পুকুর খননে কমছে তিন ফসলি জমি, বাড়ছে জলাবদ্ধতা

নাটোরের সাত উপজেলাজুড়েই আবাদি জমিতে অব্যাহতভাবে চলছে পুকুর খনন। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত চার বছরে জেলায় আবাদি জমি কমেছে প্রায় ৪ হাজার ১৭০ হেক্টর। মাছ চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে তিন ফসলি জমিও কেটে তৈরি করা হচ্ছে পুকুর। এতে বিভিন্ন বিলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ কৃষক। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে সরকারি সড়ক, বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনাও। কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, নাটোরে গত সাত বছরে অন্তত চার হাজার হেক্টর আবাদি জমি কমে গেছে। এর দুই-তৃতীয়াংশই এখন পুকুর। বাকিটা বসতবাড়ি, ইটভাটা আর রাস্তা ঘাট। এ নিয়ে বেশ চিন্তিত কৃষি বিভাগ। নাটোর কৃষি বিভাগের হিসাবে, ২০০৫ থেকে ২০১২ সালের আগে পর্যন্ত আবাদি জমিতে পুকুর খনন সহনীয় মাত্রায় ছিল। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে এ প্রবণতা স্থানীয় কৃষকদেরও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নতুন পুকুর খনন করা হয়েছে ৯ হাজারের বেশি। ২০১১-১২ অর্থবছরে জেলায় আবাদি জমি ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৮ হেক্টর, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬৮ হেক্টরে। অর্থাৎ এই সাত বছরে কমেছে ৪ হাজার ১৭০ হেক্টর

পুকুর খননে কমছে তিন ফসলি জমি, বাড়ছে জলাবদ্ধতা

নাটোরের সাত উপজেলাজুড়েই আবাদি জমিতে অব্যাহতভাবে চলছে পুকুর খনন। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত চার বছরে জেলায় আবাদি জমি কমেছে প্রায় ৪ হাজার ১৭০ হেক্টর। মাছ চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে তিন ফসলি জমিও কেটে তৈরি করা হচ্ছে পুকুর। এতে বিভিন্ন বিলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ কৃষক। পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে সরকারি সড়ক, বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনাও।

কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, নাটোরে গত সাত বছরে অন্তত চার হাজার হেক্টর আবাদি জমি কমে গেছে। এর দুই-তৃতীয়াংশই এখন পুকুর। বাকিটা বসতবাড়ি, ইটভাটা আর রাস্তা ঘাট। এ নিয়ে বেশ চিন্তিত কৃষি বিভাগ।

নাটোর কৃষি বিভাগের হিসাবে, ২০০৫ থেকে ২০১২ সালের আগে পর্যন্ত আবাদি জমিতে পুকুর খনন সহনীয় মাত্রায় ছিল। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে এ প্রবণতা স্থানীয় কৃষকদেরও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নতুন পুকুর খনন করা হয়েছে ৯ হাজারের বেশি।

২০১১-১২ অর্থবছরে জেলায় আবাদি জমি ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৮ হেক্টর, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬৮ হেক্টরে। অর্থাৎ এই সাত বছরে কমেছে ৪ হাজার ১৭০ হেক্টর। এরপরে পুকুর খননের সংখ্যা আরও বেড়েছে। ফলে আবাদি জমি পুকুরে গিলে খাওয়ার কারণে মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের।

সরজমিনে দেখা যায়, নাটোরের বড়াইগ্রামের মৌখাড়া থেকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা অর্থাৎ ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত চার শতাধিক পুকুর চোখে পড়ে। পুকুর হওয়া এসব জমিতে এক সময় ব্যাপক রসুনের আবাদ করতেন কৃষকরা। কিন্তু রসুনসহ অন্যান্য আবাদ বাদ দিয়ে পুকুর খনন করেছে তারা। তাদের এই পুকুর খনন করার কারণে জলাবদ্ধ মারাত্মক রূপ নিয়েছে। অনেকে বসতবাড়ি মাটি দিয়ে উঁচু করতে হচ্ছে। বর্ষাকাল এলেই জলাবদ্ধতার শিকার হতে হয় তাদের।

মৌখড়া এলাকার সবেজান বেগম বলেন, ঘরের সঙ্গে জমির মালিক পুকুর খনন করেছে। বারবার বাধা দেওয়ার পরও সে কথা শুনেনি। বরং উল্টো হুমকি দিয়েছে। এখন বাধ্য হয়ে তার কাছ থেকে মাটি কিনে বাড়ি-ঘর উঁচু করছি। কারণ বর্ষাকাল এলেই ব্যাপক পরিমাণে জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়।

বড়াইগ্রামের জোয়াড়ী এলাকার অবৈধ পুকুর খননকারী খোরশেদ মন্ডল বলেন, ধান, রসুনসহ অন্যান্য ফসল করে তেমন লাভ হয় না। যার কারণে পুকুর খনন করে মাছ চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। পুকুর খনন করতে টাকাও লাগে না। ইটভাটার মালিকরা পুকুর খনন করে মাটি নিয়ে তারা ভাটায় চলে যায়। ফলে সহজেই পুকুর খনন করা যাচ্ছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির ও সচেতন নাগারিক কমিটি নাটোর শাখার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নাটোরে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল ও রাজনীতিবিদ ও মাটি খেকোদের একটি সিন্ডিকেট এই অবৈধ পুকুর কাটার সঙ্গে জড়িত। হাইকোর্ট থেকে নাটোরে পুকুর কাটা ও নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেটিও মানা হচ্ছে না। ফলে আমাদের আবাদি জমি নষ্টসহ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আমরা অবিলম্বে আবাদি জমিতে পুকুর খনন বন্ধসহ এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

গুরুদাসপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, চাপিলা ইউনিয়নে প্রায় চার হাজার পুকুর থাকার পরেও সেখানে আবাদি জমি নষ্ট করে নতুনভাবে পুকুর খননের মাধ্যমে কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই চাপিলা ইউনিয়নে প্রায় ছয়শ’ কৃষি জমি মাটি কাটা মেশিন দিয়ে খনন করে পুকুর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এলাকায় প্রভাবশালীদের কারণে অতিরিক্ত পুকুর খনন করায় দরিদ্র কৃষক পরিবার তাদের জমিতে ফসল চাষাবাদ করতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়াও বর্ষার সময়ে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে এলাকার নিচু জমি ও রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। এতে করে গুরুদাসপুর এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যহত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আসমা খাতুন বলেন আগামী দিনে নাটোর জেলায় আর একটি পুকুরও খনন হবে না। তিন ফসলি জমিতে যাতে আর একটি পুকুরও না হয় সেজন্য সাতটি উপজেলায় কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুকুর খননকারীদের কোন ছাড় হবে না।

তিনি আরও বলেন, পুকুর খননের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসব কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা সজাগ রয়েছি।

রেজাউল করিম রেজা/এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow