পাহাড় রক্ষায় ১০ বছরের রোডম্যাপ, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরাতে বিশেষ টাস্কফোর্সের সুপারিশ
চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ভয়াবহ ভূমিধস রোধে ‘ঝুঁকি-সংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পাহাড় কাটার ফলে আসন্ন বর্ষায় চট্টগ্রাম মহানগরী ও বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থা মোকাবিলায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনসহ ১০ বছর মেয়াদি একটি কাঠামোগত কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৭ মে) চট্টগ্রামের একটি হোটেলে ‘চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার পাহাড় ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি-সংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা এবং ভূমিধস ঝুঁকি একীভূতকরণ’ শীর্ষক একটি নীতিপত্র প্রচার অনুষ্ঠানে এই রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আকতার মাহমুদ। তিনি জানান, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের মতো মানবসৃষ্ট কারণেই ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জুন ও জুলাই মাসে ভূমিধসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এজন্য বৃষ্টিপাতের নির্দিষ্ট সীমা বা ‘থ্রেশহোল্ড’ নির্ধারণ করে আগাম সতর্কবার্তা ব্য
চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলায় ভয়াবহ ভূমিধস রোধে ‘ঝুঁকি-সংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পাহাড় কাটার ফলে আসন্ন বর্ষায় চট্টগ্রাম মহানগরী ও বান্দরবানের বিস্তীর্ণ এলাকা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থা মোকাবিলায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনসহ ১০ বছর মেয়াদি একটি কাঠামোগত কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৭ মে) চট্টগ্রামের একটি হোটেলে ‘চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার পাহাড় ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি-সংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা এবং ভূমিধস ঝুঁকি একীভূতকরণ’ শীর্ষক একটি নীতিপত্র প্রচার অনুষ্ঠানে এই রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আকতার মাহমুদ। তিনি জানান, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং ত্রুটিপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের মতো মানবসৃষ্ট কারণেই ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জুন ও জুলাই মাসে ভূমিধসের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এজন্য বৃষ্টিপাতের নির্দিষ্ট সীমা বা ‘থ্রেশহোল্ড’ নির্ধারণ করে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং পাহাড়ের ঢাল স্থিতিশীল রাখতে ইকোসিস্টেম বা প্রাকৃতিক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, "আসন্ন বর্ষায় চট্টগ্রাম শহর ভূমিধসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চসিক পাহাড়ে বসতি স্থাপনকে উৎসাহিত করে না। তবে সেখানে বসবাসরত মানুষের জীবন ও জীবিকার বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হয়। এই নীতিপত্রটি পেশাদারিত্বের সাথে পাহাড় ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে।"
প্যানেল আলোচনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইকবাল সারোয়ার বলেন, বন উজাড়ের ফলে মাটির পানি ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, যা পাহাড়ের স্থায়িত্ব নষ্ট করছে।
অন্যদিকে চুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক এ.টি.এম. শাহজাহান বলেন, পাহাড়ের কাছে ইটভাটার মতো অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পাহাড়ের গঠনকে ভঙ্গুর করে তুলছে। সিডিএ-র অ্যাকশন প্ল্যান বিশেষজ্ঞ শাহিনুল ইসলাম মনে করেন, আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাবের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমগুলো অব্যাহত থাকছে।
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে আগামী ১০ বছরের জন্য একটি কাঠামোগত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। এর স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং উচ্চ-রেজোলিউশন সম্পন্ন বিপদ মানচিত্র তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোর জন্য পরিকল্পিত পুনর্বাসন এবং সারা দেশের পাহাড়ি জেলাগুলোতে এই মডেলটি ছড়িয়ে দেওয়া।
What's Your Reaction?