পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নিপীড়ন থামাতে জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর কোনো ধরনের দমন-পীড়ন হয়ে থাকলে এর জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জেনেভায় জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক এসব কথা বলেন। ফারহান হক বলেন, সব কর্তৃপক্ষের জন্যই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এখানেও সেটিই প্রযোজ্য। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে কেউ দমন-পীড়নের স্বীকার হয়ে থাকলে এর জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কাজকে সমর্থন করেন এবং হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের দেওয়া আহ্বানগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে বলে আশা করেন। এর আগে গত মাসে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর কোনো ধরনের দমন-পীড়ন হয়ে থাকলে এর জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি জেনেভায় জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের উপমুখপাত্র ফারহান হক এসব কথা বলেন।
ফারহান হক বলেন, সব কর্তৃপক্ষের জন্যই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এখানেও সেটিই প্রযোজ্য। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে কেউ দমন-পীড়নের স্বীকার হয়ে থাকলে এর জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কাজকে সমর্থন করেন এবং হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের দেওয়া আহ্বানগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে বলে আশা করেন।
এর আগে গত মাসে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। তিনি বিক্ষোভের সময় নিহত ব্যক্তিদের বিষয়ে দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
তুর্ক বলেছিলেন, বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তি বিক্ষোভকারী হোন কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সব মৃত্যুর ঘটনাই তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
পাকিস্তান সরকারের বিক্ষোভ দমনের পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করা এবং সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিতে ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। সংগঠনটির বিরুদ্ধে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার আটক নেতাদের দ্রুত আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের ন্যায়বিচার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষ বিচারের অধিকার নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন।
এ ছাড়া পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ ও জনসমাবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। পুরো অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অভিযোগ ও দাবিগুলো সমাধানে অর্থবহ ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত মাসে আঞ্চলিক নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ভলকার তুর্ক সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকারসহ মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।
পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতও উদ্বেগ জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি অভিযোগ করেন, ওই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ নাগরিক অধিকার আন্দোলন দমনে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করেছে।
এছাড়া পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় মোহাম্মদ আখতার নামে এক ব্রিটিশ নাগরিক নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। নিহত আখতার ইংল্যান্ডের পিটারবরোর বাসিন্দা ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ জুন কাশ্মীরের কোটলি শহরে অর্থনৈতিক ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, আখতার বিক্ষোভে অংশ নেননি; বরং তার বাড়ির কাছেই বিক্ষোভ চলছিল এবং তিনি একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট বুলেটের আঘাতে নিহত হন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আখতারের বুকের এক পাশে বুলেটের ক্ষত পাওয়া গেছে। নিরাপত্তার অভাব ও হয়রানির ভয়ে নিহতের পরিবার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ বা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চাওয়ার সাহস পায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগ রয়েছে, গত মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যদিও সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)। গত ৭ আগস্ট এক নির্দেশনায় ব্রিটিশ নাগরিকদের ওই অঞ্চলে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণে নিষেধ করা হয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পাকিস্তান সরকারের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ রাখছেন বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে।
তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা লন্ডনে অবস্থিত পাকিস্তানি হাই কমিশন এ বিষয়ে গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।
সূত্র : এএনআই ও ডেকান হেরাল্ড
What's Your Reaction?