নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে রাতভর নির্যাতনের শিকার এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট দিন পর মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত যুবককে গত আট দিন আগে সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার কয়েকজন চোর সন্দেহে আটক করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর নির্যাতন করেন। পরে ২৫ জুন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নিহত মানসিক প্রতিবন্ধী ওই যুবকের নাম মো. আনোয়ার হোসেন (৩২)। তিনি সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পর বাঁশগ্রাম নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আনোয়ার হোসেন মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। গত বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৯ টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদ

নড়াইলে চোর সন্দেহে নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে রাতভর নির্যাতনের শিকার এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় আট দিন পর মারা গেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত যুবককে গত আট দিন আগে সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার কয়েকজন চোর সন্দেহে আটক করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর নির্যাতন করেন। পরে ২৫ জুন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

নিহত মানসিক প্রতিবন্ধী ওই যুবকের নাম মো. আনোয়ার হোসেন (৩২)। তিনি সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পর বাঁশগ্রাম নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আনোয়ার হোসেন মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। গত বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৯ টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন সকালে প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া নামে একজন তাদের বাড়িতে সংবাদ পাঠায় আনোয়ার গুরুতর আহত অবস্থায় নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে প্রসেনজিৎের বাড়ির সামনে একটি গাছের সাথে বেঁধে সারা রাত মারধর করে। এর একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের সৃষ্টি হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

পরেদিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বিষয়টি পুলিশকে জানালে নড়াইল সদর থানার এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় গত সোমবার (২৯ জুন) নিহতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন নড়াইল সদর থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। এজাহারভুক্ত অভিযুক্তরা হলেন- সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার নিভাস বিশ্বাসের ছেলে প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, পলান বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ বিশ্বাস, অনাধি বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে আকাশ বিশ্বাস ও পরান বিশ্বাসের ছেলে হৃদয় বিশ্বাস।

আহতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন বলেন, “আমার ছোট ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। সেই সুযোগে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে নির্মম ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। আমি জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

এ ঘটনায় পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow