প্রতিদিন সকালে লবঙ্গ খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে

রান্নাঘরের পরিচিত একটি মসলা হলো লবঙ্গ। বহুদিন থেকে বিরিয়ানি, পোলাও কিংবা চায়ের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে এটি ব্যবহার করা হয়। তবে শুধু রান্নার উপাদান হিসেবেই নয়, লবঙ্গের রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগুণও। আধুনিক গবেষণাতে লবঙ্গের কিছু উপকারী উপাদানের কথা উঠে এসেছে। অনেকেই সকালে খালি পেটে দুটি লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন। যদিও এটি কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়, তবে পরিমিত পরিমাণে লবঙ্গ খেলে শরীরের কিছু উপকার মিলতে পারে। তবে যাদের বিশেষ শারীরিক সমস্যা রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তারা নিয়মিত লবঙ্গ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন কে এবং অল্প পরিমাণে ভিটামিন সি। এছাড়া এতে থাকা ‘ইউজেনল’নামের প্রাকৃতিক যৌগই এর বেশিরভাগ স্বাস্থ্যগুণের জন্য দায়ী। ইউজেনলের রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য। দাঁতের ব্যথা ও মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়ক লবঙ্গের সবচেয়ে পরিচিত ব্যবহার দাঁতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা ইউজেনল সাময়িকভাবে ব্যথা কমাতে পারে। এ কারণেই অনেক টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশ তৈরিতে লবঙ্গের নির্যাস ব্য

প্রতিদিন সকালে লবঙ্গ খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে

রান্নাঘরের পরিচিত একটি মসলা হলো লবঙ্গ। বহুদিন থেকে বিরিয়ানি, পোলাও কিংবা চায়ের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে এটি ব্যবহার করা হয়। তবে শুধু রান্নার উপাদান হিসেবেই নয়, লবঙ্গের রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগুণও। আধুনিক গবেষণাতে লবঙ্গের কিছু উপকারী উপাদানের কথা উঠে এসেছে।

অনেকেই সকালে খালি পেটে দুটি লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন। যদিও এটি কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়, তবে পরিমিত পরিমাণে লবঙ্গ খেলে শরীরের কিছু উপকার মিলতে পারে। তবে যাদের বিশেষ শারীরিক সমস্যা রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তারা নিয়মিত লবঙ্গ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন কে এবং অল্প পরিমাণে ভিটামিন সি। এছাড়া এতে থাকা ‘ইউজেনল’নামের প্রাকৃতিক যৌগই এর বেশিরভাগ স্বাস্থ্যগুণের জন্য দায়ী। ইউজেনলের রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য।

দাঁতের ব্যথা ও মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়ক

লবঙ্গের সবচেয়ে পরিচিত ব্যবহার দাঁতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা ইউজেনল সাময়িকভাবে ব্যথা কমাতে পারে। এ কারণেই অনেক টুথপেস্ট ও মাউথওয়াশ তৈরিতে লবঙ্গের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি এটি মুখের দুর্গন্ধ কমাতেও সহায়ক।

jago

হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে

যাদের গ্যাস, বদহজম বা পেট ফাঁপার সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য পরিমিত লবঙ্গ উপকারী । এটি হজমে সহায়ক কিছু এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে খাবার হজম সহজ হয় এবং পেটে অস্বস্তি কমতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে

লবঙ্গে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি-র‌্যাডিকেলের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যও শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সুস্থ্য রাখে।

প্রদাহ ও জয়েন্টের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক

লবঙ্গের প্রদাহনাশক উপাদান শরীরের ফোলা ভাব ও জয়েন্টের অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ কারণে অনেক সময় লবঙ্গ তেল মালিশের জন্যও ব্যবহার করা হয়। তবে এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়।

সর্দি-কাশিতে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে

ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি, কাশি বা গলা খুসখুস করলে অনেকেই লবঙ্গ চিবিয়ে খান বা গরম পানিতে লবঙ্গ দিয়ে পানীয় তৈরি করেন। এর ঝাঁঝালো উপাদান গলায় আরাম দিতে এবং শ্বাসনালির অস্বস্তি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গের কিছু উপাদান রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প নয়। ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে।

ক্যানসার প্রতিরোধে

লবঙ্গে থাকা ইউজেনল একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেল কমাতে সাহায্য করে, যা কোষের ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদে কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষণাগারে করা কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ইউজেনল কিছু ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ধীর করতে পারে।

পাকস্থলীর সুরক্ষায় সহায়ক

লবঙ্গের নির্যাস পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক মিউকাস বা সুরক্ষামূলক স্তর তৈরিতে সাহায্য করতে পারে। এই স্তর পাকস্থলীর ভেতরের অংশকে অতিরিক্ত অ্যাসিডের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে আলসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে যদি কারও পেপটিক আলসার বা দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

যেভাবে খাওয়া যায়

লবঙ্গ সবচেয়ে সহজে রান্নার মসলা হিসেবেই খাওয়া যায়। তবে এর স্বাস্থ্যগুণ পেতে আরও কয়েকটি উপায়ে খেতে পারেন।

প্রতিদিন এক কাপ লবঙ্গের চা পান করতে পারেন। এর জন্য এক কাপ পানিতে ২-৩টি লবঙ্গ দিয়ে ৫-৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। চাইলে হালকা গরম অবস্থায় পান করুন। সর্দি-কাশি বা গলা খুসখুস করলে এটি কিছুটা আরাম দিতে পারে।

এছাড়া সকালে বা খাবারের পর ১-২টি লবঙ্গ ধীরে ধীরে চিবিয়েও খেতে পারেন। চাইলে অল্প লবণ মিশিয়েও খাওয়া যায়। তবে যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তারা অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলবেন।

লবঙ্গ উপকারী হলেও অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। বেশি পরিমাণে লবঙ্গ বা লবঙ্গ তেল গ্রহণ করলে পাকস্থলীর অস্বস্তি, অ্যালার্জি বা অন্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ভেরি ওয়েল মাইন্ড

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow