নিশামনি হত্যার নতুন তথ্য দিল পুলিশ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় কদম ফুলের প্রলোভনে ৫ বছরের শিশু নিশামনিকে চার তরুণ মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে কংস নদে ফেলে যায়। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর নদ থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিহত শিশুটির বাবা ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তাররা হলো— রমজান আলীর ছেলে মারুফ মিয়া (১৯), দোলাল মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া (১৯) ও তাহের উদ্দিনের ছেলে রাকিব মিয়া (২১)। তাদের সবার বাড়ি গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে শিশু নিশামনি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয় লোকজন একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন এবং উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। রাতেই দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে মরদেহ গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এতে তাদের সন
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় কদম ফুলের প্রলোভনে ৫ বছরের শিশু নিশামনিকে চার তরুণ মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে কংস নদে ফেলে যায়। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর নদ থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিহত শিশুটির বাবা ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তাররা হলো— রমজান আলীর ছেলে মারুফ মিয়া (১৯), দোলাল মিয়ার ছেলে আরিফ মিয়া (১৯) ও তাহের উদ্দিনের ছেলে রাকিব মিয়া (২১)। তাদের সবার বাড়ি গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে শিশু নিশামনি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয় লোকজন একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন এবং উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
রাতেই দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে মরদেহ গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এতে তাদের সন্দেহ হলে দাফনের প্রস্তুতি বন্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন।
পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা পর রাতে শিশুটির দাফন সম্পন্ন করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে স্থানীয় বাজার থেকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে চার তরুণের সঙ্গে শিশুটির দেখা হয়। মাগরিবের আজানের আগে তারা কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে কৌশলে কংস নদীর পাড়ের জঙ্গলঘেরা নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়।
সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও জানায়, সুরতহাল প্রতিবেদনে শিশুটির ওপর নির্যাতন ও হত্যার আলামত পাওয়া যায়। এরপর ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে মারুফ, আরিফ ও রাকিবকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী (৭০) বলেন, আমার দীর্ঘ জীবনে এ এলাকায় এমন নৃশংস ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। এ ধরনের কাজ কোনোভাবেই মানুষের আচরণ হতে পারে না। এমনকি পশুরাও এ ধরনের কাজ করে না।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, যারা ৫ বছরের শিশু মেয়ের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা মানবতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং তাদের আচরণ অত্যন্ত ঘৃণ্য।
নিহতের বাবা রাজু মিয়া বলেন, আমি আর কিছুই চাই না, শুধু আমার ছোট্ট শিশুর বিচার চাই। আমি অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি, ফাঁসি চাই। আমার নিষ্পাপ শিশুকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর নদীতে ভাসিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ওপর অবশ্যই আল্লাহর গজব নেমে আসবে।
নিহতের ফুপি ফারহানা ইসলাম ঈষিতা বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের একটি শিশুর সঙ্গে এমন জঘন্য ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের কাজ মানবতার চরম অবমাননা, তারা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে এলাকায় বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি মীমাংসা না করলে তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ফারহানা ইসলাম ঈষিতা বলেন, তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গোয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম টুটন বলেন, নিহত শিশুটির বয়স এখনো পাঁচ বছরও পূর্ণ হয়নি। এত নিষ্ঠুর ও নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সমাজে আর কোনো শিশুকে এ ধরনের নির্মম ঘটনার শিকার হতে না হয়।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে একজনের বক্তব্য অনুযায়ী চারজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অন্য দুজন এখনো বিস্তারিত কিছু বলেননি। পলাতক আরেকজনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। তবে প্রাথমিক তদন্তে শিশুটির ওপর সংঘবদ্ধ নির্যাতন ও হত্যার গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে। এই মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।
What's Your Reaction?