পাশাপাশি কবরে চিরঘুমে লক্ষ্মীপুরের মা-মেয়েরা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নিজ ঘরে হত্যার শিকার মা ও তিন মেয়েকে তাদের নিজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত প্রায় ১০টায় জানাজা শেষে পৌরসভার নটিয়া এলাকার স্থানীয় কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।  এর আগে নিহত মা শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার, নাফিসা আক্তার ইকরা ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে নটিয়া এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। শেষবারের মতো তাদের দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন।  মা ও তিন বোনকে কবরে নামানোর আগে শাহিনুর বেগমের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ হোসেন সিফাত কথা বলেন। তার কান্নায় আশপাশের মানুষও আবেগতাড়িত হয়ে পড়ে। সিফাত বার বার বলছিলেন, এখন আমাকে কে দেখবে? সাত বছর আগে বাবাকে হারিয়েছি। মা আর বোনদের নিয়েই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। আজ সবাই চলে গেল। পরে রাত ১০টার পর নিহতদের দাফন করা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয়রা কোনো কথা বলতে চাননি। তাদের ভাষ্য, এমন ঘটনায় কারও মন্তব্য করার মতো কিছু নেই।  গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড নদীপাড় এলাকার আমির হোসেন মাস্টা

পাশাপাশি কবরে চিরঘুমে লক্ষ্মীপুরের মা-মেয়েরা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নিজ ঘরে হত্যার শিকার মা ও তিন মেয়েকে তাদের নিজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত প্রায় ১০টায় জানাজা শেষে পৌরসভার নটিয়া এলাকার স্থানীয় কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। 

এর আগে নিহত মা শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার, নাফিসা আক্তার ইকরা ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে নটিয়া এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। শেষবারের মতো তাদের দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন। 

মা ও তিন বোনকে কবরে নামানোর আগে শাহিনুর বেগমের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ হোসেন সিফাত কথা বলেন। তার কান্নায় আশপাশের মানুষও আবেগতাড়িত হয়ে পড়ে। সিফাত বার বার বলছিলেন, এখন আমাকে কে দেখবে? সাত বছর আগে বাবাকে হারিয়েছি। মা আর বোনদের নিয়েই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। আজ সবাই চলে গেল।

পরে রাত ১০টার পর নিহতদের দাফন করা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয়রা কোনো কথা বলতে চাননি। তাদের ভাষ্য, এমন ঘটনায় কারও মন্তব্য করার মতো কিছু নেই। 

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড নদীপাড় এলাকার আমির হোসেন মাস্টারের ৫তলা ভবনের নিচতলার বাসায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। শাহিনুর বেগমের প্রতিবেশী আফরোজা জানান, সেদিন সকালে বাসা থেকে চিৎকার শুনে তিনি জানালা দিয়ে ভেতরে এক যুবককে দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে বাহির থেকে বাসার প্রধান ফটক আটকে দেন। এতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (৩০) ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বাসায় ঢুকে চারজনের রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে।

এদিকে আটকা পড়া অন্তর ভবনের ছাদে উঠে পার্শ্ববর্তী আরেকটি ভবনের ছাদে লাফিয়ে পড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। নিহত অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা এবং রায়পুর শহরে ভ্রাম্যমাণভাবে ফল বিক্রি করতেন। বর্তমানে তার মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিবারের কেউ মরদেহ গ্রহণ করতে আসেননি।

শুক্রবার বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow