পশ্চিমবঙ্গে কাঁটাতার বসাতে জমি পাবে বিএসএফ, কী বলছে সীমান্তবাসী?

  ভারত-বাংলাদেশে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে বিএসএফের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে বসিরহাট, হিঙ্গলগঞ্জ, শামশেরনগর পর্যন্ত প্রায় ১৬০ কিলোমিটার মোট সীমান্তের মধ্যে ৫১ কিলোমিটার জায়গায় এখনো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়নি। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার পদ্ম শাখরায় ভারতীয় কৃষকদের জমি রয়েছে। তারা তিন বেলা সেখানে গিয়ে চাষাবাদ করেন। সেখানকার কৃষক প্রনব শেখ জানিয়েছেন, সীমান্তের ওই বেড়া থেকে কিছুটা দূরে আমাদের জমি রয়েছে। তারপর কিছুটা গেলেই আন্তর্জাতিক সীমান্তের পিলার। যেখানে যেখানে বেড়া নেই, সেখানে কাঁটাতার দিলেই ভালো। কিন্তু আমাদের এখানে কোনো অসুবিধা নেই। আমাদের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। জনগণের জন্য যেটা করলে ভালো হবে সেটা আমাদেরও ভালো। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা আমাদের এখানে আছে। বিএসএফ আছে

পশ্চিমবঙ্গে কাঁটাতার বসাতে জমি পাবে বিএসএফ, কী বলছে সীমান্তবাসী?

 

ভারত-বাংলাদেশে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে বিএসএফের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে বসিরহাট, হিঙ্গলগঞ্জ, শামশেরনগর পর্যন্ত প্রায় ১৬০ কিলোমিটার মোট সীমান্তের মধ্যে ৫১ কিলোমিটার জায়গায় এখনো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়নি।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার পদ্ম শাখরায় ভারতীয় কৃষকদের জমি রয়েছে। তারা তিন বেলা সেখানে গিয়ে চাষাবাদ করেন।

সেখানকার কৃষক প্রনব শেখ জানিয়েছেন, সীমান্তের ওই বেড়া থেকে কিছুটা দূরে আমাদের জমি রয়েছে। তারপর কিছুটা গেলেই আন্তর্জাতিক সীমান্তের পিলার। যেখানে যেখানে বেড়া নেই, সেখানে কাঁটাতার দিলেই ভালো। কিন্তু আমাদের এখানে কোনো অসুবিধা নেই। আমাদের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। জনগণের জন্য যেটা করলে ভালো হবে সেটা আমাদেরও ভালো।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা আমাদের এখানে আছে। বিএসএফ আছে, কোনো অসুবিধা নেই। কাঁটাতার না থাকলে তো মানুষ সেখান দিয়ে আসা-যাওয়া করবেই। বেড়াটা দিলে ভালো হবে।

অন্য এক সীমান্তবাসী স্বল্পতি দাস জানান, আমাদের পাশেই বাংলাদেশ। নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের কোনো শঙ্কা নেই। আমাদের এখানে কাঁটাতার আছে, উপকারও আছে। যেখানে নেই, সেখানে কাঁটাতার হলে ভালোই হবে। এখানে কোনো অসুবিধা দেখছি না।

এই নারী আরও বলেন, কাঁটাতারের ওপারে আমাদের জমি আছে। আমরা ভোর ৬টায় গেলে আবার দুপুর ১২টায় ফিরে আসি। ফের বিকেল ৩টায় গেলে সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে বেরিয়ে আসি। বিএসএফের নিরাপত্তা ভালো, যাওয়ার সময় আমাদের পরিচয়পত্র নিয়ে নেয়, আবার ফেরার সময় দিয়ে দেয়।

‘আমাদের ওখানে তিনটা ফসল হয়। কিন্তু বিএসএফের জন্য পাট চাষ হয় না। পাট অনেকটা লম্বা ও বড় হয় বলে তাই বিএসএফের তল্লাসি করতে অসুবিধা হয়। এই কারণে কারণে পাট চাষ করি না।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য জমি দিতে রাজি কি না- প্রশ্নের জবাবে স্বল্পতি দাস বলেন, আমাদের চাষের জমি, জমি নিয়ে নিলে আমরা খাবো কী? যে জমিতে চাষ হয় না, সেই জমি নিলে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু চাষাবাদের জমি নিলে আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে।

সীমান্তবাসী রত্না দাস বলেন, আমাদের এখানে নিরাপত্তা আছে। যেসব জায়গায় নেই, সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হোক। কাঁটাতারের বেড়া হলে এই যে লোক পারাপার হয়, পণ্য পারাপার হয় সেগুলো বন্ধ হবে। আমরা যাতে ভালোভাবে থাকতে পারি, তার জন্য যা করলে ভালো হয়, সেটাই করা হোক। ফাঁকা জায়গায় কাঁটাতার দেওয়ার কী দরকার আছে? যেটা দিয়েছে, সেটাই ঠিকঠাক ভাবে সুরক্ষা করুক।

ডিডি/এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow