নেত্রকোনায় সাড়া ফেলেছে ৪২ মণের ‘ঈশা খাঁ’

নেত্রকোনায় এবার কোরবানি হাটে সাড়া ফেলেছে বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘ঈশা খাঁ’। তিন বছর আট মাস বয়সি ফ্রিজিয়ান জাতের কালো-সাদা রঙের ঈশা খাঁর (গরুটির) ওজন প্রায় সাড়ে ৪২ মণ। উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ ফুট। ঈশা খাঁ শেওড়া গাছের পাতা খেতে বেশি পছন্দ করে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরুটিকে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন মালিক খায়রুল ইসলাম। ভালো দাম পেলে আলোচনা সাপেক্ষে বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন। খায়রুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের ফচিকা গ্রামে। তিনি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। রোববার (২৪ মে) দুপুরে খায়রুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনার দুটি কাঁঠালগাছের মাঝে প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে বাধা আছে ‘ঈশা খাঁ’। দূরদূরান্ত থেকে আসা উৎসুক মানুষ এবং ক্রেতারা গরুটি দেখছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। স্থানীয় লোকজন ও খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরুটির জন্ম খায়রুল ইসলামের খামারেই। জন্মের পর থেকে মায়ের দুধ পান করানোর পাশাপাশি দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হয়। নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যায় বাড়তে থাকে আকৃতি। মাত্র দুই মাস বয়সেই গরুটির চলাফেরায় আলাদা আভিজাত্য দেখে নাম র

নেত্রকোনায় সাড়া ফেলেছে ৪২ মণের ‘ঈশা খাঁ’

নেত্রকোনায় এবার কোরবানি হাটে সাড়া ফেলেছে বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘ঈশা খাঁ’। তিন বছর আট মাস বয়সি ফ্রিজিয়ান জাতের কালো-সাদা রঙের ঈশা খাঁর (গরুটির) ওজন প্রায় সাড়ে ৪২ মণ। উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ ফুট।

ঈশা খাঁ শেওড়া গাছের পাতা খেতে বেশি পছন্দ করে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গরুটিকে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন মালিক খায়রুল ইসলাম। ভালো দাম পেলে আলোচনা সাপেক্ষে বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন।

খায়রুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের ফচিকা গ্রামে। তিনি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে খায়রুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনার দুটি কাঁঠালগাছের মাঝে প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে বাধা আছে ‘ঈশা খাঁ’। দূরদূরান্ত থেকে আসা উৎসুক মানুষ এবং ক্রেতারা গরুটি দেখছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন।

স্থানীয় লোকজন ও খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরুটির জন্ম খায়রুল ইসলামের খামারেই। জন্মের পর থেকে মায়ের দুধ পান করানোর পাশাপাশি দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হয়। নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যায় বাড়তে থাকে আকৃতি। মাত্র দুই মাস বয়সেই গরুটির চলাফেরায় আলাদা আভিজাত্য দেখে নাম রাখা হয় ‘ঈশা খাঁ’।

গত বছর কয়েকজন ক্রেতা গরুটির দাম ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছিলেন। কিন্তু মায়ার কারণে সেটি বিক্রি করেননি খায়রুল ইসলাম। এবার কোরবানিতে ঈশা খাঁকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

খায়রুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে ও দুই মেয়ের পাশাপাশি গরুটিকেও নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি। রাতে ঘুমানোর আগে গরুটিকে না দেখে ঘুম হতো না। গরুটির খাদ্য তালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, খড়, কলা, গম ও ধানের ভুসি, খইল, খুদে ভাত, শাকসবজি ও বিভিন্ন গাছের লতাপাতা। তবে ঈশা খাঁর সবচেয়ে পছন্দের খাবার শেওড়াগাছের পাতা।

খাইরুল ইসলাম বলেন, শান্ত স্বভাবের গরুটিকে সব সময় বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন গোসল করাতে হয়। সব মিলে প্রতিদিন প্রায় এক মণের মতো খাবার প্রয়োজন হয়। বর্তমানে গরুটির ওজন সাড়ে ৪২ মণ। ছবি ও ভিডিওতে গরুটির আয়তন ছোট মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক বড় আকৃতির। ভালো ক্রেতা পেলে আলোচনা সাপেক্ষে গরুটি এখন বিক্রি করে দেব।

নেত্রকোনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে গরুটিকে খামারি খাইরুল ইসলাম লালন পালন করছেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য খাইয়ে গরুটি এখন বিশাল আকার ধারণ করেছে। মনে হয় জেলায় এটি সবচেয়ে বড় গরু। গরুটির ওজন ১ হাজার ৬০০ কেজির ওপরে। এ ধরনের গরু তৈরিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এইচ এম কামাল/এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow