পিতলের বারকে ‘স্বর্ণ’ বুঝিয়ে ব্যবসায়ীর ২৪ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় স্বর্ণের বার বলে পিতলের বার গছিয়ে দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী আবু বকর ওরফে শাওন বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের কবিচন্দ্রপুর গ্রামের জুয়েল মিয়াকে (৩০)। অন্য আসামিরা হলেন— সুজন মিয়া, ফারুক মিয়া (৩৫), মিনা আক্তার (৪৭) ও হাজিল মিয়া (৩৭)। এছাড়া আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গীর পাগার এলাকায় আবু বকর ওরফে শাওনের ‘মা জুয়েলার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত ২২ মার্চ এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, কেন্দুয়ার জুয়েল মিয়ার কাছে বিক্রির জন্য স্বর্ণের বার রয়েছে। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রতারক চক্রটি তাকে মোবাইলে স্বর্ণের বারের ভিডিও দেখিয়ে প্রলুব্ধ করে। তাদের ফাঁদে পা দিয়ে গত ২৮ মার্চ ব্যবসায়ী আবু বকর সহযোগীদের নিয়ে কেন্দুয়ায় পৌঁছান এবং রাতে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে কথিত স্বর্ণের বার দেখেন। সেখানে ৭০ ভরি স্বর

পিতলের বারকে ‘স্বর্ণ’ বুঝিয়ে ব্যবসায়ীর ২৪ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় স্বর্ণের বার বলে পিতলের বার গছিয়ে দিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী আবু বকর ওরফে শাওন বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের কবিচন্দ্রপুর গ্রামের জুয়েল মিয়াকে (৩০)। অন্য আসামিরা হলেন— সুজন মিয়া, ফারুক মিয়া (৩৫), মিনা আক্তার (৪৭) ও হাজিল মিয়া (৩৭)। এছাড়া আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গীর পাগার এলাকায় আবু বকর ওরফে শাওনের ‘মা জুয়েলার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত ২২ মার্চ এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, কেন্দুয়ার জুয়েল মিয়ার কাছে বিক্রির জন্য স্বর্ণের বার রয়েছে। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রতারক চক্রটি তাকে মোবাইলে স্বর্ণের বারের ভিডিও দেখিয়ে প্রলুব্ধ করে।

তাদের ফাঁদে পা দিয়ে গত ২৮ মার্চ ব্যবসায়ী আবু বকর সহযোগীদের নিয়ে কেন্দুয়ায় পৌঁছান এবং রাতে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে কথিত স্বর্ণের বার দেখেন। সেখানে ৭০ ভরি স্বর্ণ ক্রয়ের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। লেনদেনের শর্ত অনুযায়ী তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও এটিএম বুথ থেকে মোট ২৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।

গত ৩০ মার্চ সকালে আসামিদের বাড়িতে গিয়ে নগদ টাকার বিনিময়ে পলিথিনে মোড়ানো কথিত স্বর্ণের বার বুঝে নেন আবু বকর। লেনদেন শেষে আসামিরা তাকে গাড়ির কাছে পৌঁছে দিয়ে দ্রুত সটকে পড়লে তার সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় এক স্বর্ণকার দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে তিনি জানতে পারেন, বারগুলো আসলে স্বর্ণ নয়, বরং পিতলের তৈরি। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের বাড়িতে ফিরে কাউকে খুঁজে পাননি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পরপরই অভিযানে নামে পুলিশ। 

কেন্দুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মিহির রঞ্জন দেব জানান, ইতোমধ্যে অভিযুক্ত সুজন মিয়া ও মিনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবু বকর বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাঁদে ফেলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। আমি এই জালিয়াতির সুষ্ঠু বিচার ও টাকা উদ্ধারের দাবি জানাই। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow