প্রবাসে আম্বিয়া বেগমের আলোকযাত্রা
গল্পটা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। প্রবাসের অচেনা হাওয়া আর যান্ত্রিক জীবনের মাঝে অনেকেই যখন খেই হারিয়ে ফেলে, তখন এক অদম্য নারী স্বপ্ন দেখেছিলেন অন্যকে পথ দেখানোর। আম্বিয়া বেগম জানতেন, পরবাসে নিজের শেকড়কে শক্ত করতে হলে দরকার ঐক্য আর সেবা। সেই শুরু থেকে আজ অবধি, নিউইয়র্কের প্রতিটি অলিগলি তার পরিশ্রমের সাক্ষী হয়ে আছে। ৬০ পেরোনো আম্বিয়া বেগমের হাতে যখন ক্যামেরা থাকে, তখন তিনি কেবল ছবি তোলেন না; তিনি প্রবাসের ইতিহাস ধরে রাখেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির আনন্দ-বেদনা, মিছিল কি উৎসব-সবই তার লেন্সের জাদুতে জীবন্ত হয়ে ওঠে। লেন্সের আড়ালে এক শিল্পী, আর সংগঠনের টেবিলে এক দক্ষ নেত্রী। ২০২৩ সাল থেকে ‘বাসা’ এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের এক সুতোয় বেঁধে রেখেছেন পরম মমতায়। ২০১৫ সালে তিনি অসহায় নারীদের জন্য স্বপ্ন দেখেছিলেন, যার নাম দেন ‘ইডিপি’। এটি কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি ছিল নারীদের জন্য আশ্রয়। কেউ সেখানে কম্পিউটার শিখছে, কেউ ফ্যাশন ডিজাইনের সুতোয় নিজের ভাগ্য বুনছে, আবার কেউ বিউটিফিকেশন বা কুকিং ক্লাসে খুঁজে নিচ্ছে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি। আম্বিয়া বেগম বিশ্বাস করেন, ‘একটি পরিবার তখনই হাসে, যখন সেই
গল্পটা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। প্রবাসের অচেনা হাওয়া আর যান্ত্রিক জীবনের মাঝে অনেকেই যখন খেই হারিয়ে ফেলে, তখন এক অদম্য নারী স্বপ্ন দেখেছিলেন অন্যকে পথ দেখানোর। আম্বিয়া বেগম জানতেন, পরবাসে নিজের শেকড়কে শক্ত করতে হলে দরকার ঐক্য আর সেবা। সেই শুরু থেকে আজ অবধি, নিউইয়র্কের প্রতিটি অলিগলি তার পরিশ্রমের সাক্ষী হয়ে আছে।
৬০ পেরোনো আম্বিয়া বেগমের হাতে যখন ক্যামেরা থাকে, তখন তিনি কেবল ছবি তোলেন না; তিনি প্রবাসের ইতিহাস ধরে রাখেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির আনন্দ-বেদনা, মিছিল কি উৎসব-সবই তার লেন্সের জাদুতে জীবন্ত হয়ে ওঠে। লেন্সের আড়ালে এক শিল্পী, আর সংগঠনের টেবিলে এক দক্ষ নেত্রী। ২০২৩ সাল থেকে ‘বাসা’ এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের এক সুতোয় বেঁধে রেখেছেন পরম মমতায়।
২০১৫ সালে তিনি অসহায় নারীদের জন্য স্বপ্ন দেখেছিলেন, যার নাম দেন ‘ইডিপি’। এটি কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি ছিল নারীদের জন্য আশ্রয়। কেউ সেখানে কম্পিউটার শিখছে, কেউ ফ্যাশন ডিজাইনের সুতোয় নিজের ভাগ্য বুনছে, আবার কেউ বিউটিফিকেশন বা কুকিং ক্লাসে খুঁজে নিচ্ছে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি। আম্বিয়া বেগম বিশ্বাস করেন, ‘একটি পরিবার তখনই হাসে, যখন সেই ঘরের নারী হাসতে শেখে।’
দেখতে দেখতে কেটে গেলো দশটি বছর। ২০২৫ সাল ছিল আম্বিয়া বেগমের জীবনের সেই স্মরণীয় অধ্যায়, যখন নিউইয়র্কের ব্যস্ত সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস স্বয়ং তার কাজের প্রশংসা করেন। মেয়রের সেই ‘প্রোক্লেমেশন’ আর জেনিফার রাজকুমারের সম্মাননা যেন আম্বিয়া বেগমের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই দীর্ঘ পথে আম্বিয়া বেগমের শরীর কখনো সায় দেয়নি, কখনো অসুস্থতা আঁকড়ে ধরেছে, কখনো ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তিনি থামেননি। ১১টি বছর ধরে তিনি নিউইয়র্ক সিটিতে এক আলোকবর্তিকা হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
আম্বিয়া বেগম আজ শুধু একজন সংগঠক নন; তিনি সেই সাহসী গল্প, যা প্রবাসের মাটিতে প্রতিটি বাঙালি নারীর মনে সাহস জোগায়। তিনি প্রমাণ করেছেন-ইচ্ছেশক্তি থাকলে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারেও নিজের নাম সোনার অক্ষরে খোদাই করা যায়।
এমআরএম
What's Your Reaction?