নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অপরাপর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তারা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস। এ লক্ষ্যে ৫টি দাবিও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে চট্টগ্রামের রাউজান ও মিরসরাইয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি পরিদর্শনপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়েছে।নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার প্রয়োগে সমনির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে ‘সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস’ এর উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ৫ দফা দাবি হলো, ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহকে বিশেষ কার্যকরী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা এবং এ বিষয়টি নিয়মিত তদারকির জন্য উ

নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অপরাপর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তারা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস। এ লক্ষ্যে ৫টি দাবিও তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে চট্টগ্রামের রাউজান ও মিরসরাইয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি পরিদর্শনপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়েছে।নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার প্রয়োগে সমনির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে ‘সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস’ এর উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

৫ দফা দাবি হলো, ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহকে বিশেষ কার্যকরী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা এবং এ বিষয়টি নিয়মিত তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক সেল গঠন করা; রাউজান ও মিরসরাইসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সংখ্যালঘুদের উপর সংঘটিত সকল ধরনের সহিংসতার তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা; ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক আঘাত দূরীকরণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং মানবাধিকার কমিশন যাতে এ বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নজরদারিতে রাখে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। 

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক উদ্যোগ এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রামের রাউজানে গত ১ নভেম্বর থেকে কমপক্ষে ১২টি সনাতন ধর্মাবলম্বীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বাহির থেকে তালা লাগিয়ে আগ্নিসংযোগের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, এ পরিবারগুলোর সকলকে পুড়িয়ে মারাই ছিল অগ্নিসংযোগকারীদের উদ্দেশ্য। এছাড়াও মিরসরাইয়ে ৭টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এমন সহিংসতা ঘটানোর মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন স্থানে আতংক ছড়িয়ে দিয়ে সংখ্যালঘুদেরকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত রাখা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সবচেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম থাকলেও পাশাপাশি অন্য সব ধর্মের নিরাপত্তার বিধান করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। আজকে তারা সেই নিরাপত্তা পাচ্ছে না। মুসলিম ছাড়া বাকি জনগোষ্ঠীদের এ দেশে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার উদ্দেশ্য কেবল জানমালের ক্ষতি করা নয়, বরং তাদের মধ্যে স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করা- যেন তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারে। অথচ বাংলাদেশ একটি বহু জাতি, বহু ধর্মের দেশ। আজকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা কখনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে পড়ে না। বাংলাদেশ একটি বহু বৈচিত্র্যপূর্ণ রাষ্ট্র, আগামীতে যে সরকার আসবে- অবশ্যই এই জাতিগত বৈচিত্র্যকে রক্ষা করার উদ্যোগ নিতে হবে।

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, সংখ্যালঘুদের উপর সংঘটিত বেশিরভাগ সহিংসতার পেছনে নানান উদ্দেশ্য থাকে, পরিকল্পিতভাবে এগুলো সংঘটিত করা হচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আদিবাসী, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা আজকে জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তারা যাতে নিরাপদে- নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে আসতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বৈষম্যবিরোধী চেতনা নিয়ে যে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে, দেড় বছরের বেশি সময়েও বৈষম্য নিরসনের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ আমরা দেখতে পায়নি। গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থ করে দেয়ার অধিকার কারো নেই।

বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমার সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন- মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তাওহীদ আহমেদ রানা, ব্লাস্টের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশনের পরিচালক মাহবুবা আক্তার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow