পৃথিবীর যে জায়গায় মেসিকে শুধু ‘লিও’ নামেই চেনে সবাই

কখনও কখনও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গল্পগুলো শুরু হয় পৃথিবীর একেবারে সাধারণ কোনো ঠিকানা থেকে। ইট-সিমেন্টের ছোট্ট একটি বাড়ি, সরু একটি রাস্তা, আশপাশের পরিচিত মুখ আর শৈশবের হাসি- সেখান থেকেই জন্ম নেয় এমন একজন, যার নাম একদিন কোটি কোটি মানুষের আবেগ হয়ে ওঠে। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের লাভালেখার ৫২৫ নম্বর বাড়িটি ঠিক তেমনই একটি ঠিকানা। বিশ্বজুড়ে তিনি লিওনেল মেসি, কিন্তু এই বাড়ির আশপাশে তিনি এখনও শুধুই- ‘লিও’। সান্তা ফে প্রদেশের রোজারিও শহরের লাভালেখা ৫২৫ নম্বর বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক এবং অনেকের মতে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন এই বাড়িতেই পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন মেসি। কাকতালীয়ভাবে, তার জন্ম হয়েছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর ঠিক ৩৬৭ দিন পরে। আর ৪০ বছর পর ইতিহাস যেন নিজেকেই আবার নতুন করে লিখল- ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও একই প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার মতোই মেসিও ছিলেন ম্যাচের সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলার, দুটি অ্য

পৃথিবীর যে জায়গায় মেসিকে শুধু ‘লিও’ নামেই চেনে সবাই

কখনও কখনও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গল্পগুলো শুরু হয় পৃথিবীর একেবারে সাধারণ কোনো ঠিকানা থেকে। ইট-সিমেন্টের ছোট্ট একটি বাড়ি, সরু একটি রাস্তা, আশপাশের পরিচিত মুখ আর শৈশবের হাসি- সেখান থেকেই জন্ম নেয় এমন একজন, যার নাম একদিন কোটি কোটি মানুষের আবেগ হয়ে ওঠে।

আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের লাভালেখার ৫২৫ নম্বর বাড়িটি ঠিক তেমনই একটি ঠিকানা। বিশ্বজুড়ে তিনি লিওনেল মেসি, কিন্তু এই বাড়ির আশপাশে তিনি এখনও শুধুই- ‘লিও’।

সান্তা ফে প্রদেশের রোজারিও শহরের লাভালেখা ৫২৫ নম্বর বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক এবং অনেকের মতে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।

১৯৮৭ সালের ২৪ জুন এই বাড়িতেই পৃথিবীর আলো দেখেছিলেন মেসি। কাকতালীয়ভাবে, তার জন্ম হয়েছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর ঠিক ৩৬৭ দিন পরে। আর ৪০ বছর পর ইতিহাস যেন নিজেকেই আবার নতুন করে লিখল- ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও একই প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার মতোই মেসিও ছিলেন ম্যাচের সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলার, দুটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

মেসির জন্মভিটা দেখতে গিয়ে টওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিকের দেখা হয় স্থানীয় বাসিন্দা পাবলোর সঙ্গে। ছেলেকে নিয়ে সাইকেলে যাচ্ছিলেন তিনি, দুজনের গায়েই ছিল লিওনেস দে রোজারিও ক্লাবের জার্সি- যে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেছে মেসির পরিবার।

হাসিমুখে পাবলো বলেন, ‘আমি লিওকে বড় হতে দেখেছি।’

তিনি জানান, মেসির বড় ভাই রদ্রিগোর সঙ্গে একই স্কুলে পড়েছেন এবং মাঝের ভাই মাতিয়াসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু তিনি। এমনকি মেসির পরিবারের কারণেই এখন লিওনেস ক্লাবে কাজ করছেন।

মেসির বাড়ি থেকে অল্প দূরেই রয়েছে লা বাজাদা, ছোট্ট একটি মাঠ, যেখানে শিশুকালেই নিজের অসাধারণ প্রতিভার ঝলক দেখাতে শুরু করেছিলেন লিও।

পাবলো স্মৃতিচারণ করে বলেন, `আমি ভাবিনি সে এত বড় হবে। তবে ছোটবেলা থেকেই বুঝতাম, সে আমাদের সবার চেয়ে আলাদা।’

হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তখন ১৫ বছরের, আর লিওর বয়স সাত। দল ভাগ করার সময় আমরা ইচ্ছে করেই নিয়ম ভেঙে তাকে নিজেদের দলে নিতাম।’

মেসির ছোটবেলার লড়াকু মানসিকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ‘ওকে ফাউল করে মাটিতে ফেলে দিলেও, পড়তে পড়তেই আবার বল কেড়ে নিত। তখন রাগে মনে হতো, আরেকবার ধাক্কা দিই!’

কথা শেষ করে ছেলেকে নিয়ে আবার সাইকেলে চেপে চলে যান পাবলো। আর রোজারিওর সেই ছোট্ট পাড়াটি যেন আজও আগের মতোই আছে।

বিশ্বজুড়ে তিনি কোটি মানুষের কাছে কিংবদন্তি, সর্বকালের সেরা ফুটবলার, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক। কিন্তু লাভালেখা ৫২৫ নম্বর বাড়ির আশপাশে তিনি এখনও সেই আগের মানুষটাই- জর্জ ও সেলিয়া মারিয়ার ছেলে, রদ্রিগো, মাতিয়াস ও মারিয়া সলের ভাই, আর সবার প্রিয় ‘লিও’।

আরআর/আইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow