স্বাভাবিক সময়ে হলে সিরিজটি নিঃসন্দেহে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে হতো। প্রধান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার হাতে বানানো সেই চিরচেনা ঠেলাগাড়ির মতো ধীরগতির ও হাঁটু-পেট সমান উচ্চতার পিচে হতো নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
কিন্তু সময়ের প্রবাহতায় পরিস্থিতি পাল্টেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশও হোম অব ক্রিকেটের সেই ‘টিপিক্যাল’ উইকেটে খেলতে চাচ্ছে না। সেই স্লো ও লো পিচে জিতে কোনো লাভ নেই। ভালো ও স্পোর্টিং উইকেটে গিয়ে উল্টো নাকানি চুবানি খেতে হয়।
তাই বাংলাদেশও ধীর গতির, নিচু বাউন্সি ও স্পিন সহায়ক পিচে না খেলে ভালো উইকেটে খেলার কথা ভাবছে। যে কারণে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সিরিজটা সিলেটের ‘স্পোর্টিং’ উইকেটে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সচেতন ক্রিকেট অনুরাগীদের সবাই বিসিবির এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। এটাকে সময়োচিত ও দূরদর্শী চিন্তা বলেই অভিহিত করা হচ্ছে।
ভক্তদের কথা, অতীতে বহুবার ধীরগতির ও নিচু পিচে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মতো পরাশক্তিকে হারিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এমন বড় দলকে হারানোর পরও আন্তর্জাতিক আসরে ভালো উইকেটে গিয়ে উল্টো মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে।
বাংলাদেশের ভাবনা, আগেভাগেই ঘরের মাঠে ভালো উইকেটে খেলার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। তাতে জায়গা মতো ভালো খেলার সম্ভাবনাও থাকবে বেশি।
বহুবার শেরে বাংলার টিপিক্যাল পিচে খেলে বড় আসরে মুখ থুবড়ে পড়ার নজির আছে টাইগারদের। ব্যাটিং সহায়ক আর স্পোর্টিং পিচে খেলে অভ্যস্ত দলগুলো বাংলাদেশের ধীরগতির, নিচু ও স্পিন সহায়ক পিচে এসে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারে না। পারার কথাও না। অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো দলও এ ধরনের উইকেটে এসে বাংলাদেশের কাছে খাবি খেয়েছে।
এই তো সেদিন এই কন্ডিশনে পারেনি পাকিস্তানও। ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দিচ্ছে, বাংলাদেশ মিরপুরের উইকেটে ভালো খেলে। ধীরগতির, নিচু ও খানিক টার্নিং পিচ টাইগারদের শক্তি ও সামর্থ্যের সঙ্গে মানানসই, বেশি কার্যকর। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বহুবার বাংলাদেশ শেরে বাংলার পিচকেই বেছে নিয়ে সাফল্যের মুখ দেখেছে।
মিরপুরে খেলা হলে নেদারল্যান্ডসের অবস্থা কী হতো, তা সহজেই অনুমেয়। তুলনামুলক ফার্স্ট ও বাউন্সি ট্র্যাকে খেলে অভ্যস্ত ডাচদের শেরে বাংলার ট্র্যাক রেকর্ডও ভালো নয়। এ ধরনের পিচে ডাচদের ভালো খেলার কথাও না।
তবে দেরিতে হলেও এবার এশিয়া কাপের আগে বাংলাদেশ পুরোনো অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসেছে। ঘরের মাঠে তুলনামুলক ভালো পিচে খেলার অভ্যাস গড়ার কথা ভাবছে। তাই এবারের সিরিজ সিলেটে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
ধারণা করা হচ্ছে, এবার সিলেটে খুব ভালো উইকেটে খেলা হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ সফরে এসে প্রথমবারের মতো ডাচরা পেতে যাচ্ছে ‘ভালো পিচে’ খেলার সুযোগ।
এই পিচে নেদারল্যান্ডসের যতটা ভালো খেলার সম্ভাবনা থাকবে, বাংলাদেশেরও সেই সম্ভাবনা থাকবে?
পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ তিন ম্যাচের সিরিজে ধীর গতির পিচে পরপর দুই ম্যাচ জিতলেও তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং অনুকূল কন্ডিশনে নেমেই খারাপ পারফরম্যান্স করেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের দেওয়া ১৭৮ রানের জবাবে ১০৪ রানে অলআউট হয়েছিল লিটনের দল।
এখন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও যদি ভালো উইকেটে খেলা হয়, তাহলে কী হবে? লিটন দাসের দল কি আগের মতোই খারাপ খেলবে?
সেদিক বিবেচনায় ভালো উইকেটই হবে টাইগারদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তখন প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস নয়; টাইগারদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াবে ‘ভালো উইকেট’।
সিরিজ শুরুর আগেরদিন (২৮ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটনও নেদাল্যান্ডসে শক্তি-সামর্থ্য অপকটে স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডসও ভালো দল। হয়তো তারা এই কন্ডিশনে (শেরে বাংলার উইকেটে) খুব একটা খেলে না। কিন্তু ভালো উইকেটে ডাচরা ভালো ক্রিকেট খেলে অভ্যস্ত।’
অধিনায়কের এ কথা বলার কারণ, টাইগারদের যে ভালো পিচে ভালো খেলার রেকর্ড বড্ড কম। এবার কি সেই রেকর্ড ভেঙে ভালো উইকেটে খেলতে পারবে লিটন-মোস্তাফিজরা?
এআরবি/এমএইচ/এমএস