পেসারদের নেতৃত্বের বাধা দেখেন না সুজন

16 hours ago 9
এক সংবাদ সম্মেলনের পর তাসকিন আহমেদের উদ্দেশে এক সংবাদকর্মী বলে উঠলেন, ‘প্যাট তাসকিন’। অর্থাৎ প্যাট শব্দটা আনলেন প্যাট কামিন্স থেকে—যিনি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক। তাসকিনকেও একই রোলে দেখা যাবে কি না—এমন কিছু বুঝাতেই তাসকিনের সঙ্গে এই রসিকতা। তাসকিনও বুঝতে পেরে অট্ট হেসে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কেননা অধিনায়কত্বের বিষয়টি পুরোপুরিভাবে বোর্ডের ব্যাপার। সেখানে তাসকিন ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ বেশি বলতেও পারবেন না। অনেকদিন কেটে যাওয়ার পর এখন আবার সেই আলোচনায় তাসকিন। নাজমুল হোসেন শান্ত টি-টোয়েন্টি সংস্করণের নেতৃত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন, এমন খবরেই পত্রিকার শিরোনামে এখন তাসকিনের নাম। আলোচনায় আছেন লিটন দাসও। কিন্তু তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্য নেতৃত্ব পাওয়া নিয়ে শঙ্কা আছে অভিজ্ঞ এই ওপেনারের। সেক্ষেত্রে বেশি সুযোগ তাসকিনেরই দেখছেন অনেকেই। কিন্তু পেসার হওয়াতে নেতৃত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে যে একটা ভয়ের সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে, সেটা উড়িয়ে দিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন। শনিবার (০৫ এপ্রিল) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপা কালে সুজন বলেন, ‘পেস বোলাররা অধিনায়কত্ব করতে পারবেন না এই কথাটা একদম ঠিক না।’ উদাহরণ হিসেবে সুজন সামনে আনলেন পাকিস্তানের দুই কিংবদন্তি পেসার ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম ও ইংলিশ কিংবদন্তি পেসার ইয়ান বোথামের নেতৃত্বের কথা, ‘ওয়াসিম আকরাম পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইমরান খান দিয়েছেন, ইয়ান বোথাম দিয়েছেন। তারা অলরাউন্ডার ছিলেন যদিও এটা বলতেই পারেন।’ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার পর আর কোনো পেসারকেই অধিনায়ক হিসেবে নেয়নি বিসিবি। অবশ্য এর জন্য কিছু কারণ ছিল নেতৃত্বের গুণাবলির ঘাটতি ও চোটের ভয়। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে তাসকিন নিজেকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ে নেতৃত্বের সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি। চোট থেকে বাঁচতেও তার ফিটনেস পদ্ধতি এখন প্রশংসনীয়। আর তা ছাড়াও চোটে পড়লে তখন ভাইস ক্যাপ্টেন বিষয়টি সামলে নেবেন বলে মত সুজনের। তাইতো নেতৃত্বের গুণাবলি থাকলে তাসকিনকে অধিনায়ক করতে চাইলে সমস্যা দেখেন না জাতীয় দলের সাবেক পেসার সুজন, ‘যদি তাসকিনের ইনজুরি হয়, অধিনায়কত্ব করতে না পারে—তো দলে একজন ভাইস ক্যাপ্টেন থাকবেন সে চালিয়ে নিবে। এটা তো আসলে বোর্ডের ব্যাপার। পেসাররা অধিনায়কত্ব করতে পারবে না, এটা ভুল কথা। নলেজ থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ, তাসকিনের মধ্যে অধিনায়কত্ব ম্যাটেরিয়ালন্স আছে কিনা এটা গুরুত্বপূর্ণ।’ অবশ্য অতীতে অধিনায়ক ঘিরে নানা সমালোচনাও দেখা গেছে। নুরুল হাসান সোহানকে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে সহ-অধিনায়ক করা হলেও পরে দেখা গেছে দলেই নেই তিনি। তাইতো সিদ্ধান্তটা বিসিবিকে নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বোর্ডের সিদ্ধান্ত তাকে দলে নিবে কি নিবে না, আগে চিন্তা করতে হবে। যদি দলে না থাকে তাহলে অধিনায়কত্ব কিভাবে দেবেন। আগে সে দলে ফিরুক, আমি মনে করি লিটন এখনো বাংলাদেশের টপ ব্যাটারদের একজন। খারাপ সময় মানুষের থাকতেই পারে।’ নেতৃত্ব দিতে গেলে পেসার কোনো সমস্যা না মনে করেন জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুও, ‘প্রথমত আপানার নেতৃত্বের গুণাবলি থাকতে হবে। এরপর বোর্ড যদি মনে করে আপনি নেতৃত্ব দিতে সক্ষম; তখনই একজন পেসার জাতীয় দলের অধিনায়ক হতে পারেন।’ এখানে পেসার বলে কোনো বাধা নেই বলেও জানান লম্বা সময় জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের ভূমিকায় থাকা নান্নু।
Read Entire Article