নীরবে বাড়ছে কোলোরেক্টাল ক্যানসার, সচেতনতার ঘাটতিতে দেরিতে শনাক্ত
বাংলাদেশে নীরবে বাড়ছে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের (কোলন বা মলাশয়ের ক্যানসার) ঝুঁকি। জীবনযাপনের পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম এবং সচেতনতার ঘাটতি, সব মিলিয়ে এই রোগ অনেক সময় ধরা পড়ে দেরিতে। অথচ শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সহজ এবং সফলতার হারও বেশি। এই প্রেক্ষাপটে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা নিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হালদার কুমার গোলাপের সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। ডা. হালদার জেনারেল, কোলোরেক্টাল, ব্রেস্ট ও ক্যানসার সার্জারিতে অভিজ্ঞ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারিতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। জাগো নিউজ: কোলোরেক্টাল ক্যানসার সম্পর্কে সহজভাবে যদি বলতেন, এটি কী এবং শরীরের কোন অংশে বেশি প্রভাব ফেলে? ডা. হালদার কুমার গোলাপ: কোলোরেক্টাল ক্যানসার বলতে আমরা সাধারণত বৃহদান্ত্র (কোলন) এবং মলদ্বারে (রেকটাম) হওয়া ক্যানসারকে বুঝি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি শুরু হয় ছোট ছোট পলিপ থেকে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। এই রোগটি ধীরে ধীরে বাড়ে, তাই নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা সম্ভব, এটাই সবচেয়ে বড় সুব
বাংলাদেশে নীরবে বাড়ছে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের (কোলন বা মলাশয়ের ক্যানসার) ঝুঁকি। জীবনযাপনের পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম এবং সচেতনতার ঘাটতি, সব মিলিয়ে এই রোগ অনেক সময় ধরা পড়ে দেরিতে। অথচ শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সহজ এবং সফলতার হারও বেশি।
এই প্রেক্ষাপটে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা নিয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হালদার কুমার গোলাপের সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। ডা. হালদার জেনারেল, কোলোরেক্টাল, ব্রেস্ট ও ক্যানসার সার্জারিতে অভিজ্ঞ এবং ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারিতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
জাগো নিউজ: কোলোরেক্টাল ক্যানসার সম্পর্কে সহজভাবে যদি বলতেন, এটি কী এবং শরীরের কোন অংশে বেশি প্রভাব ফেলে?
ডা. হালদার কুমার গোলাপ: কোলোরেক্টাল ক্যানসার বলতে আমরা সাধারণত বৃহদান্ত্র (কোলন) এবং মলদ্বারে (রেকটাম) হওয়া ক্যানসারকে বুঝি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি শুরু হয় ছোট ছোট পলিপ থেকে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। এই রোগটি ধীরে ধীরে বাড়ে, তাই নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা সম্ভব, এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা।
ছবি: সহকারী অধ্যাপক ডা. হালদার কুমার গোলাপ
জাগো নিউজ: আমাদের দেশে এই ক্যানসারের প্রবণতা কি সত্যিই বাড়ছে?
ডা. হালদার কুমার গোলাপ: হ্যাঁ, আগের তুলনায় এখন কোলোরেক্টাল ক্যানসারের রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে শহুরে জীবনে ফাস্টফুডের প্রতি ঝোঁক, কম ফাইবারযুক্ত খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এসব বড় কারণ। এছাড়া স্থূলতা ও ডায়াবেটিসও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
জাগো নিউজ: কী কী কারণে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে?
ডা. হালদার কুমার গোলাপ: কয়েকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। যেমন- অতিরিক্ত লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, কম শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ, ধূমপান ও অ্যালকোহল, স্থূলতা ও অলস জীবনযাপন, পারিবারিক ইতিহাস। এগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
জাগো নিউজ: প্রাথমিক পর্যায়ে কী লক্ষণগুলো লক্ষ্য করা উচিত?
ডা. হালদার কুমার গোলাপ: কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে, যেমন- মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, পেটের অস্বস্তি বা ব্যথা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা বা অ্যানিমিয়া। তবে অনেক সময় শুরুতে কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই শুধু লক্ষণের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন
বমি-ডায়রিয়া হালকাভাবে নেবেন না, হতে পারে ‘স্টমাক ফ্লু’
ভয় নয়, সময়মতো সার্জারি বাঁচাতে পারে জীবন
হামের প্রকোপ বাড়ছে, সতর্ক করলেন ডা. শামীমা ইয়াসমীন
জাগো নিউজ: অনেকেই দেরিতে চিকিৎসকের কাছে আসেন, কেন এমনটা হয়?
হালদার কুমার গোলাপ: মূলত সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক সংকোচ। অনেকে মলদ্বার সংক্রান্ত সমস্যাকে লজ্জার বিষয় মনে করেন, আবার কেউ কেউ ভয় পান। ফলে রোগটি যখন ধরা পড়ে, তখন তা অনেকটাই অগ্রসর অবস্থায় থাকে।
জাগো নিউজ: আগাম পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং কতটা জরুরি?
ডা. হালদার কুমার গোলাপ: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পর নিয়মিত কোলোনোস্কোপি বা অন্যান্য স্ক্রিনিং করা উচিত। তবে যদি পরিবারের কারও এই রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে ৪০ বছর বা তারও আগে থেকে পরীক্ষা শুরু করা ভালো।
জাগো নিউজ: কোলোরেক্টাল ক্যানস্যারের চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?
ডা. হালদার কুমার গোলাপ: চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের পর্যায়ের ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ে সার্জারির মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা যায়। পরবর্তী পর্যায়ে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়।
জাগো নিউজ: বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি কতটা সাহায্য করছে?
ডা. হালদার কুমার গোলাপ: আধুনিক প্রযুক্তি চিকিৎসাকে অনেক সহজ করেছে। ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে ছোট কাটা দিয়ে অপারেশন করা যায়, ফলে ব্যথা কম হয়, দ্রুত সুস্থ হওয়া যায় এবং হাসপাতালে থাকার সময়ও কম লাগে। এছাড়া উন্নত কেমোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপিও রোগীর জন্য উপকারী।
জাগো নিউজ: চিকিৎসার পর রোগীর কী ধরনের জীবনযাপন অনুসরণ করা উচিত?
ডা. হালদার কুমার গোলাপ: রোগীর সুস্থতার জন্য কিছু বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- আঁশযুক্ত খাবার ও শাকসবজি বেশি খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, নিয়মিত ফলোআপ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা। এসব মেনে চললে রোগ পুনরায় হওয়ার ঝুঁকি কমে।
ছবি: সহকারী অধ্যাপক ডা. হালদার কুমার গোলাপ
জাগো নিউজ: সাধারণ মানুষের জন্য আপনার কী পরামর্শ থাকবে?
ডা. হালদার কুমার গোলাপ: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা। যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলেই দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং এই রোগ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখে।
জাগো নিউজ: আপনার মূল্যবান সময়ের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ, সবশেষে আমাদের পাঠকদের জন্য যদি কোনো বার্তা দিতেন।
ডা. হালদার কুমার গোলাপ: আপনাকেও ধন্যবাদ। সবশেষে একটা কথাই বলবো, নিজের শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোকেও গুরুত্ব দিন, কারণ সেখান থেকেই শুরু হতে পারে বড় কোনো সংকেত।
জেএস/এমএমএআর
What's Your Reaction?