দীর্ঘ এক মাস পর পর্যটকে টইটম্বুর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতে ভিড় জমিয়েছেন হাজারও পর্যটক ও দর্শনার্থী।
সোমবার (৩১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকে সৈকতে। পর্যটকদের আগমন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা। হোটেল-মোটেলগুলোতে বুকিং প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ রুম। পর্যটকদের বাড়তি আগমনে নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ভ্রমণে আসা পর্যটকরা প্রতিদিন সকাল থেকেই শুঁটকি পল্লি, গঙ্গামতির সৈকত, রাখাইন পল্লি, ইকোপার্ক, ইলিশ পার্ক, লেম্বুর বন ও সৈকতের ঝাউবাগানসহ পর্যটন স্পটগুলোতে ভিড় করছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগসহ নোনা জলে গা ভাসিয়ে উন্মাদনায় মেতেছেন পর্যটকরা। সৈকতে কেউ গোসল করছেন, কেউ ছবি তুলছেন। কেউবা ছাতার নিচে বসে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন। আবার কেউ ঘোড়ার পিঠে চড়ে পুরো সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
- আরও পড়ুন:
বান্দরবানে পর্যটকের ঢল
এদিকে পর্যটকদের আগমনে আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে আবাসিক হোটেলগুলোতে। যেসব পর্যটক অগ্রিম রুম বুকিং না দিয়ে আসছেন, তাদের পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়।
খুলনা থেকে ঘুরতে আসা নির্মল চন্দ্র জাগো নিউজকে বলেন, ‘পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় ঘুরতে এলাম। গতকাল এসেছি। দুদিন থাকবো। কিন্তু রুম পেয়েছি একদিনের। এই সমস্যাটা ছাড়া সবকিছু ঠিক আছে।’
মাদারীপুর থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছেন রাশেদুল ইসলাম। তিনি রুম বুকিং দিয়ে আসেননি। ফলে থাকার জন্য পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। ২-৩ হাজার টাকার মধ্যে প্রতি রুম ভাড়ায় থাকার চিন্তা করে এলেও একপর্যায়ে ৫-৬ হাজার টাকায় রুম নিয়ে থেকেছেন।
হোটেল মিয়াদ ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ইব্রাহিম ওয়াহিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের পরে প্রতিদিনই ৯০ থেকে শতভাগ রুম বুকিং হয়েছে। এখনো অনেকে আসতে চাচ্ছেন কিন্তু রুম দিতে পারছি না। আশা করছি, সামনের পুরো মাসজুড়ে ভালো পর্যটক পাবো।’
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, ঈদ উপলক্ষে শুধু পর্যটকই নয়, আশপাশের অনেক দর্শনার্থীও ভিড় করছেন। তারা সারাদিন ঘোরাঘুরি শেষে বিকেলে গন্তব্যে ফিরছেন। তাই অনেক পর্যটক হলেও রুম না পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি।
কুয়াকাটায় প্রায় ২০০টি আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে। প্রত্যেকটি হোটেলে এখন পর্যন্ত ৮০ থেকে শতভাগ রুম বুকিং রয়েছে বলে জানান কুয়াকাটা মোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ।
তিনি বলেন, অনেক পর্যটকের চাহিদা সৈকত লাগোয়া হোটেল। তবে যারা অগ্রিম বুকিং দিয়ে আসছেন, তারা পছন্দের রুম পেয়েছেন। যারা এসে বুকিং দিতে চেয়েছেন তারা কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে একটু দূরে গিয়ে বা একটু ভাড়া বেশি দিলে রুম পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের একটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। কোনো পর্যটক হোটেল-রিসোর্টে যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ছুটির দিনগুলোতে কুয়াকাটায় পর্যটকের আনাগোনা বাড়ে। তাদের সেবায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে।
আসাদুজ্জামান মিরাজ/এসআর/জেআইএম