পাংশায় তীব্র শীতে বেঁদে পল্লীদের মানবেতর জীবন যাপন

আমরা দিন এনে দিনে খেয়ে বেঁচে থাকা মানুষ, অসহায়ত্ব ও দারিদ্রতা আমাদের রোজকার জীবনসঙ্গী। আর্থিক অভাব-অনটনে থাকায়, তীব্র শীতে গরম কাপড়ের অভাবে প্রচণ্ড ঠান্ডায়, সর্দি, কাশি, জ্বরসহ শীতকালীন নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছি আমি সহ আমার পরিবারের সদস্যরা। দু-চোখ ভরা আক্ষেপ নিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন, রাজবাড়ীর পাংশা আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ডের অদূরে অস্থায়ী বেদে পল্লীর বাসিন্দা সীমা বেগম।এভাবেই মানবেতর জীবন কাটছে বেদে পল্লীটির অন্তত ১০টি পরিবারের। তবে হতদরিদ্র এসব মানুষের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে সরজমিনে বেঁদে পল্লীতে ঘুরে দেখা গেছে, পৌষের কনকনে শীতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙ্গিয়ে দিনের পর দিন বসবাস করা মানুষগুলো।মাটির ওপর মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট আকারের ছোট্ট একটি তাঁবু টাঙিয়ে তৈরি করা ঘরে পরিবারের চার থেকে পাঁচজন সদস্য নিয়ে বসবাস করছেন অনেকে। বেদে পল্লীর এসব মানুষের সাথে কথা হলে তারা জানান, তীব্র শীতে জুবুথুবু অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে অনেক পরিবারের। এর কার

পাংশায় তীব্র শীতে বেঁদে পল্লীদের মানবেতর জীবন যাপন

আমরা দিন এনে দিনে খেয়ে বেঁচে থাকা মানুষ, অসহায়ত্ব ও দারিদ্রতা আমাদের রোজকার জীবনসঙ্গী। আর্থিক অভাব-অনটনে থাকায়, তীব্র শীতে গরম কাপড়ের অভাবে প্রচণ্ড ঠান্ডায়, সর্দি, কাশি, জ্বরসহ শীতকালীন নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছি আমি সহ আমার পরিবারের সদস্যরা। দু-চোখ ভরা আক্ষেপ নিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন, রাজবাড়ীর পাংশা আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ডের অদূরে অস্থায়ী বেদে পল্লীর বাসিন্দা সীমা বেগম।

এভাবেই মানবেতর জীবন কাটছে বেদে পল্লীটির অন্তত ১০টি পরিবারের। তবে হতদরিদ্র এসব মানুষের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে সরজমিনে বেঁদে পল্লীতে ঘুরে দেখা গেছে, পৌষের কনকনে শীতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙ্গিয়ে দিনের পর দিন বসবাস করা মানুষগুলো।

মাটির ওপর মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট আকারের ছোট্ট একটি তাঁবু টাঙিয়ে তৈরি করা ঘরে পরিবারের চার থেকে পাঁচজন সদস্য নিয়ে বসবাস করছেন অনেকে। বেদে পল্লীর এসব মানুষের সাথে কথা হলে তারা জানান, তীব্র শীতে জুবুথুবু অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটছে অনেক পরিবারের। এর কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে জীবিকার তাগিদে ও কর্মের খোঁজে ছুটে চলা। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে।

বেদে পল্লীর বাসিন্দা লিমা বেগম বলেন, আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেইরে বাপু, দু-পয়সা দিয়ে কেউ সহযোগিতা করে না, তীব্র শীতে ছোট তাঁবুর নিচে দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে আমাদের জীবনযাপন। কেউ একটু গরম কাপড় নিয়ে আসবে, এই অপেক্ষায় সারাদিন তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকি।

বেদে পল্লীর আরেক বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে শীত কম ছিল। কিন্তু কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ছে, সঙ্গে শীতল বাতাস বইছে। জীবিকার তাগিদে বের হওয়া যাচ্ছে না। তারপরও স্ত্রী-সন্তানদের কথা বিবেচনা করে পেটের তাগিদে কাজে বের হতে গিয়ে সর্দি-কাশি লেগেই থাকছে পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে। বেদে পল্লীর গরিব মানুষ তো দিনে আনা দিনে খাওয়া মানুষ। কাজ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow