পরমাণু প্রযুক্তিতে প্রথম ব্লাস্ট-প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল গমের উদ্ভাবন

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করে গমের ব্লাস্ট রোগ-প্রতিরোধী এবং উচ্চফলনশীল নতুন মিউট্যান্ট লাইন উদ্ভাবন করেছেন একদল গবেষক। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন উদ্ভাবিত গমের এই লাইনগুলো ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি প্রচলিত এলিট জাতের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম। গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম। রোববার (১৯ জুলাই) জাগো নিউজকে তিনি গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ড. তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালে দেশে প্রথমবারের মতো গমের ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সে সময় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির গম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেক এলাকায় শতভাগ পর্যন্ত ফলনহানি ঘটে। এরপর থেকেই ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গম উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষণা শুরু হয়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও)-এর অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। এ গবেষণা

পরমাণু প্রযুক্তিতে প্রথম ব্লাস্ট-প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল গমের উদ্ভাবন

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করে গমের ব্লাস্ট রোগ-প্রতিরোধী এবং উচ্চফলনশীল নতুন মিউট্যান্ট লাইন উদ্ভাবন করেছেন একদল গবেষক। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন উদ্ভাবিত গমের এই লাইনগুলো ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি প্রচলিত এলিট জাতের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম।

রোববার (১৯ জুলাই) জাগো নিউজকে তিনি গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ড. তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালে দেশে প্রথমবারের মতো গমের ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সে সময় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির গম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেক এলাকায় শতভাগ পর্যন্ত ফলনহানি ঘটে। এরপর থেকেই ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গম উদ্ভাবনের লক্ষ্যে গবেষণা শুরু হয়।

পরমাণু প্রযুক্তিতে প্রথম ব্লাস্ট-প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল গমের উদ্ভাবন

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও)-এর অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। এ গবেষণায় তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের পিএইচডি ফেলো ড. হোসেন সোহরাওয়ার্দী যুক্ত ছিলেন।

গবেষণা সম্পর্কে তিনি বলেন, গবেষণা পদ্ধতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয় মিউটেশন ব্রিডিং, অর্থাৎ গামা রশ্মি ও এক্স-রে দিয়ে বীজের জিনগত পরিবর্তন ঘটানো। এছাড়া চীনের বেইজিংয়ের ইনস্টিটিউট অব ক্রপ সায়েন্সের সঙ্গে যৌথভাবে লানঝৌ-এর ল্যাবে গমের বীজে প্রয়োগ করা হয় উচ্চ-শক্তির কার্বন আয়ন বিম। বাংলাদেশে গম নিয়ে এ ধরনের তিন রকম পারমাণবিক পদ্ধতি একসঙ্গে ব্যবহার আগে কখনো হয়নি।

ব্লাস্ট প্রতিরোধী গমের মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ সম্পর্কে তিনি বলেন, গবেষণাগার পেরিয়ে গম ব্লাস্টের সবচেয়ে বড় 'হটস্পট' বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা মেহেরপুরের মাঠে যখন এই নতুন গম উদ্ভিদের পরীক্ষা করা হলো, তখন ফলাফল দেখে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি। আমাদের উদ্ভাবিত অষ্টম প্রজন্মের (M_8) এমন কিছু সমজাতীয় মিউট্যান্ট লাইন, যা ব্লাস্ট রোগকে পাত্তাই দেয় না। এই নতুন গম শুধু যে রোগ প্রতিরোধে শতভাগ সফল তা-ই নয়, মাঠের সাধারণ এলিট জাতের তুলনায় এর ফলনও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি, প্রতিটি গম উদ্ভিদে কার্যকর কুশি বা টিলারের সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই অভাবনীয় ফলন সম্ভব হচ্ছে।

ড. তোফাজ্জল ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশে ব্লাস্ট-প্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল গমের জাত উদ্ভাবনে আয়ন বিম ও এক্স-রে ব্যবহার এবারই প্রথম। এই মিউট্যান্ট লাইনগুলো এখন নতুন জাত হিসেবে ছাড়করণের জন্য মাঠ পর্যায়ে আঞ্চলিক ট্রায়ালের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। এটা সফল হলে কৃষকদের ফলন বিপর্যয় ঠেকানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও অনেকটা নিশ্চিত হবে।

কেএইচকে/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow