পে স্কেল নিয়ে সরকার কী ভাবছে?

দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কাঠামো তথা নতুন (৯ম) পে-স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ চলছে। বর্তমানে এটি প্রস্তাবনা ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশে পে-স্কেল বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নবম পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের ইতিবাচক ভাবনা রয়েছে, তবে এটি বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার বর্তমান অর্থনৈতিক ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা বিবেচনায় ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে, যদিও সরকারি কর্মচারীরা দ্রুত বাস্তবায়ন ও বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়ে আসছেন। অবশ্য সেই প্রস্তাব রিভিউ করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে সংসদের কার্যপ্রণালি প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পে স্কেল বাস্তবায়নের আশ্

পে স্কেল নিয়ে সরকার কী ভাবছে?

দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কাঠামো তথা নতুন (৯ম) পে-স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষে কাজ চলছে। বর্তমানে এটি প্রস্তাবনা ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশে পে-স্কেল বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নবম পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের ইতিবাচক ভাবনা রয়েছে, তবে এটি বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার বর্তমান অর্থনৈতিক ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা বিবেচনায় ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে, যদিও সরকারি কর্মচারীরা দ্রুত বাস্তবায়ন ও বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

অবশ্য সেই প্রস্তাব রিভিউ করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে সংসদের কার্যপ্রণালি প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে।

তবে আশার কথা হচ্ছে, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পে স্কেল বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন; সেহেতু সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন এই বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে হলেও বাস্তবায়ন হবে— এমনটি মনে করছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সব সুপারিশ এখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে সময় নিয়ে এগোতে চায় সরকার বলেও উল্লেখ করেন তারা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান এবং পে কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান। যদিও সরকারি সূচিতে উল্লেখ ছিল, তিনি পিকেএসএফ চেয়ারম্যান হিসেবে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, তবে বৈঠকে পে কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পে-স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশ ভালোভাবে পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেখতে হবে মোট অ্যামাউন্ট কত। এটা কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেগুলো দেখতে হবে। বর্তমান আর্থিক অবস্থায় যেখানে বাংলাদেশের ট্যাক্স রেভিনিউ, ট্যাক্স জিডিপি রেশিও সবচেয়ে খারাপ, এমনকি দক্ষিণ এশিয়াতে সবচেয়ে খারাপ। এসব দেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কতটুকু কখন কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। সেটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব।’

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছর ২০২৬–২৭ থেকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাব থাকলেও বাস্তবে তা কতটা সম্ভব হবে, এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ বর্তমানে সরকারের আর্থিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটও দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তবে পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক এমন পরিস্থিতি তৈরিও করতে চায় না সরকার। ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত পে স্কেল রিভিউও করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের আর্থিক সংকট আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে।

জানা গেছে, রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার একটি কমিশন গঠন করেছিল। তবে আর্থিক সংকটের কারণে নির্বাচনের আগে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এটি বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

পে কমিশন তাদের প্রতিবেদনে একটি নতুন বেতনকাঠামোর সুপারিশ জমা দিয়েছে, যা বর্তমানে সরকারের কাছে রয়েছে। যদিও এটি পর্যালোচনা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বাজেট প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হতে পারে।

পে কমিশন তাদের প্রতিবেদনে একটি নতুন বেতনকাঠামোর সুপারিশ জমা দিয়েছে, যা বর্তমানে সরকারের কাছে রয়েছে। যদিও এটি পর্যালোচনা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বাজেট প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হতে পারে।

দায়িত্ব ছাড়ার আগে তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেলিন, ‘কমিশন যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সেটা বাস্তবসম্মত। আমরা এটা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত সরকারের হাতে দিয়ে যাচ্ছি। আশা করি সরকার সেটা বিবেচনা করবে। এ ক্ষেত্রে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল সময়োপযোগী একটি বেতনকাঠামো ঘোষণা করা।’ 

এদিকে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পে স্কেল নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে যেহেতু সামনে অধিবেশন রয়েছে, তাই সেটা সংসদে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেয়।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow