পদ্মায় দেখা মিলল কুমির, আতঙ্কে বাসিন্দারা

রাজবাড়ীর জেলা সদরের উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদীতে বিশাল আকৃতির একটি কুমিরের উপস্থিতিতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। গত কয়েকদিন ধরে নদীতে মাঝে মধ্যেই কুমিরটি ভেসে উঠতে দেখা যাওয়ায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরের পর থেকে বরাট ইউনিয়নের ২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে কুমিরটি একাধিকবার ভেসে উঠতে দেখা যায়। এর আগেও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি কুমিরটি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। হঠাৎ কুমিরের উপস্থিতিতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীরা জানান, নদী তীরবর্তী ওই এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ঘনবসতি রয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ নদীতে গোসল করেন এবং অনেকে কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য কাজে নদীর পানি ব্যবহার করেন। কুমির দেখা যাওয়ার পর থেকে অনেকে ভয়ে নদীতে নামছেন না। তাদের দাবি, দ্রুত কুমিরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে নদীতে কুমিরের দেখা না মিললেও, নদীর পাড়ে স্থানীয় ও আশপাশ এ

পদ্মায় দেখা মিলল কুমির, আতঙ্কে বাসিন্দারা
রাজবাড়ীর জেলা সদরের উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মা নদীতে বিশাল আকৃতির একটি কুমিরের উপস্থিতিতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। গত কয়েকদিন ধরে নদীতে মাঝে মধ্যেই কুমিরটি ভেসে উঠতে দেখা যাওয়ায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরের পর থেকে বরাট ইউনিয়নের ২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে কুমিরটি একাধিকবার ভেসে উঠতে দেখা যায়। এর আগেও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি কুমিরটি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। হঠাৎ কুমিরের উপস্থিতিতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীরা জানান, নদী তীরবর্তী ওই এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ঘনবসতি রয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ নদীতে গোসল করেন এবং অনেকে কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য কাজে নদীর পানি ব্যবহার করেন। কুমির দেখা যাওয়ার পর থেকে অনেকে ভয়ে নদীতে নামছেন না। তাদের দাবি, দ্রুত কুমিরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে নদীতে কুমিরের দেখা না মিললেও, নদীর পাড়ে স্থানীয় ও আশপাশ এলাকার মানুষ ভিড় করেন কুমিরটি এক নজর দেখার আশায়। এতে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা এলাকায় উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সচেতন করছেন। পাশাপাশি খুলনা বন্যপ্রাণী ইউনিটকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। নদীর পাড়ে মাইকিং, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন ও লাল কাপড় টানানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ২৮ নম্বর উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে কুমির দেখার খবর ছড়িয়ে পড়লে মানুষ বিদ্যালয়ের সামনে নদীর পাড়ে ভিড় করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক সময় নদীতে গোসল করে থাকে। কুমিরের উপস্থিতিতে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদত হোসেন জানান, তিন দিন ধরে মাঝেমধ্যে কুমিরটি ভেসে উঠছে। বুধবার সকালেও কুমির দেখা গেছে। এক গৃহবধূ নদীতে কাপড় ধোয়ার সময় কুমির দেখে চিৎকার করে দৌড়ে পালিয়ে যান। এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা বন কর্মকর্তা খন্দকার আজিজুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আমরা পদ্মা নদীতে কুমির দেখার খবর পায়। জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। কুমিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বন বিভাগের সদস্যরা কয়েকদিন পাহারায় থাকবেন। এরপর কুমিরটিকে কীভাবে নিরাপদে স্থানান্তর করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুলনা বন্যপ্রাণী ইউনিটকেও জানানো হয়েছে। রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপমা রায় বলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার পর বিষয়টি জানতে পেরেছি। তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন উড়াকান্দা এলাকায় কেউ আপাতত নদীতে না নামে। নদীর পাড়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও লাল কাপড় টানানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকেও ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী কুমিরটিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে-কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow