অনেকে জরুরি প্রয়োজনে পাবলিক টয়লেট বা গণশৌচাগার ব্যবহার করেন। তবে দুঃখের বিষয়ে হলো, আমাদের দেশের বেশিরভাগ পাবলিক টয়লেটের পরিবেশ ভালো থাকে না। এখানে অনেক জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। রাস্তার ধারের টয়েলেট মানেই জীবাণুর আখড়া। এখানে বিভিন্ন ধরনের রোগের আশঙ্কা থাকতে পারে।
অনেকের ধারণা পাবালিক টয়েলট থেকে যৌনরোগ কিংবা ‘ইউটিআই’ অর্থাৎ মূত্রনালির সংক্রমণ হতে পারে। তবে এই ধারণা পুরোটা সত্যি নয়, এমনটি জানিয়েছে ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থা। তাদের মতে, পাবলিক টয়লেট থেকে সরাসরি সংক্রমণ না হলেও, নোংরা পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের ফলে জীবাণু ছড়ানো এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে পরোক্ষভাবে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে কী কী সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে-
জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করা
পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করা জরুরি। কমোডে বসার আগে উপরে জীবাণুনাশক স্প্রে ছড়িয়ে দিতে হবে। এতে জীবাণু রোধ হবে। ফ্লাশ করে আবার স্প্রে ব্যবহার করতে হবে। এতে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যাবে।
খালি হাতে পানির কল স্পর্শ না করা
টয়লেট শেষে নোংরা ও জীবাণুযুক্ত হাত দিয়ে পানির কল ছাড়বেন না। খালি হাতে স্পর্শ করলে রোগ জীবাণু হাতে চলে আসতে পারে। এছাড়া পাবলিক টয়লেট অনেকে ব্যবহার করে বলে পানির কলে লেগে থাকা তাদের জীবাণু হাতে চলে আসতে পারে। পাবলিক টয়লেটে গিয়ে কল ধরতে টিস্যু ব্যবহার করুন। এছাড়া কোথাও স্পর্শ করার পর হাত পরিষ্কার না করে চোখেমুখে হাত দেবেন না।
স্যানিটাইজার ব্যবহার করা
ব্যাগে সব সময় একটা স্যানিটাইজার রাখুন। বিশেষ করে কমোড ব্যবহারের পর অবশ্যই হাতে স্যানিটাইজার লাগিয়ে নিন। সম্ভব হলে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। তবে জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত হ্যান্ডওয়াশ থাকে না। তাই সঙ্গে হ্যান্ডওয়াশ রাখতে পারেন।
সঙ্গের জিনিসপত্র মেঝেতে না রাখা
সঙ্গে থাকা ব্যাগ বা অন্যান্য জিনিস টয়লেটের ভেতর না নিয়ে যাওয়াই ভালো। গেলেও টয়লেটের মেঝেতে ব্যাগ রাখবেন না। এগুলো মাটিতে রাখলে বা টয়লেটের ভেতরে জীবাণু ব্যাগে লেগে যেতে পারে।
দেয়াল স্পর্শ না করা
টয়লেট ফ্লাশ করার ফলে বায়ুবাহিত হওয়া পার্টিকেল বাথরুমের দেয়ালের জীবাণু লেগে থাকে এবং এমনকি অধিকাংশ পাবলিক টয়লেট ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয় না। তাই বাথরুমের দেয়াল স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
নিচু কমোড ব্যবহার করা
সবচেয়ে ভালো হয় উঁচু কমোড এড়িয়ে নিচু কমোড ব্যবহার করতে পারলে। কারণ এর সঙ্গে ত্বকের কোনো সংস্পর্শ হয় না। উঁচু কমোডে বসলে ত্বকের সঙ্গে সংস্পর্শে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। আর যদি উঁচু কমোড ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে যেন ত্বক স্পর্শ না করে এমনভাবে বসুন। কমোডের ওপর টিসু পেপার বিছিয়ে বসতে পারেন।
দরজার হাতল বা ছিটকিনি খালি হাতে না ধরা
দরজার হাতল বা ছিটকিনি স্পর্শ করবেন না। অনেক লোক টয়লেটের হাতল স্পর্শ করার ফলে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু দরজার হাতলে লেগে থাকে। তাই এটা ধরা থেকে বিরত থাকুন অথবা টিস্যু দিয়ে হাতল স্পর্শ করুন।
টয়লেট পরিচ্ছন্ন রাখা
পাবলিক টয়েলেট ব্যবহারের পর টয়লেট পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সবার। তাই টয়লেট ব্যবহারের পর অবশ্যই ফ্লাশ করুন। যেখানে-সেখানে টিস্যু পেপার ফেলে রাখবেন না। নির্দিষ্ট বিন ব্যবহার করুন। পরের জনের ব্যবহারের উপযোগী করে তবেই টয়লেট থেকে বের হওয়া উচিত।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট, বোল্ড স্কাই
এসএকেওয়াই/কেএসকে/জেআইএম