পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমান্তবাসী
সম্প্রতি ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলা ভাষাভাষী লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ঘটনায় দেশব্যাপী উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভারত সীমান্ত ঘেঁষা শেরপুর জেলার বিভিন্ন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সীমান্তবাসীও। শেরপুরের তিনটি উপজেলা শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী ভারতের মেঘালয় ঘেঁষা। এ তিনটি উপজেলার সীমান্তজুড়েই গারো পাহাড়। ময়মনসিংহ ৩৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবির আওতাধীন শেরপুরের ৮টি বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) এলাকার ৪২ কিলোমিটার সীমান্তে জোরদার করা হয়েছে বাড়তি সতর্কতা ও নিরাপত্তা। বিজিবির সদস্যরা রাত-দিন সীমান্তে টহল দিচ্ছেন। তারা যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বিজিবির পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্থানীয়দের শূন্যরেখায় প্রবেশ না করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তের প্রতিটি বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) থেকে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দিন-রাত বিশেষ কৌশলগত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের পাশাপা
সম্প্রতি ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলা ভাষাভাষী লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ঘটনায় দেশব্যাপী উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভারত সীমান্ত ঘেঁষা শেরপুর জেলার বিভিন্ন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সীমান্তবাসীও।
শেরপুরের তিনটি উপজেলা শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী ভারতের মেঘালয় ঘেঁষা। এ তিনটি উপজেলার সীমান্তজুড়েই গারো পাহাড়। ময়মনসিংহ ৩৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবির আওতাধীন শেরপুরের ৮টি বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) এলাকার ৪২ কিলোমিটার সীমান্তে জোরদার করা হয়েছে বাড়তি সতর্কতা ও নিরাপত্তা। বিজিবির সদস্যরা রাত-দিন সীমান্তে টহল দিচ্ছেন। তারা যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বিজিবির পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্থানীয়দের শূন্যরেখায় প্রবেশ না করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তের প্রতিটি বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) থেকে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দিন-রাত বিশেষ কৌশলগত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে যৌথ টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে বিজিবি সদস্যরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করছেন। কোনো অপরিচিত ব্যক্তির চলাচল, সন্দেহজনক কার্যক্রম বা পুশ-ইনের সম্ভাব্য তথ্য চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা বাহিনীর সদস্যদের অবহিত করতে বলছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাওয়াকুচা বিওপি এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে সন্ধ্যার পর অন্ধকারে বিশেষ করে যখন ভারী বৃষ্টিপাত হয় তখন বিজিবি সদস্যদের পাহাড় বেয়ে টহল অভিযান পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর হয়। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে থাকেন, বিজিবির যেকোনো আহ্বানে তারা সাড়া দিবেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে অনানুষ্ঠানিক পাহারা দল গঠন করা হয়েছে। রাতে এসব দল সীমান্তবর্তী গ্রামে টহল এবং দিনে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে বিজিবিকে খবর দিচ্ছে।
ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, এমনিতেই দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান দমনে দিনরাত হাই ভলিউম কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয় বিজিবিকে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধ তাদের নিয়মিত কাজ। সেখানে এখন যোগ হয়েছে পুশ-ইন প্রতিহত করা। এখন পর্যন্ত শেরপুর সীমান্ত দিয়ে কোনো পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি। সম্ভাব্য পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নাঈম ইসলাম/এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?