নৃত্যকলায় একুশে পদকের মনোনয়ন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনাসহ ৬ দাবি
২০২৬ সালে নৃত্যকলায় একুশে পদকের মনোনয়ন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করাসহ ছয় দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পীরা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবিগুলো জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পীদের পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি জানান নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক ফারহানা চৌধুরী বেবি। এসময় তিনি একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন। লিখিত বক্তব্যে ফারহানা চৌধুরী বেবি বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ২০২৬ সালে নৃত্যকলা বিষয়ে একুশে পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য। এটি বাংলাদেশের নৃত্যশিল্প ও নৃত্যশিল্পীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি এবং আমরা এই সম্মানকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করি। তবে নৃত্যকলায় কর্মক্ষেত্রে অবদানের জন্য যে নৃত্যশিল্পীকে একুশে পদক প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেই মনোনয়ন নিয়ে নৃত্যাঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, একুশে পদক বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও মুক্তচিন্তার চেতনার প্রতীক। যা আজীবন সাধনা, সুদীর্ঘ অবদান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনস্বীকার্য প্রভাবের স্বীকৃ
২০২৬ সালে নৃত্যকলায় একুশে পদকের মনোনয়ন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করাসহ ছয় দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পীরা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবিগুলো জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পীদের পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি জানান নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক ফারহানা চৌধুরী বেবি। এসময় তিনি একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে ফারহানা চৌধুরী বেবি বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ২০২৬ সালে নৃত্যকলা বিষয়ে একুশে পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য। এটি বাংলাদেশের নৃত্যশিল্প ও নৃত্যশিল্পীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি এবং আমরা এই সম্মানকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করি।
তবে নৃত্যকলায় কর্মক্ষেত্রে অবদানের জন্য যে নৃত্যশিল্পীকে একুশে পদক প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেই মনোনয়ন নিয়ে নৃত্যাঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, একুশে পদক বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও মুক্তচিন্তার চেতনার প্রতীক। যা আজীবন সাধনা, সুদীর্ঘ অবদান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনস্বীকার্য প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়। বিশেষ করে নৃত্যকলার মতো একটি গভীর, ঐতিহ্যবাহী ও সাধনাভিত্তিক শিল্পক্ষেত্রে এই সম্মান প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রত্যাশিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ২০২৬ সালে নৃত্যকলায় একুশে পদকের জন্য যে নামটি ঘোষিত হয়েছে, তার অভিজ্ঞতার পরিসর, বাংলাদেশে নৃত্যচর্চা ও নৃত্যশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি অবদান— এই বিষয়গুলো নিয়ে নৃত্যাঙ্গনের একটি বড় অংশের মধ্যে প্রশ্ন ও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
ফারহানা চৌধুরী বেবি বলেন, বাংলাদেশের নৃত্য ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে লোকনৃত্য, ধ্রুপদী নৃত্যের দেশীয় ধারার অভিযোজন, সমকালীন ও সৃজনশীল নৃত্যচর্চার ধারাবাহিক বিকাশের মাধ্যমে। অথচ উক্ত শিল্পীর নৃত্য চর্চা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের নৃত্যভূমিতে কী ধরনের মৌলিক, দীর্ঘস্থায়ী ও জাতীয়ভাবে প্রভাবশালী অবদান রাখা হয়েছে। যা একুশে পদকের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানের যোগ্যতা অর্জন করে, তা নিয়ে আমাদের মধ্যে স্পষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। এবং আমাদের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা যে অবদানের কথা তার ভেরিফাইড পেইজে উল্লেখ করেছেন, তা সমাজসেবা বা সামাজিক কল্যাণমূলক, এটা নৃত্যশিল্পে উল্লেখযোগ্য কোন অবদান রাখে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এমন অসংখ্য সিনিয়র নৃত্যশিল্পী রয়েছেন, যার কয়েক দশক ধরে নৃত্যচর্চা, নৃত্যশিক্ষা, গবেষণা, মঞ্চায়ন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। তাদের আজীবন অবদান থাকা সত্ত্বেও উপেক্ষিত হওয়া নৃত্যাঙ্গনের জন্য গভীরভাবে বেদনাদায়ক এবং হতাশাজনক।
বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পীরা, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে— একুশে পদক কখনোই বয়স, সাম্প্রতিকতা বা সীমিত সময়ের পরিচিতির ভিত্তিতে নয়। বরং দীর্ঘ সাধনা, জাতীয় সংস্কৃতিতে সুদৃঢ় অবদান এবং প্রজন্মকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরা প্রভৃতির ভিত্তিতে প্রদান করা উচিত।
দাবিগুলো হলো— একুশে পদক প্রদানের নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৬ সালে নৃত্যকলায় পদক প্রদান করা হয়েছে কি-না, তা যাচাই করা। ২০২৬ সালে নৃত্যকলায় একুশে পদকের মনোনয়ন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা। নৃত্যাঙ্গনের অভিজ্ঞ, প্রবীণ ও স্বীকৃত ব্যক্তিত্বদের মতামত গ্রহণ করা। একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী আমানুল হক, নৃত্যপরিচালক তামান্না রহমান, আনিসুল ইসলাম হিরুসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এনএস/এসএইচএস
What's Your Reaction?