নড়াইলে টাকা না পেয়ে ঘরের টিন খুলে নিল পাওনাদার

নড়াইলে পাওনা টাকা না পেয়ে জাফর সিকদারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের চালার টিন, বেড়া, রান্না ঘরের খুঁটি খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হয়। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রুখালী গ্রামের জাফর সিকদারের ছেলে জাহিদ সিকদার একই গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ২ হাজার, ৪ হাজার, ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ধার নেন। পাওনাদাররা টাকা ফেরত চাইলে তিনি সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার (১৫ এপ্রিল) অহিদ বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর বিশ্বাস,কাদের বিশ্বাসের ছেলে মিরাজ বিশ্বাস, রোকন বিশ্বাসের ছেলে মিকাইল বিশ্বাস, আকিদুল বিশ্বাসের ছেলে ইয়াসিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে এক দল জাহিদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের চালার টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায়। পরের দিন ২য় দফায় আবার হামলা চালিয়ে রান্না ঘরের চালা, খুঁটি ও বসতঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যায় তারা। জাহিদ সিকদারের বাবা জাফর সিকদার বলেন, রুখালী গ্রামের কিছু সন্ত্রা

নড়াইলে টাকা না পেয়ে ঘরের টিন খুলে নিল পাওনাদার

নড়াইলে পাওনা টাকা না পেয়ে জাফর সিকদারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের চালার টিন, বেড়া, রান্না ঘরের খুঁটি খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হয়।


ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রুখালী গ্রামের জাফর সিকদারের ছেলে জাহিদ সিকদার একই গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ২ হাজার, ৪ হাজার, ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ধার নেন। পাওনাদাররা টাকা ফেরত চাইলে তিনি সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার (১৫ এপ্রিল) অহিদ বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর বিশ্বাস,কাদের বিশ্বাসের ছেলে মিরাজ বিশ্বাস, রোকন বিশ্বাসের ছেলে মিকাইল বিশ্বাস, আকিদুল বিশ্বাসের ছেলে ইয়াসিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে এক দল জাহিদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের চালার টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায়। পরের দিন ২য় দফায় আবার হামলা চালিয়ে রান্না ঘরের চালা, খুঁটি ও বসতঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যায় তারা।

জাহিদ সিকদারের বাবা জাফর সিকদার বলেন, রুখালী গ্রামের কিছু সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বসতঘর, রান্না ঘর, গোয়ালঘরের টিন খুলে নিয়ে গেছে। এমনকি ঘরে থাকা সব মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করি। 

ঘরের টিন ও আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় ঘরটির ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন জাহিদের দাদি খাদিজা বেগম (৮০)। হামলাকারীদের পা জড়িয়ে ধরে আকুতি মিনতি করে নিজের ঘর রক্ষা করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয় দাদির। 

খাদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তারা হঠাৎ করে এসে ঘরের টিন খুলতে থাকে। ভ্যানে করে ঘরের টিনগুলো নিয়ে যায়। এ সময় আমি লাঠি ভর দিয়ে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পে যাই। আমি বুড়ো মানুষ, আমার কথায় পুলিশ আসেনি। একজন পুলিশ আসলেও আমার ঘর তারা ভাঙতে পারত না।

অভিযুক্তদের একজন মিকাইল বিশ্বাস বলেন, জাহিদ একজন চিটার প্রকৃতির লোক। তার কাছে আমি টাকা পেতাম। টাকা বিষয় না, একসঙ্গে চলার সুবাদে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তাকে ব্যবহার করতে দি। পরে জানতে পারি আমার ফোন সে অন্য লোকের নিকট বন্ধক রেখেছে। এখন ফোন না দিয়ে সে পালিয়েছে। সে যুব সমাজ নষ্ট করে ফেলছে। ও যাতে আর বাড়ি না আসতে পারে তাই তার বাড়ি, ঘরের সব খুলে নিয়ে বিক্রি করে আমার ফোন আমি ছাড়ায় নিয়ে এসেছি। 


মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ, উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস বলেন, এ বিষয়ে আমার নিকট কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। আমার কাছে কেউ আসেনি। ভুক্তভোগী পরিবার আসলে অবশ্যই তাকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, ঘরের চালা খুলে নিয়ে গেছে এমন কোনো অভিযোগ থানায় করেনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow