পাতে বিষ না মসলা?

রান্নার অপরিহার্য অনুষঙ্গ মসলার আড়ালে বিষাক্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল ও পোকাযুক্ত বর্জ্য ভোক্তাদের পাতে তুলে দেওয়ার এক ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চাক্তাই এলাকায়। রোববার (১০ মে) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এক যৌথ অভিযানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরির দায়ে ৩টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অভিযানে পাইকারি বাজারের জালিয়াতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তাকে বড় অনিয়ম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মেসার্স নবীন ট্রেডার্স নামে এই প্রতিষ্ঠানে জিরার সঙ্গে নিম্নমানের কেরাওয়ে সিডস এবং পোস্তদানার সঙ্গে অপদ্রব্য মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল বস্তাভর্তি পোকাযুক্ত নষ্ট মসলা, যা অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে প্যাকেটজাত করে বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছিল। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মেসার্স গোপাল দাস নামে একটি দোকানে সাধারণ মসলার বদলে পাওয়া গেছে টেক্সটাইল গ্রেডের শিল্প রঙ, যা খাবারের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া খাবারে নিষিদ্ধ ও প

পাতে বিষ না মসলা?

রান্নার অপরিহার্য অনুষঙ্গ মসলার আড়ালে বিষাক্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল ও পোকাযুক্ত বর্জ্য ভোক্তাদের পাতে তুলে দেওয়ার এক ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চাক্তাই এলাকায়।

রোববার (১০ মে) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এক যৌথ অভিযানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরির দায়ে ৩টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

অভিযানে পাইকারি বাজারের জালিয়াতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তাকে বড় অনিয়ম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মেসার্স নবীন ট্রেডার্স নামে এই প্রতিষ্ঠানে জিরার সঙ্গে নিম্নমানের কেরাওয়ে সিডস এবং পোস্তদানার সঙ্গে অপদ্রব্য মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল বস্তাভর্তি পোকাযুক্ত নষ্ট মসলা, যা অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে প্যাকেটজাত করে বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছিল। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মেসার্স গোপাল দাস নামে একটি দোকানে সাধারণ মসলার বদলে পাওয়া গেছে টেক্সটাইল গ্রেডের শিল্প রঙ, যা খাবারের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহৃত হতো। এছাড়া খাবারে নিষিদ্ধ ও প্রাণঘাতী কেমিক্যাল হাইড্রোজ বিক্রির দায়ে তাদের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মেসার্স শাহ আমানত স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ ঘি বিক্রির দায়ে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ। তাঁর সঙ্গে সহকারী পরিচালক মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ অংশ নেন।

অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ কালবেলাকে বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। বিশেষ করে চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের মতো বড় পাইকারি বাজারগুলোতে আমাদের নজরদারি এখন থেকে আরও কঠোর হবে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মানদণ্ড অনুযায়ী, খাদ্যদ্রব্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডাই বা টেক্সটাইল রঙ এবং নিষিদ্ধ কেমিক্যালের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনি অকেজোসহ ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow