পরীক্ষার মাঝে বাবা হারানো সেই ঋতু পেল জিপিএ-৫
বাবা তখন হাসপাতালে মৃত। বাড়িতে চলছে মরদেহ আনার প্রস্তুতি। অথচ কিছুই জানত না মেধাবী শিক্ষার্থী ঋতু খাতুন। বাবার মৃত্যুর খবর গোপন রেখেই তাকে পাঠানো হয় এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে। ‘বাবা আর নেই’ এই নির্মম সত্যটি জানতে পারে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে। বাবার শেষবারের মতো মুখ দেখে বিদায় জানানোর পর বুকভরা শোক নিয়েই আবার বসতে হয় পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। সেই কঠিন সময়কে জয় করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে চৌগাছার ঋতু খাতুন। ঋতু যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফলে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখলেও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে এখন তার উচ্চশিক্ষা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। ঋতু উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির দুই মেয়ের মধ্যে ছোট। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বাবাই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবা কবির হোসেনকে বাড়িতে রেখেই এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালে তার শ
বাবা তখন হাসপাতালে মৃত। বাড়িতে চলছে মরদেহ আনার প্রস্তুতি। অথচ কিছুই জানত না মেধাবী শিক্ষার্থী ঋতু খাতুন। বাবার মৃত্যুর খবর গোপন রেখেই তাকে পাঠানো হয় এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে। ‘বাবা আর নেই’ এই নির্মম সত্যটি জানতে পারে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে। বাবার শেষবারের মতো মুখ দেখে বিদায় জানানোর পর বুকভরা শোক নিয়েই আবার বসতে হয় পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। সেই কঠিন সময়কে জয় করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে চৌগাছার ঋতু খাতুন।
ঋতু যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফলে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখলেও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে এখন তার উচ্চশিক্ষা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
ঋতু উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির দুই মেয়ের মধ্যে ছোট। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বাবাই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবা কবির হোসেনকে বাড়িতে রেখেই এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত ১০ মে ঋতুর ইতিহাস পরীক্ষার দিন ভোররাতে হাসপাতালে মারা যান তার বাবা কবির হোসেন। সকালেই মরদেহ বাড়িতে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু মেয়ের পরীক্ষা যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য পরিবারের সদস্যরা ঋতুকে বাবার মৃত্যুর খবর জানাননি।
হাকিমপুর গ্রাম থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও ঋতু পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে যায়। সে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর তার বাবার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে ঋতু জানতে পারে, তার বাবা আর পৃথিবীতে নেই। বাবার শেষবারের মতো মুখ দেখে বিদায় জানানোর পরও থেমে থাকেনি তার পড়াশোনা। বুকের ভেতর বাবাকে হারানোর কষ্ট নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে সে।
বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চায় ঋতু।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ঋতু বলে, ‘বাবা বেঁচে থাকলে আমার রেজাল্ট দেখে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। বাবাকে হারানোর পর এখন আমার উচ্চশিক্ষা নিয়ে শঙ্কা হচ্ছে।’
হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহানাজ পারভীন বলেন, ঋতু অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। সে ভালো ফল করবে—এমন প্রত্যাশা শিক্ষকদের ছিল। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেও ঋতু নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। এসব প্রতিকূলতা তার ফলাফলে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘ঋতু ভবিষ্যতেও ভালো করবে বলে আমরা আশাবাদী। বাবাহারা এই মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সেজন্য সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের তার পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। শিক্ষা বৃত্তি বা আর্থিক সহযোগিতা পেলে ঋতুর উচ্চশিক্ষার পথ সহজ হবে।’
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম বলেন, ঋতুর জিপিএ-৫ অর্জনের খবর অত্যন্ত আনন্দের। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে থাকবে। তার উচ্চশিক্ষার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।
What's Your Reaction?