পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পে হচ্ছে ১১৩ মেগাওয়াটের দুই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পে ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদী প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং লবণাক্ততা হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পটি জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প জাতীয় জিডিপিতে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ অবদান রাখবে এবং বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ আর্থিক সুবিধা বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।   রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীর ওপর ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকছে: দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র : একটি থেকে ৭৬.৪ মেগাওয়াট এবং অন্যটি থেকে ৩৬.৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। অন্যান্য সুবিধা : ব্যারেজে ৭৮টি স্

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পে হচ্ছে ১১৩ মেগাওয়াটের দুই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পে ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদী প্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং লবণাক্ততা হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পটি জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প জাতীয় জিডিপিতে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ অবদান রাখবে এবং বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ আর্থিক সুবিধা বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।   রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীর ওপর ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকছে: দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র : একটি থেকে ৭৬.৪ মেগাওয়াট এবং অন্যটি থেকে ৩৬.৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। অন্যান্য সুবিধা : ব্যারেজে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, ২টি ফিশ পাস এবং নেভিগেশন লক থাকবে। পানি সংরক্ষণ : প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। বিশেষ করে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। প্রকল্পের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭০-এর দশকে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা-গঙ্গা নদীর পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান নদীগুলো শুকিয়ে যেতে শুরু করে এবং দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়, যা জীববৈচিত্র্য ও সুন্দরবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট নিরসনে এবং মিঠাপানির প্রবাহ পুনরুদ্ধারে প্রকল্পটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাস্তবায়ন করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow