পশ্চিমবঙ্গে শুরু হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৯০তম যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক শুরু হচ্ছে কলকাতায়। আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে শনিবার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই বৈঠক চলবে। বুধবার বাংলাদেশের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কলকাতায় পৌঁছাবে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার কলকাতায় প্রাথমিক বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলটি মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় যাবে। সেখানে গঙ্গা নদীতে পানির প্রবাহ ও পরিমাণ কতটা আছে, তা পরিমাপ করবেন প্রতিনিধিরা। ফারাক্কা পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলটি আবার কলকাতায় ফিরবে। এরপর শুক্রবার ও শনিবার ফারাক্কা গঙ্গা পানি চুক্তি বিষয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আরও পড়ুন>>বাঁধ ও ব্যারাজের মধ্যে পার্থক্য কী?গঙ্গার উজানে নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারতের ‘না’ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কবির। দলে আরও থাকছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের (সাউথ এশিয়া উইং) পরিচালক মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি (জলসম্পদ উন্নয়ন) মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে শুরু হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৯০তম যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক শুরু হচ্ছে কলকাতায়। আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে শনিবার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই বৈঠক চলবে। বুধবার বাংলাদেশের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কলকাতায় পৌঁছাবে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।

সূচি অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার কলকাতায় প্রাথমিক বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলটি মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় যাবে। সেখানে গঙ্গা নদীতে পানির প্রবাহ ও পরিমাণ কতটা আছে, তা পরিমাপ করবেন প্রতিনিধিরা।

ফারাক্কা পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলটি আবার কলকাতায় ফিরবে। এরপর শুক্রবার ও শনিবার ফারাক্কা গঙ্গা পানি চুক্তি বিষয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন>>
বাঁধ ও ব্যারাজের মধ্যে পার্থক্য কী?
গঙ্গার উজানে নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারতের ‘না’

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কবির। দলে আরও থাকছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের (সাউথ এশিয়া উইং) পরিচালক মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি (জলসম্পদ উন্নয়ন) মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের একজন প্রধান প্রকৌশলীর (চিফ ইঞ্জিনিয়ার)।

চুক্তি অনুযায়ী, গঙ্গা নদীর পানি ভারত ও বাংলাদেশ সমানভাবে ভাগ করে নেবে। ফারাক্কায় গঙ্গার প্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট পরিমাণ অনুযায়ী ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাবে এবং অবশিষ্ট পানি পাবে ভারত।

সূত্র জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলায় পানি চুক্তি পুনর্নবীকরণ নিয়ে আলোচনা হবে। তবে চুক্তি পুনর্নবীকরণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান চুক্তি মেনেই দুদেশের মধ্যে পানিবণ্টন চালু থাকবে।

এর আগে গঙ্গা পানি চুক্তি পুনর্নবীকরণ নিয়ে বিভিন্ন সময় দু’দেশের দেওয়া প্রস্তাবের কারণে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছিল। বাংলাদেশের বাড়তি পানির দাবি এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ কিছু রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। আগের মমতা ব্যানার্জীর সরকারের মতো বর্তমানের বিজেপি সরকারও যদি বাংলাদেশকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি জানায় এবং এর ফলে যদি গঙ্গা পানি চুক্তি শেষ পর্যন্ত আটকে যায়, তবে দু’দেশের সম্পর্কে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকেই।

ডিডি/কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow