুষ ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে টিকে আছে। প্রতিবার জাতীয় নির্বাচন এলেই দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বিভিন্ন পথসভা জনসভায় প্রার্থীদের মুখে শোনা যায় মানুষের সমস্যা সমাধানের নানা আশ্বাস। নদীভাঙন রোধ, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি- প্রতিটি নির্বাচনি প্রচারণায় এসব প্রতিশ্রুতি নতুন করে উঠে আসে। তবে ভোটারদের অভিযোগ, এসব আশ্বাস নতুন নয়। আগের নির্বাচনগুলোতেও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘ দিনেও সমস্যাগুলোর স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ফলে প্রতিশ্রুতির ওপর মানুষের আস্থা কমেছে। তাই

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বনাম উপকূলের বাস্তবতা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। ৭টি উপজেলা, ৭৭টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই জেলায় চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২৪ জন। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ এখানকার মানুষের দীর্ঘদিনের। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে তাই সাতক্ষীরায় ভোটের মাঠে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো সংকট।

জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এই জেলার মানুষ ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে টিকে আছে। প্রতিবার জাতীয় নির্বাচন এলেই দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বিভিন্ন পথসভা জনসভায় প্রার্থীদের মুখে শোনা যায় মানুষের সমস্যা সমাধানের নানা আশ্বাস। নদীভাঙন রোধ, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি- প্রতিটি নির্বাচনি প্রচারণায় এসব প্রতিশ্রুতি নতুন করে উঠে আসে।

তবে ভোটারদের অভিযোগ, এসব আশ্বাস নতুন নয়। আগের নির্বাচনগুলোতেও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘ দিনেও সমস্যাগুলোর স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ফলে প্রতিশ্রুতির ওপর মানুষের আস্থা কমেছে। তাই এবারের নির্বাচনের শুধু বক্তব্য বা ইশতেহার নয়, অতীতের কাজ ও বাস্তব সক্ষমতা বিবেচনা করেই সঠিক প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চান জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় এ জনপদের ভোটাররা।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বনাম উপকূলের বাস্তবতা

বসতভিটা হারাচ্ছে শত শত পরিবার

কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া, ইছামতি, মরিচ্চাপসহ একাধিক নদীর ভাঙনে প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ, দেবহাটা উপজেলার বহু পরিবার একাধিকবার বসতভিটা হারিয়ে এখন নিঃস্ব। ভাঙন রোধে খণ্ড খণ্ড প্রকল্প নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান না থাকায় সমস্যাটি দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে।

বেড়িবাঁধ ভাঙন ও লবণপানির আগ্রাসন

উপকূল রক্ষার প্রধান ভরসা বেড়িবাঁধ। কিন্তু জরাজীর্ণ ও অপরিকল্পিত বাঁধ সামান্য জোয়ার বা নিম্নচাপেই ভেঙে পড়ে। ফলে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে লবণপানি। নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি, মিঠাপানির উৎস ও মৎস্য ঘের। এতে করে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব এখানকার স্থায়ী সমস্যা।

দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনের ঘাটতি

আইলা, আম্পান, বুলবুল, ফণি, ইয়াসসহ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাতক্ষীরার মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপর্যস্ত করেছে। দুর্যোগের সময় ত্রাণ এলেও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, টেকসই বাসস্থান ও বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ না থাকায় মানুষ আবারও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসে বাধ্য হচ্ছে।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বনাম উপকূলের বাস্তবতা

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিবার নির্বাচন এলে আমাদের এলাকায় নেতারা আসেন, নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার কথা বলেন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট শেষ হলেই আর কেউ এদিকে ফিরে তাকান না। দুর্যোগ বা পূর্ণিমার জোয়ার এলেই বেড়িবাঁধ ভেঙে বা বাঁধ ছাপিয়ে লবণপানি ঘরে ঢুকে যায়, খাওয়ার পানির জন্য ব্যবস্থা না থাকায় অনেক দূরে যেতে হয়। গত সরকারের সময় এখানে টেকশই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এখন কাজ হচ্ছে ধীর গতিতে। এই বাঁধ কবে শেষ হবে জানি না। যারাই নির্বাচিত হোক, তারা যেন আমাদের এই বাঁধের কাজ শেষ করে।’

একই এলাকার বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘নদীতে বড় জোয়ার এলেও পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। বেড়িবাঁধ যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। জায়গা জমি না থাকায় এখানে বাধ্য হয়ে থাকতে হয়। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটে। আগেও অনেক নেতাদের প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু কোনো সমস্যার সমাধান হয়নি। তাই এবার ভেবেচিন্তেই নিজের ভোট দিতে চাই।’

আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের নদীভাঙন কবলিত এলাকা বিছট গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমার ঘর-বাড়ি জমি সব নদীতে চলে গেছে। কয়েকবার জায়গা বদল করে এখন খাস জমিতে বাস করি। এখনো নিশ্চিত কোনো ঠিকানা নেই। নির্বাচনের সময় সবাই ভোট চাইতে আসে, বলে ভাঙন বন্ধ করবে। বাঁধ করে দেবে। কিন্তু ভাঙন বন্ধ হয় না। আমরা এমন একজন মানুষ চাই, যিনি সত্যিই আমাদের বিপদে পাশে দাঁড়াবেন। আমাদের জন্য কাজ করবেন।’

এই উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের হাওলাদার বাড়ি গ্রামের বৃদ্ধ রইচ উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ এই জীবনে আমি অনেক নির্বাচন দেখেছি। প্রতিবারই নেতারা ভোটের জন্য এই এলাকায় আসেন। তারা বলেন, উপকূলের উন্নয়ন হবে, পানি সমস্যা দূর হবে। কিন্তু বয়সের এই সময়ে এসেও সেই একই কষ্ট ভোগ করছি। এবার আমরা এমন কাউকে চাই, যিনি কথা কম বলবেন, কাজ বেশি করবেন।’

কর্মসংস্থানের অভাবে শহরমুখী মানুষ

সুন্দরবন ঘেঁষা জেলা হলেও পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে এখানে বননির্ভর জীবিকার সুযোগ সীমিত হয়েছে। এই এলাকায় কোনো বড় শিল্পকারখানা না থাকায় তরুণদের জন্য নেই পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ। কৃষি ও মৎস্য খাতে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগের অভাব স্পষ্ট। ফলে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজের সন্ধানে খুলনা, যশোর কিংবা ঢাকায় চলে যাচ্ছেন। অনেক তরুণ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বনাম উপকূলের বাস্তবতা

শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মৌখালী গ্রামের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামে থাকলে পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারতাম। কিন্তু বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান না থাকায় উপায় নেই। আমাদের এলাকায় অনেকে ইট ভাটায় কাজ করে। আমিও কয়েকবার ভাটায় গিয়েছি। তবে সেখানে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। টাকাও কম। এজন্য বর্তমানে ঢাকার একটি বস্তিতে বসবাস করে রিকসা চালাচ্ছি। তবে আমার পরিবার গ্রামে থাকে।’

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমাদের এলাকার অনেক তরুণ এখন গ্রামে থাকে না। কেউ খুলনায়, কেউ ঢাকায়। এখানে যদি কাজের পরিবেশ থাকত, তাহলে কেউ পরিবার ছেড়ে বাইরে যেত না। নির্বাচনের সময় সবাই কর্মসংস্থানের কথা বলেন, কিন্তু ভোটের পর সেই কথার কোনো বাস্তবতা দেখি না।’

কর্মসংস্থানের অভাবে উপকূল থেকে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা প্রসঙ্গে শ্যামনগরের উন্নয়নকর্মী গাজী ইমরান বলেন, ‘এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের স্থায়ী সুযোগ না থাকায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যাচ্ছে। কৃষি ও মৎস্য খাতে সম্ভাবনা থাকলেও প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ ও বাজার সংযোগের অভাবে স্থানীয়ভাবে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে এখানকার অনেক মানুষ দেশের বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করতে চলে যায়। এর ফলে বছরের প্রায় ৬ মাস এই এলাকাগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে।’

পর্যটন সম্ভাবনাতেও অবকাঠামো সংকট

সুন্দরবনের পশ্চিমাংশে পর্যটনের বড় সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগানো হয়নি। দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং অনুমতি প্রক্রিয়ার জটিলতায় পর্যটক কমছে। এতে স্থানীয় মানুষের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।

নির্বাচনের মাঠে প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ি

এই বাস্তবতায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ সব দলের প্রার্থীরাই সাতক্ষীরার এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। সবার নির্বাচনি সভা, প্রচারপত্র ও ইশতেহারে উঠে আসছে নদীভাঙন রোধ, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পর্যটন খাত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।

কিছু প্রার্থী সাতক্ষীরার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ উন্নয়নে রেললাইন স্থাপনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলছেন। আবার কেউ কেউ উপকূলভিত্তিক শিল্প, ফিশ প্রসেসিং জোন, পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলে কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ইশতেহারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা ও লবণাক্ততা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করছেন অনেকে।

উন্নয়ন বনাম টিকে থাকার সংগ্রাম

সার্বিকভাবে সাতক্ষীরার নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি উপকূলের মানুষের টিকে থাকার সংগ্রামের প্রতিফলন। প্রার্থীদের ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হলে বদলে যেতে পারে এই জেলার চেহারা। আর ব্যর্থ হলে আগের মতোই দুর্যোগ, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই কাটবে সাতক্ষীরার মানুষের জীবন।

ভোটাররা তাই এবার শুধু জনপ্রতিনিধি নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার দায়িত্ব তুলে দিতে চান এমন নেতৃত্বের হাতে— যিনি সত্যিই উপকূলের বাস্তবতা বোঝেন এবং কথা নয়, কাজে প্রমাণ রাখবেন।

প্রার্থীরা কী বলছেন?

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, উপকূলীয় এই জনপদের সবচেয়ে বড় সংকট সুপেয় পানির অভাব। নির্বাচিত হলে নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে আমার অগ্রাধিকার।

একইসঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা, খেলাধুলা ও কর্মসংস্থানের বিকল্প সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। উপকূলীয় এলাকার নদীভাঙন, বেড়িবাঁধ ও লবণাক্ততার সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন উন্নয়ন, যোগাযোগ ও অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানমুখী পরিবেশ তৈরির কথাও জানান বিএনপির এই প্রার্থী।

একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, শ্যামনগরের মানুষের প্রধান চাহিদা নিরাপদ সুপেয় পানি ও মাদকমুক্ত সামাজিক পরিবেশ।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার স্থায়ী সমস্যাগুলো বিশেষ করে বেড়িবাঁধের টেকসই সংস্কার, নদীভাঙন রোধ এবং লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন গাজী নজরুল ইসলাম।

এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীরাও প্রচারণায় উপকূলীয় সংকট, যোগাযোগ, সুপেয় পানির অভাব ও মাদক সমস্যার কথা তুলে ধরে ভোটারদের কাছে সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন।

সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, এর আগেও তিনি একবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে তিনি কাজ করেছেন। ঘূর্ণিঝড় আইলার পর থেকে এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের মূল কারণ সুপেয় পানির সংকট। এছাড়া এলাকায় মাছ চাষ হওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে। নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, রেললাইন, নতুন রাস্তা ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং নদীভাঙন ও লবণাক্ততা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাদ্দেস রবিউল বাসার জাগো নিউজকে বলেন, এখন সময় এসেছে পুরোনো নিয়ম ও ব্যর্থ ব্যবস্থার পরিবর্তনের। সবার আগে উন্নয়ন কাজ করতে হবে অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোতে। যোগাযোগ, উপকূলীয় সংকট নিরসন, সুপেয় পানির সমাধান এবং নৈতিক ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বলে জানান। জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এই আসনের বাকি প্রার্থীরাও নির্বাচনি প্রচারণায় ভোটারদের মন জয় করতে সুপেয় পানির সংকট নিরসন, উপকূলীয় সমস্যা সমাধান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অবকাঠামো উন্নয়নের নানা আশ্বাস দিচ্ছেন।

এফএ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow