পালাতে থাকা বাসিন্দাদের ওপর ড্রোন হামলা, নিহত ২৪
সুদানে পালাতে থাকা বাসিন্দাদের ওপর ড্রোন হামলা হয়েছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এ হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত পরিবার বহনকারী একটি যানবাহনে ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে তারা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন শিশু, যার মধ্যে দুটি শিশু নবজাতক রয়েছেন। বলে জানিয়েছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক।
শনিবার উত্তর কুরদোফান প্রদেশের রাহাদ শহরের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। চিকিৎসক সংগঠনটি জানায়, নিহতরা ডুবেইকার এলাকায় চলমান সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগের দিন শুক্রবারও উত্তর কুরদোফানে ত্রাণ সহায়তা বহর ও জ্বালানি বহনকারী ট্রাক লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, উত্তর কুরদোফান রাজ্য সরকার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-সংশ্লিষ্ট একটি ত্রাণ বহরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আরএসএফের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের প্রতি আহ্বা
সুদানে পালাতে থাকা বাসিন্দাদের ওপর ড্রোন হামলা হয়েছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এ হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত পরিবার বহনকারী একটি যানবাহনে ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে তারা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন শিশু, যার মধ্যে দুটি শিশু নবজাতক রয়েছেন। বলে জানিয়েছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক।
শনিবার উত্তর কুরদোফান প্রদেশের রাহাদ শহরের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। চিকিৎসক সংগঠনটি জানায়, নিহতরা ডুবেইকার এলাকায় চলমান সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগের দিন শুক্রবারও উত্তর কুরদোফানে ত্রাণ সহায়তা বহর ও জ্বালানি বহনকারী ট্রাক লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, উত্তর কুরদোফান রাজ্য সরকার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-সংশ্লিষ্ট একটি ত্রাণ বহরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আরএসএফের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। হামলাগুলো রাজ্যের রাজধানী এল-ওবেইদ থেকে হোয়াইট নাইল রাজ্যের কোস্তি শহরের সংযোগ সড়কে সংঘটিত হয়েছে। এলাকাটি ত্রাণ সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানায়, ভোরবেলায় প্রথম হামলায় এর-রাহাদে তিনটি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর আল্লাহ করিম এলাকায় দ্বিতীয় হামলায় জাতিসংঘের ত্রাণবাহী যানসহ চারটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া উম রাওয়াবা এলাকায় তিনটি ড্রোন হামলায় একটি পরিবহন ট্রাক ও একটি জ্বালানি ট্যাংকার ধ্বংস হয়, এতে আরও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ডব্লিউএফপি এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, এল-ওবেইদে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য ত্রাণ সরবরাহের সময় বহরটি হামলার শিকার হয়। সংগঠনটি একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ বলে আখ্যা দিয়ে স্বাধীন তদন্ত এবং মানবিক কর্মীদের সুরক্ষায় কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। আরব ও আফ্রিকা বিষয়ক মার্কিন সিনিয়র উপদেষ্টা মাসাদ বোলুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য পাঠানো খাদ্য ধ্বংস করা এবং মানবিক কর্মীদের হত্যা করা জঘন্য অপরাধ।
জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী ডেনিস ব্রাউন জানান, ট্রাকগুলো কোস্তি থেকে এল-ওবেইদের কাছে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য জীবনরক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা নিয়ে যাচ্ছিল।
সুদানের সেনাবাহিনী (এসএএফ) ও আরএসএফের মধ্যে চলমান এই সংঘাত প্রায় তৃতীয় বছরে প্রবেশ করেছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দশ হাজারের বেশি মানুষ নিহত, প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং বহু অঞ্চল দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২ কোটি ১০ লাখের বেশি সুদানি তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন এবং দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। সহিংসতার কারণে বহু মানুষ প্রতিবেশী দেশ চাদে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।