পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল

সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (০৮ এপ্রিল) এ তথ্য জানান তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত থাকলে হাইকোর্ট সার্টিফিকেট দিতে পারে। আমরা সংবিধানের ব্যাখ্যার জন্য সেই সার্টিফিকেট চেয়েছিলাম। তাই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আপিল বিভাগে হওয়াই সমীচীন। রাষ্ট্রের পক্ষে আমাদের অবস্থান হলো, যেহেতু সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয় জড়িত, সেহেতু দ্রুতই আপিল করা হবে। আপিল চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত হাইকোর্টের এই রায়ের কার্যকারিতা থাকবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ‘যেহেতু বিষয়টি আপিলের চূড়ান্ত বিবেচনায় নিষ্পত্তি হবে আপিল বিভাগে, আমার দৃষ্টিতে এই রায়ের কার্যকারিতাটা এখন থেকেই আসছে না। এটা চূড়ান্ত বিবেচনায় নিষ্পতির পরে এই রায়ের কার্যকারিতা আসবে।’ সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবীর করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ

পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল

সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (০৮ এপ্রিল) এ তথ্য জানান তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত থাকলে হাইকোর্ট সার্টিফিকেট দিতে পারে। আমরা সংবিধানের ব্যাখ্যার জন্য সেই সার্টিফিকেট চেয়েছিলাম। তাই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আপিল বিভাগে হওয়াই সমীচীন। রাষ্ট্রের পক্ষে আমাদের অবস্থান হলো, যেহেতু সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয় জড়িত, সেহেতু দ্রুতই আপিল করা হবে।

আপিল চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত হাইকোর্টের এই রায়ের কার্যকারিতা থাকবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ‘যেহেতু বিষয়টি আপিলের চূড়ান্ত বিবেচনায় নিষ্পত্তি হবে আপিল বিভাগে, আমার দৃষ্টিতে এই রায়ের কার্যকারিতাটা এখন থেকেই আসছে না। এটা চূড়ান্ত বিবেচনায় নিষ্পতির পরে এই রায়ের কার্যকারিতা আসবে।’

সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবীর করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর এক রায় ঘোষণা করেন। সে রায়ে বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

রায়ের কার্যকারিতা এবং বর্তমানে সংসদে থাকা অধ্যাদেশ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এই চূড়ান্ত রায়টি প্রকাশিত হয়েছে গতকাল, অর্থাৎ এপ্রিল মাসের ৭ তারিখে। রায়টি ঘোষিত হয়েছে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫। যে কোনো রায় যখন ঘোষণা করা হয়, তখন কিন্তু তার কার্যকারিতা যখন চূড়ান্ত রায় প্রকাশিত হয় তার পর থেকে কার্যকর হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে আমরা দেখেছি চূড়ান্ত রায়টি প্রকাশিত হওয়ার আগেই একটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। এবং সেই অধ্যাদেশটি বর্তমানে আমাদের জাতীয় সংসদে বিবেচনাধীন আছে। সুতরাং, এই রায়ের পরপরই কিংবা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই অধ্যাদেশ জারির যে বিষয়টি, সেটি হচ্ছে সংসদের কাছে এখন বিবেচ্য রয়েছে। সংসদ তার স্বীয় বিবেচনায় স্বাধীন, স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যেই সরকারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকবে বলে আমরা জানতে পেরেছি।’

এদিকে, রায় নিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূইয়া বলেন, এটা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ রায় এবং আমি আশা করব যে এই রায়টা আপিল বিভাগেও বহাল থাকবে। আর সেটা যদি থাকে, তাহলে আমরা বলব একটা ঐতিহাসিক অর্জন হয়েছে বাংলাদেশের জন্যে। কারণ বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল যে বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে। আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্যে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের কাছে থাকা অপরিহার্য এবং আমাদের বাহাত্তরের সংবিধানে তাই ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবিধান সংশোধন করে এই কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্ট থেকে নিয়ে নেওয়া হয় এবং এটা নির্বাহী বিভাগের কাছে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে কর্তৃত্ব আবার সুপ্রিম কোর্টের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই রায়ে নির্বাহী বিভাগকে, বিশেষভাবে আইন মন্ত্রণালয়কে একটা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন একটা স্বতন্ত্র বিচার বিভাগের জন্য সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। সম্প্রতি গত নভেম্বর মাসে এই সচিবালয় কিন্তু প্রতিষ্ঠাও করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, অধস্তন আদালতের উপর যদি সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে হয়, তাহলে একটা প্রশাসনিক, প্রাতিষ্ঠানিক একটা ব্যবস্থা লাগবে। স্বতন্ত্র সচিবালয়টাই সেই ব্যবস্থা। যদি একটা স্বতন্ত্র সচিবালয় না হয়, তাহলে তো এই কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।

পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতকরণের জন্য সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এমন অবস্থায় আসলে কোনো জটিলতা তৈরি করবে এমন প্রশ্নের জবাবে শরীফ ভূইয়া বলেন, হ্যাঁ, কিছুটা জটিলতা এতে তৈরি হবে। এবং এতে করে আমি বেশ খানিকটা হতাশও। এটা কিন্তু বিএনপিরও রাজনৈতিক কমিটমেন্ট ছিল যে অধস্তন আদালতকে স্বাধীন করা হবে এবং এর নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের কাছে থাকবে। তো কাজেই ওনারাও তো খানিকটা ওনাদের কমিটমেন্ট থেকে সরে এসছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow