পরমাণু ইস্যুতে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত
পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রথম দফায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মার্কিন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে শনিবার (২০ জুন) সংবাদ প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। ওই কর্মকর্তা জানান, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জ্যারেড কুশনার এর মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। মূলত শুক্রবার (১৯ জুন) আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে তা স্থগিত করা হয়। নতুন করে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার (২০ জুন) সুইজারল্যান্ড সফরে যেতে পারেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে, পরিস্থিতির পরিবর্তনে এ পরিকল্পনায় সংশোধন আসতে পারে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একটি সূত্রের দাবি, শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ক্ষেত্রে সফলতা কিংবা ব্যর্থতা নির্ধারণকারী বিষয়।
পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রথম দফায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মার্কিন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে শনিবার (২০ জুন) সংবাদ প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
ওই কর্মকর্তা জানান, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জ্যারেড কুশনার এর মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন।
মূলত শুক্রবার (১৯ জুন) আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে তা স্থগিত করা হয়। নতুন করে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার (২০ জুন) সুইজারল্যান্ড সফরে যেতে পারেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে, পরিস্থিতির পরিবর্তনে এ পরিকল্পনায় সংশোধন আসতে পারে।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একটি সূত্রের দাবি, শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জানিয়েছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ক্ষেত্রে সফলতা কিংবা ব্যর্থতা নির্ধারণকারী বিষয়।
আরেকটি সূত্র জানায়, সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার আগে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে দেখতে চায় ইরান।
পর্দার আড়ালে এই সমঝোতার কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। তিনি শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতে শেষ মুহূর্তে সফর স্থগিত করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে, সপ্তাহান্তে শুরু হতে যাওয়া এ আলোচনায় তিনি ফের যোগ দেবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টক রিসোর্ট এলাকায় প্রাথমিক বৈঠকে বসতে পারে। সেখানে দুই দেশের মধ্যে অর্জিত সমঝোতা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মহুর্তে চুক্তি সই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জেনেভায় তার সফর স্থগিত করছেন বলে বিবিসি উর্দুকে জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।
প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।
সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহের ১৪ জুন একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সম্মতিতে পৌঁছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস-এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা সকল ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
এনএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯১২ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।
এদিকে, দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৬৯৩ জনের বেশি ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন আইডিএফ-এর সদস্য এবং ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক।
এছাড়া ইউএস সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাত চলাকালে ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
কেএম
What's Your Reaction?