নেতৃত্বহীন কিশোরগঞ্জ ছাত্রদল, নতুন কমিটির অপেক্ষা
দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব সংকটে থাকা কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি না থাকা, তৃণমূলের হতাশা এবং নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা- সব মিলিয়ে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে সংগঠনটিতে। প্রায় সাত বছর পর নতুন কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে আশার সঞ্চার হলেও তা স্থায়ী হয়নি। ফলে আবারও নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়ে সংগঠনটি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন নেতাকর্মীরা। গত বছরের ১৫ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করে। এতে শরীফুল ইসলাম নিশাদকে সভাপতি ও রেদুয়ান রহমান ওয়াকিউরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এছাড়া আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, রাফিউল ইসলাম নওসাদকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মো. জাকির হোসেন রাজিবকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। তবে ঘোষণার মাত্র ২০ দিনের মাথায়, ৪ জুন রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি স্থগিত করা হয়। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে আবারও নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। এতে করে সংগঠনের ভেতরে অনিশ্চয়তা ও হতাশা আরও বাড়ে। তৃ
দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব সংকটে থাকা কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি না থাকা, তৃণমূলের হতাশা এবং নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা- সব মিলিয়ে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে সংগঠনটিতে। প্রায় সাত বছর পর নতুন কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে আশার সঞ্চার হলেও তা স্থায়ী হয়নি। ফলে আবারও নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়ে সংগঠনটি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন নেতাকর্মীরা।
গত বছরের ১৫ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করে। এতে শরীফুল ইসলাম নিশাদকে সভাপতি ও রেদুয়ান রহমান ওয়াকিউরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এছাড়া আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, রাফিউল ইসলাম নওসাদকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মো. জাকির হোসেন রাজিবকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।
তবে ঘোষণার মাত্র ২০ দিনের মাথায়, ৪ জুন রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি স্থগিত করা হয়। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে আবারও নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। এতে করে সংগঠনের ভেতরে অনিশ্চয়তা ও হতাশা আরও বাড়ে।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নেতৃত্ব না থাকায় সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সংগঠিত অংশগ্রহণ কমে গেছে, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে না এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগেও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে।
তৃণমূলের কর্মী আশরাফুল ইসলাম পিয়াদ বলেন, এমন নেতাই আমরা চাই যারা আমাদের তৃণমূলের কর্মীদের কষ্ট বুঝে। যারা বিগত সময় আন্দোলন সংগ্রামের ভূমিকা রেখেছে রাজপথের সংগ্রামে নির্যাতিত হয়েছে তাদেরকে যাতে মূল্যায়িত করা হয় এমন প্রত্যাশাই করি।
আরেক কর্মী অনিক হাসান জান্নাতুল বলেন, সংগঠিত নেতৃত্ব না থাকলে একটি সংগঠন কখনোই এগোতে পারে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দিকনির্দেশনাহীন অবস্থায় আছি। দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি হলে আমরা মাঠে কাজ করার বেশি সুযোগ পাবো।
আরেক কর্মী আহসানুল হক তারেক বলেন, কমিটি ঘোষণার পর আমরা অনেক আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা স্থগিত হওয়ায় হতাশা আমাদের মাঝে নেমে আসে। এখন আবার নতুন করে আশা করছি, দ্রুতই ত্যাগীদের দিয়ে নতুন কমিটি হবে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী স্থগিত কমিটির সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলকে সক্রিয় করতে হলে শক্তিশালী ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। আমরা চাই যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করে একটি কার্যকর কমিটি গঠন করা হোক। দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ ও ক্লিন ইমেজ আমার রয়েছে। আশা করি দল আবারও আমাকে মূল্যায়ন করবে। কি জন্য আগের কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল সেটা কেন্দ্রই ভালো বলতে পারবে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী স্থগিত কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বলেন, দীর্ঘদিন নেতৃত্ব না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের তো প্রভাব পড়েছেই। নতুন কমিটি হলে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ হবে এবং সংগঠনের কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে। আমি আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি।
সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ও স্থগিত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হোক। সেই কমিটির মাধ্যমে জেলার সাংগঠনিক কাজ গতিশীল হবে। এখন ইউনিট কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন কমিটিতে ত্যাগীদের মূল্যায়ণ করা হবে সেই প্রত্যাশা করছি।
সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী স্থগিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন রাজিব বলেন, গত ১৬ বছরে সব আন্দোলনে সক্রিয় থেকে কাজ করেছি। এখন দলের কাছে চাওয়া ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে। যারা পদ পত্যাশী সবাই ত্যাগী। দ্রুত কমিটি হয়ে গেলে ছাত্রদল আরও চাঙা হয়ে উঠবে। দল ক্ষমতায় থাকায় তৃণমূলের কর্মীদের প্রত্যাশাও বেশি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় আসায় সংগঠনের ভেতরে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করছেন, এই সুযোগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি ঘোষণা করবে। সেই কমিটিতে যোগ্যরাই মূল্যায়িত হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৪ জুন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ৫৮ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছিল। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন কমিটি না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। সবশেষ কমিটি ঘোষণার উদ্যোগও স্থগিত হওয়ায় সেই সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
এ অবস্থায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, দ্রুত নেতৃত্ব সংকটের অবসান ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য কমিটি কঠনে করবে কেন্দ্র। এতে করে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল আবারও সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং তৃণমূলে নতুন উদ্যম ফিরে আসবে।
এসকে রাসেল/এনএইচআর/এএসএম
What's Your Reaction?