পুলিশ বনাম তরুণী: ঠিক যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি!

মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে বুধবার (২২ জুলাই) এক অভাবনীয় দৃশ্যের জন্ম দিয়েছেন ভারতের এক তরুণী। পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যান আটক বিক্ষোভকারীদের নিয়ে যাওয়ার সময় একাই তার সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। সাহসের সঙ্গে গাড়িটি আটকে আন্দোলনকারীদের মুক্ত করতে বাধ্য করেন ওই তরুণী। ভারতের এই দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে দু’বছর আগে বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় এক তরুণীর একাই পুলিশের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ার কথা। সেদিন তিনিও আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্ত করতে অসীম সাহসে একাই আটকে দিয়েছিলেন পুলিশের গাড়ি। আরও পড়ুন ভারতের আন্দোলনে ঠিক যেন বাংলাদেশের দৃশ্য! জানা যায়, মুম্বাইয়ে পুলিশের গাড়ি আটকানো ২৭ বছর বয়সী ওই তরুণীর নাম রিয়া আহিড়। পেশায় তিনি একজন মডেল। রিয়া সেদিন মুম্বাইয়ের দাদারের কোহিনুর স্কয়ার থেকে শিবাজি পার্কের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। পথে দেখতে পান আটক প্রতিবাদীদের নিয়ে একটি পুলিশ ভ্যান দাঁড়িয়ে রয়েছে। দৃশ্যটি দেখে স্থির থাকতে পারেননি তিনি। THIS IS PEAK COURAGE One fearless woman stood in front of a police can carrying detained protestors during Mumbai students protestShe refused

পুলিশ বনাম তরুণী: ঠিক যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি!

মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে বুধবার (২২ জুলাই) এক অভাবনীয় দৃশ্যের জন্ম দিয়েছেন ভারতের এক তরুণী। পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যান আটক বিক্ষোভকারীদের নিয়ে যাওয়ার সময় একাই তার সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। সাহসের সঙ্গে গাড়িটি আটকে আন্দোলনকারীদের মুক্ত করতে বাধ্য করেন ওই তরুণী।

ভারতের এই দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে দু’বছর আগে বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় এক তরুণীর একাই পুলিশের গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ার কথা। সেদিন তিনিও আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্ত করতে অসীম সাহসে একাই আটকে দিয়েছিলেন পুলিশের গাড়ি।

জানা যায়, মুম্বাইয়ে পুলিশের গাড়ি আটকানো ২৭ বছর বয়সী ওই তরুণীর নাম রিয়া আহিড়। পেশায় তিনি একজন মডেল।

রিয়া সেদিন মুম্বাইয়ের দাদারের কোহিনুর স্কয়ার থেকে শিবাজি পার্কের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। পথে দেখতে পান আটক প্রতিবাদীদের নিয়ে একটি পুলিশ ভ্যান দাঁড়িয়ে রয়েছে। দৃশ্যটি দেখে স্থির থাকতে পারেননি তিনি।

রিয়া জানান, ভ্যানটি সামনে থেকে পেছন পর্যন্ত মানুষে ভরা ছিল। দাঁড়িয়ে থাকার মতো একটু জায়গাও ছিল না সেখানে।

অহেতুক আন্দোলনকারীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বুঝতে পেরে রিয়া আর দেরি করেননি। তিনি সরাসরি গিয়ে গাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। রিয়া বলেন, আন্দোলনকারীদের স্লোগান তাকে টেনেছিল। তিনি ভেবেছিলেন, বিক্ষোভে যোগ দিতে যখন এসেছেন, তখন লড়াইটা এখান থেকেই শুরু হওয়া উচিত। আটকে রাখা মানুষকে এভাবে নিয়ে যেতে দেওয়া যায় না।

এর পরপরই পুলিশের সঙ্গে তার তীব্র বাক্যবিনিময় হয়। পুলিশ প্রথমে দাবি করেছিল, কিছুদূর যাওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু রিয়া সেই অজুহাত মেনে নেননি। তিনি পুলিশকে স্পষ্টভাবে জানান, ছেড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকলে এখনই সবাইকে ছেড়ে দিতে হবে।

সাহসী ভঙ্গিতে দাঁড়ালেও রিয়া ভেতরে ভেতরে বেশ নার্ভাস ছিলেন। নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার সময় ভেতরে তিনি কাঁপছিলেন। তবে নিজের ভয়ের চেয়ে ন্যায়ের প্রতি বিশ্বাসটাই সেখানে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি জানতেন যে কাজটা তিনি করছেন, সেটি একদম সঠিক।

তরুণীকে সরাতে পুলিশ প্রথমে গাড়িটি সামান্য সামনে এগিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু রিয়া একচুলও নড়েননি। শেষ পর্যন্ত তরুণীর অনড় অবস্থানের কাছে নতি স্বীকার করে পুলিশ। ভ্যানে থাকা সব আন্দোলনকারীকে তারা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

মুক্ত হয়ে ভ্যান থেকে নেমে আসা মানুষগুলো তাকে ধন্যবাদ জানান এবং করমর্দন করেন। অনেকে তাকে ভালোবেসে প্রসংশায় ভাসান। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে রিয়ার ভিডিও। রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যান তিনি।

নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রিয়া বলেন, তিনি বিখ্যাত হওয়ার জন্য কিছু করেননি। এক অবলা দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে থাকা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তিনি জানতেন তাদের নিয়ে গেলে এফআইআর দেওয়া হতো। সেই মুহূর্তে কিছু না করলে একজন নাগরিক হিসেবে তিনি নিজের কাছেই ব্যর্থ হয়ে যেতেন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow