পানির অভাব কাটিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

দীর্ঘদিনের পানিসংকট কাটিয়ে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীতে নির্মিত রাবার ড্যাম প্রকল্প। একসময় যেখানে পানির অভাবে বিস্তীর্ণ জমি পড়ে থাকত অনাবাদি, সেখানে এখন সেচের নিশ্চয়তায় সবুজে ভরে উঠছে ফসলের মাঠ। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীতে নির্মিত রাবার ড্যাম প্রকল্প এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আগে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য গভীর নলকূপ ও ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে জ্বালানি খরচ বেড়ে চাষাবাদ হয়ে উঠত ব্যয়বহুল। তবে রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে নদীতে পানি সংরক্ষণ সম্ভব হওয়ায় এখন সহজেই সেচ দেওয়া যাচ্ছে, আর এতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। স্থানীয়রা বলছেন, শুধু কৃষিক্ষেত্রেই নয়, প্রকল্পটির সুফল পৌঁছেছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। আগে শুষ্ক মৌসুমে অনেক এলাকায় পানির সংকট দেখা দিলেও এখন নদীতে পানি ধরে রাখার কারণে আশপাশের এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কিছুটা উন্নত হয়েছে। ফলে বাসাবাড়িতেও পানির প্রাপ্যতা বেড়েছে। সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের যাদুপুর গ্রামের কৃষক গোপাল চৌধুরী বলেন, আগে পানির জন্য অনেক কষ্ট করতে হতো। এবার নদীর পানি দিয়ে সহজেই সেচ

পানির অভাব কাটিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

দীর্ঘদিনের পানিসংকট কাটিয়ে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীতে নির্মিত রাবার ড্যাম প্রকল্প। একসময় যেখানে পানির অভাবে বিস্তীর্ণ জমি পড়ে থাকত অনাবাদি, সেখানে এখন সেচের নিশ্চয়তায় সবুজে ভরে উঠছে ফসলের মাঠ।

সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীতে নির্মিত রাবার ড্যাম প্রকল্প এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, আগে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য গভীর নলকূপ ও ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে জ্বালানি খরচ বেড়ে চাষাবাদ হয়ে উঠত ব্যয়বহুল। তবে রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে নদীতে পানি সংরক্ষণ সম্ভব হওয়ায় এখন সহজেই সেচ দেওয়া যাচ্ছে, আর এতে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু কৃষিক্ষেত্রেই নয়, প্রকল্পটির সুফল পৌঁছেছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। আগে শুষ্ক মৌসুমে অনেক এলাকায় পানির সংকট দেখা দিলেও এখন নদীতে পানি ধরে রাখার কারণে আশপাশের এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কিছুটা উন্নত হয়েছে। ফলে বাসাবাড়িতেও পানির প্রাপ্যতা বেড়েছে।

সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের যাদুপুর গ্রামের কৃষক গোপাল চৌধুরী বলেন, আগে পানির জন্য অনেক কষ্ট করতে হতো। এবার নদীর পানি দিয়ে সহজেই সেচ দিতে পেরেছি, খরচও কম হয়েছে।

নয়াগোলা এলাকার কৃষক রহমত আলী বলেন, আগে শুষ্ক মৌসুম এলেই পানির জন্য চরম সংকটে পড়তে হতো। সেচের জন্য গভীর নলকূপ ও ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হতো, এতে খরচ অনেক বেড়ে যেত। অনেক সময় পানির অভাবে জমি আবাদই করা যেত না। এখন নদীতে পানি থাকায় সহজেই সেচ দিতে পারছি। খরচ কমেছে, ফলনও ভালো হচ্ছে—আমাদের জন্য এটা বড় স্বস্তি।

পানির অভাব কাটিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

তিনি বলেন, নদীতে পানির পরিমাণ বাড়ায় বাড়ির টিউবওয়েলেও এখন পানি পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের আর পানির সংকট নেই।

রেহাইচর এলাকার কৃষক আতিকুর রহমান জানান, রাবার ড্যাম নির্মাণে সবারই উপকার হয়েছে। তবে ড্যামের ভাটির প্রায় ২৬ কিলোমিটার এলাকায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস, এম, আহসান হাবীব বলেন, মহানন্দা নদীতে নির্মিত রাবার ড্যামের সুফল এখন প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকার কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে শুধু উৎপাদনই বাড়েনি, সেচ ব্যয়ও কমেছে।

আর নতুন করে অন্তত ৭ হাজার হেক্টর জমি চাষের আওতায় এসেছে দাবি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলীর।

এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রেহাইচর সংলগ্ন মহানন্দা নদী এলাকায় ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর প্রায় ২৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রাবার ড্যাম প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কাজ চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সোহান মাহমুদ/এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow