নীতির ধারাবাহিকতা ও সুশাসন চান জাপানি বিনিয়োগকারীরা: জেবিসিসিআই
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)। সংগঠনটি বলেছে, জাপানি বিনিয়োগকারীরা নীতির ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা, সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ এশিয়ার একটি নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাজেট-পরবর্তী এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব কথা বলেছে। সংগঠনটি বলছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত বাজেটে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হয়েছে। আরও পড়ুন অবশেষে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল সংগঠনটি মনে করে, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি), ব্যাটারি প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত ইলেকট্রনিকস, মেডিকেল ডিভাইসসহ প্রযুক্তিনির্ভর নতুন শিল্প খাতের জন্য দেওয়া শুল্ক ও কর ছাড় ভবিষ্যতমুখী শিল্পায়নের প্রতি সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টি
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)। সংগঠনটি বলেছে, জাপানি বিনিয়োগকারীরা নীতির ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা, সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ এশিয়ার একটি নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাজেট-পরবর্তী এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব কথা বলেছে।
সংগঠনটি বলছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত বাজেটে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হয়েছে।
সংগঠনটি মনে করে, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি), ব্যাটারি প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত ইলেকট্রনিকস, মেডিকেল ডিভাইসসহ প্রযুক্তিনির্ভর নতুন শিল্প খাতের জন্য দেওয়া শুল্ক ও কর ছাড় ভবিষ্যতমুখী শিল্পায়নের প্রতি সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে। এসব উদ্যোগ উচ্চমানের বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও তরুণদের জন্য দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন অবকাঠামোতে অংশগ্রহণ সহজ করার উদ্যোগগুলোরও প্রশংসা করে জেবিসিসিআই। সংগঠনটির মতে, এসব সংস্কার বাণিজ্য কার্যক্রমকে আরও দক্ষ করবে এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের প্রাক্কালে এ বাজেট বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। উৎপাদন, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি ও সেবা খাতে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশ এখন একটি অনন্য সুযোগের মুখোমুখি। ইপিএ এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও জোরদার করবে।
তবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছে জেবিসিসিআই। সংগঠনটি বলেছে, নীতিগত ঘোষণার সফলতা নির্ভর করবে দ্রুত বাস্তবায়ন বিধিমালা জারি, স্পষ্ট নির্দেশিকা এবং মাঠপর্যায়ে একীভূত ব্যাখ্যার ওপর। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে পূর্বানুমানযোগ্য বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জেবিসিসিআই বলেছে, বাজেটের সফল বাস্তবায়নে সরকার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ব্যবসায়ী সংগঠন ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এতে বাস্তব সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত ও কার্যকর সমাধান করা সম্ভব হবে।
ইএইচটি/কেএসআর
What's Your Reaction?

