পাট অধিদপ্তরের সব কার্যালয় শতভাগ তামাকমুক্ত করার অঙ্গীকার মহাপরিচালকের
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের সুরক্ষায় পাট অধিদপ্তরের সব কার্যালয়কে ‘শতভাগ তামাকমুক্ত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দ মো. নূরুল বাসির। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পাট অধিদপ্তরের সভাকক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধন) ২০২৬ অনুযায়ী পাট অধিদপ্তরের অফিসসমূহে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। আরও পড়ুন গণপরিবহনে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের দাবি সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫.৩ শতাংশ তামাক ব্যবহার করে এবং তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয় (টোব্যাকো এটলাস)। হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক ব্যবহার। একই সঙ্গে প্রায় চার কোটি অধূমপায়ী পরোক্ষ ধূমপানের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সালে বাংলাদেশে তামাক
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের সুরক্ষায় পাট অধিদপ্তরের সব কার্যালয়কে ‘শতভাগ তামাকমুক্ত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দ মো. নূরুল বাসির।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পাট অধিদপ্তরের সভাকক্ষে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধন) ২০২৬ অনুযায়ী পাট অধিদপ্তরের অফিসসমূহে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫.৩ শতাংশ তামাক ব্যবহার করে এবং তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয় (টোব্যাকো এটলাস)। হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক ব্যবহার। একই সঙ্গে প্রায় চার কোটি অধূমপায়ী পরোক্ষ ধূমপানের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
এছাড়া ২০২৪ সালে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যেখানে একই সময়ে সরকার রাজস্ব পেয়েছে মাত্র ৪১ হাজার কোটি টাকা।
মতবিনিময় সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য একটি তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের আলোকে সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ সব জনসমাগমস্থলকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখা হলে অধূমপায়ীরা পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাবেন। এতে ধূমপায়ীদের মধ্যেও তামাক ছাড়ার প্রবণতা বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ অসংক্রামক রোগ। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের অন্যতম ঝুঁকির কারণ তামাক ব্যবহার। ধূমপান ত্যাগের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয় এবং কয়েক বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তাই ধূমপায়ীদের তামাক ছাড়তে উৎসাহিত করার পাশাপাশি অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসির বলেন, পাট অধিদপ্তরের অধীনস্থ সব অফিসকে তামাকমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে অফিস আদেশ জারি করা হবে। অফিসে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং দৃশ্যমান স্থানে তামাকবিরোধী সাইনেজ স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, তামাকের কোনো ইতিবাচক দিক নেই। এটি শুধু ব্যবহারকারীর নয়, পরিবার, সহকর্মী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ক্ষতিকর। কর্মস্থলে ধূমপান নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা—উভয় দিক বিবেচনায় প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এসইউজে/এমএমকে
What's Your Reaction?


