পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচ থেকে কাটা হচ্ছে মাটি, স্থানীয়দের উদ্বেগ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে, মাটি কাটার ফলে সতুটি হুমকির মধ্যে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসন বলছে, অনুমতি নিয়েই মাটি কাটা হচ্ছে। সেই সঙ্গে যে পরিমাণ কাটা হচ্ছে এতে পিলারের কোনো ঝুঁকিতে পড়বে না। স্থানীয়রা জানান, মাটি কাটার কারণে পদ্মা সেতু হুমকির মুখে পড়ছে। মাটি কাটার জন্য অনুমতি আছে এমন একটি কাগজ দেখিয়ে পিলারের গোড়ার মাটি ইট ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম রবিন নামে একজন বলেন, মাটি কাটার কারণে সেতুর পিলারগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা চাই; এখানে যেন মাটি কাটা বন্ধ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা শাহেদ নামে একজন বলেন, কিছু অসাধু লোক এই মাটি কাটছে। আমরা চাই না এমন করে মাটি কাটা হোক। আমরা এলাকাবাসীর স্বাক্ষর নিয়ে বিভিন্ন মহলে গিয়েছি। কিন্তু মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। এ বিষয়ে ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান জানান, ইউএনওর নির্দেশে সেখানে গিয়েছিলাম। সেতুটি রেলওয়ের হলেও প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছে সেনা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে, মাটি কাটার ফলে সতুটি হুমকির মধ্যে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসন বলছে, অনুমতি নিয়েই মাটি কাটা হচ্ছে। সেই সঙ্গে যে পরিমাণ কাটা হচ্ছে এতে পিলারের কোনো ঝুঁকিতে পড়বে না।
স্থানীয়রা জানান, মাটি কাটার কারণে পদ্মা সেতু হুমকির মুখে পড়ছে। মাটি কাটার জন্য অনুমতি আছে এমন একটি কাগজ দেখিয়ে পিলারের গোড়ার মাটি ইট ভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম রবিন নামে একজন বলেন, মাটি কাটার কারণে সেতুর পিলারগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা চাই; এখানে যেন মাটি কাটা বন্ধ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহেদ নামে একজন বলেন, কিছু অসাধু লোক এই মাটি কাটছে। আমরা চাই না এমন করে মাটি কাটা হোক। আমরা এলাকাবাসীর স্বাক্ষর নিয়ে বিভিন্ন মহলে গিয়েছি। কিন্তু মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান জানান, ইউএনওর নির্দেশে সেখানে গিয়েছিলাম। সেতুটি রেলওয়ের হলেও প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনী। যারা মাটি কেটে নিচ্ছে তারা জানিয়েছেন- প্রকল্পের নির্মাণকারী সংস্থা চায়না কোম্পানির থেকে মাটি কাটার ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছেন তারা, এটি এই প্রকল্পের কাজেরই অংশ। যেহেতু এটি নিয়ে একটি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তাই আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ফতুল্লার এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ছিলাম। সেখানে রেলওয়ের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। যারা মাটি কাটছেন তারা একটি কাগজ দেখিয়েছেন তাদের নাকি মাটি কাটার অনুমতি রয়েছে। এ নিয়ে তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদেরকে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে কখনো এমন মাটি কাটার অনুমোদন দেয় না। রেলওয়ে এমন কোনো কাজের অনুমতি দেয়নি। যারা মাটি কাটছে তারা যদি কোনো অনুমোদন দেখিয়ে থাকে তাহলে সেটা হয়তো ভুয়া নয়তো কাগজপত্র যাচাই করে দেখতে হবে।
উপপরিচালক আমিনুল করিম বলেন, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। পিলার নম্বর ৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই জায়গাটি আগে জলাশয় ছিল। চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি কন্ট্রাক্টর মাটি বা বালু দিয়ে ভরাট করে ভায়াডাক্ট নির্মাণ কাজ শেষ করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ওই অঞ্চলে আগের মতো জলাশয় খনন করা হচ্ছিল। এটা এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশবান্ধব নির্দেশিকা।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে যা মোটেও ঠিক নয়। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের লাভের জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। এখানে জলাশয় থাকবে সেই অনুসারে নকশা করা হয়েছে এবং কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ভূমির গভীরতা বিবেচনায় স্ট্রাকচারাল ডিজাইন অনুসারে পাইল, পাইল কাপের ভিত্তির উপর অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে যা ভায়াডাক্টাকে কোন প্রকার ক্ষতি করবে না।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এনএইচআর/জেআইএম
What's Your Reaction?