পোশাক শিল্পের উদ্ভাবনী বার্তা নিয়ে এক যুগ পর ফিরছে বাটেক্সপো
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ট্রেড শো বাংলাদেশ অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সপোজিশন (বাটেক্সপো)। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক পোশাক ও বস্ত্র প্রদর্শনী ফিরছে দীর্ঘ এক যুগ পর। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্পকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম এ প্রদর্শনী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা এ প্রদর্শনীতে অংশ নেন। গত এক দশকে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার, পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এই এ খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা বৈশ্বিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরবে বিজিএমইএ। আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে বসছে বাটেক্সপোর পরবর্তী আসর। সবশেষ ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে এ ট্রেড শো অনুষ্ঠিত হয়। আরও পড়ুন পোশাকশিল্পের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পোশাক খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশকে একটি পছন্দের গ্লোবাল সোর্সিং হাব হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এ এক্সপোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে। ১৯৮৯ সালে প্রথমবারের মতো বিজিএমইএ এ আয়োজন শুরু করে। সে সময় দেশের তৈরি পোশাক শিল্প মূলত বিকাশের পর্
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ট্রেড শো বাংলাদেশ অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল এক্সপোজিশন (বাটেক্সপো)। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক পোশাক ও বস্ত্র প্রদর্শনী ফিরছে দীর্ঘ এক যুগ পর।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্পকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম এ প্রদর্শনী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা এ প্রদর্শনীতে অংশ নেন।
গত এক দশকে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার, পণ্যের বৈচিত্র্য ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এই এ খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা বৈশ্বিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরবে বিজিএমইএ। আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে বসছে বাটেক্সপোর পরবর্তী আসর। সবশেষ ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে এ ট্রেড শো অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের পোশাক খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশকে একটি পছন্দের গ্লোবাল সোর্সিং হাব হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এ এক্সপোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে।
১৯৮৯ সালে প্রথমবারের মতো বিজিএমইএ এ আয়োজন শুরু করে। সে সময় দেশের তৈরি পোশাক শিল্প মূলত বিকাশের পর্যায়ে ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে পরিচিত করা, বিদেশি ক্রেতা আকৃষ্ট করা, রপ্তানি বাড়ানো ও মেইড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
২০১৩ সালে ২৪তম আসরের পর আর বাটেক্সপো অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে বর্তমান সভাপতির উদ্যোগে এক যুগের কিছু বেশি সময় পর বাটেক্সপো আয়োজন করতে যাচ্ছে বিজিএমইএ।
বুধবার (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতির জন্য বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাটেক্সপো আয়োজনের প্রচলিত ধারা থেকে এবার আমরা বেরিয়ে আসতে চাই, যেখানে আগে ফ্যাশন শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মতো বিভিন্ন বিষয় থাকতো। এবার আমরা গত এক দশকে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অর্জনগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরবো।’
এর মধ্যে টেকসই উৎপাদন, সার্কুলার ইকোনমি, গ্রিন ম্যানুফ্যাকচারিং, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার ও পণ্য উন্নয়নে উদ্ভাবনের অগ্রগতি থাকবে বলে জানান তিনি।
এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাটেক্সপো আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এ প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সংগঠনটি।
সফটেক্স কটন (প্রাইভেট) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক খাতের সক্ষমতা, নিরাপত্তা, টেকসই উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সেমিনার, আলোচনা ও জ্ঞানভিত্তিক আয়োজনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।’
বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বাজারে এখনো কিছু নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। অনেকের কাছে বাংলাদেশকে শুধু কম দামের পোশাক উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে দেখা হয়। এই ধারণা পরিবর্তন করে বাংলাদেশ যে উচ্চমানের, নিরাপদ ও টেকসই পোশাক উৎপাদনে সক্ষম, সেটি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই এবারের বাটেক্সপোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে বলে জানান সেলিম।
এবার আমরা এমন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানাতে চাই, যারা এখনো বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পোশাক কেনে না। এজন্য সেপ্টেম্বরের দিকে বিশেষ আমন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, স্টেকহোল্ডার ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।-বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কারখানা এখন পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে এগিয়ে রয়েছে। লিড, প্লাটিনাম, গোল্ড ও সিলভার রেটিং পাওয়া অনেক সবুজ কারখানা বাংলাদেশে রয়েছে। এছাড়া পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা, সাসটেইনেবিলিটি ও সার্কুলারিটি নিয়েও এবারের আয়োজনের সেমিনারগুলোতে আলোচনা হবে।
‘এবার আমরা এমন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানাতে চাই, যারা এখনো বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পোশাক কেনে না। এজন্য সেপ্টেম্বরের দিকে বিশেষ আমন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, স্টেকহোল্ডার ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে,’ বলেন তিনি।
সেলিম দাবি করেন, `বাংলাদেশকে ‘সস্তা পোশাকের দেশ’ নয়, বরং গুণগত মানসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল পোশাক উৎপাদনের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই বাটেক্সপোর মূল উদ্দেশ্য। দেশের পোশাক খাতের ওপর আস্থা বাড়ানো এবং নতুন ক্রেতা ও বাজার তৈরি করতেই এ আয়োজন করা হচ্ছে।'
রানা প্লাজা ভবন ধসের পর কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর পোশাক শিল্প আন্তর্জাতিক ক্রেতা, উন্নয়ন সহযোগী এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে।
পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নীতিমালা ও বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এদিকে সবুজ উৎপাদন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে দেশের পোশাক শিল্পে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সংখ্যক লিড সনদপ্রাপ্ত সবুজ কারখানা রয়েছে। ফলে বিশ্বের পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন অন্যতম নিয়মানুবর্তী ও টেকসই উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
‘আমরা এখন শুধু কমপ্লায়েন্স ও টেকসই উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পরিবেশ সুরক্ষা ও শ্রমিকদের কল্যাণ- উভয় বিষয়কেই আমরা আমাদের কার্যক্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছ,’ বলেন রেজওয়ান সেলিম।
শিল্পখাতের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ২৮৪টি তৈরি পোশাক কারখানা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) সনদপ্রাপ্ত সবুজ কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মধ্যে ১২১টি কারখানা প্লাটিনাম, ১৪৪টি কারখানা গোল্ড, ১৫টি কারখানা সিলভার ও ৪টি কারখানা বেসিক পর্যায়ের সনদ অর্জন করেছে।
বাটেক্সপোতে দেশীয় পোশাক প্রস্তুতকারক, টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান, সরবরাহকারী, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নিতেন। এটি ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
আইএইচও/এএসএ
What's Your Reaction?



