নির্মাণাধীন ভবনে মিলল ঝুলন্ত মরদেহ

গাজীপুরের টঙ্গীতে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের দোতলায় গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় ফারুক হোসেন (৩৭) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোর ৫টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ফারুক হোসেনের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার দক্ষিণ ধর্মপুর এলাকায়। তিনি মো. সাহাব উদ্দিন ও শাহেনা আক্তারের ছেলে। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার মরকুন পূর্বপাড়া গোদারাঘাট এলাকায় বসবাস করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের দোতলায় গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় ফারুকের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি চিরকুটকে কেন্দ্র করে। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ পাশাপাশি ভবনের কাজ বন্ধ রাখা, দোকানের হিসাব, সিমেন্ট ও বিকাশের টাকা-পয়সার বিষয়েও কিছু লিখে যান তিনি। চিরকুটে খান সাহেবের পাওনা ও বিভিন্ন আর্থিক হিসাবের কথাও উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তবে এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ক

নির্মাণাধীন ভবনে মিলল ঝুলন্ত মরদেহ
গাজীপুরের টঙ্গীতে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের দোতলায় গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় ফারুক হোসেন (৩৭) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোর ৫টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ফারুক হোসেনের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ফুলগাজী থানার দক্ষিণ ধর্মপুর এলাকায়। তিনি মো. সাহাব উদ্দিন ও শাহেনা আক্তারের ছেলে। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার মরকুন পূর্বপাড়া গোদারাঘাট এলাকায় বসবাস করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের দোতলায় গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় ফারুকের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি চিরকুটকে কেন্দ্র করে। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ পাশাপাশি ভবনের কাজ বন্ধ রাখা, দোকানের হিসাব, সিমেন্ট ও বিকাশের টাকা-পয়সার বিষয়েও কিছু লিখে যান তিনি। চিরকুটে খান সাহেবের পাওনা ও বিভিন্ন আর্থিক হিসাবের কথাও উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তবে এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, স্থানীয়দের দাবি- ফারুক ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরোপকারী ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি মানুষ। তার পরিবার ফেনীতে বসবাস করে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, তার মধ্যে তেমন কোনো হতাশা বা অস্বাভাবিক আচরণ আগে দেখা যায়নি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফারুক পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চতুর্থ। তিন ভাই প্রবাসে থাকেন, একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং আরেকজন প্রকৌশলী। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, পারিবারিক বা সম্পত্তিগত কোনো বিরোধ ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এদিকে ঘটনাস্থলের বর্ণনায় আরও রহস্য তৈরি হয়েছে। জানা যায়, ভবনের ছয়তলায় আত্মহত্যার জন্য রশি লাগানো হলেও মরদেহ পাওয়া যায় দোতলায়। এ বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ সন্দেহ করছেন, তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে কিনা, সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে। টঙ্গী পূর্ব থানার কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। আমরা সবদিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছি।’ ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রহস্যময় এ মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow