প্রবাসের নিঃশব্দ ঈদ : গ্রামীণ বাংলার স্মৃতি, অনুভূতি আর মানবতার আহ্বান
পবিত্র মাহে রমজান শেষ হয়ে আসছে। সামনে পবিত্র ঈদ। গোটা বিশ্বের মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের জন্য এ এক মহা আনন্দের দিন। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। রমজান মাস ত্যাগের মাস। ত্যাগ করা এবং দিতে শেখার মাস। আত্মত্যাগের মাস। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহ পাকের নির্দেশে সব ধরণের পানাহার থেকে মুক্ত থাকা। এভাবে একমাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদ। প্রতি বছর ঈদের এই আসা যাওয়ার মাঝে অনেক কিছু দেখেছি, অনেক কিছু শুনেছি, অনেক কিছু ভেবেছি, অনেক কিছু উপলব্ধি করেছি। শুধু প্রশ্ন করিনি ‘কেন’? কেন এই ঈদ এবং কী কারণ থাকতে পারে এর পেছনে? কেন বা কী কারণ এ বিশ্লেষণ যদি সঠিকভাবে না জানা যায় তবে তৃপ্তি বা আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে না, গড়ে ওঠে না বোধ। ভালোবাসার বোধ, ভ্রাতৃত্বের বোধ, ক্ষমার বোধ, ত্যাগের বোধ, বিবেকের বোধ, নৈতিকতার বোধ। তাইতো প্রশ্ন জেগেছে মনের মাঝে কবে হবে বোধগম্য? আমার প্রচুর আছে কিন্তু তার কিছুই নেই এটা আমার বোধগম্যে এসেছে, কিন্তু আমি কী ভাবছি যার কিছু নেই তার জন্য কিছু করতে? উত্তর হ্যাঁ বা না হতে পারে। কিন্তু বোধগম্যতা যদি সেই ‘কী ভাবছি’ অনুভূতির মূল্যায়ন না দিতে পারে তখন হ্যাঁ বা না উত্তর খুঁজে
পবিত্র মাহে রমজান শেষ হয়ে আসছে। সামনে পবিত্র ঈদ। গোটা বিশ্বের মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের জন্য এ এক মহা আনন্দের দিন। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। রমজান মাস ত্যাগের মাস। ত্যাগ করা এবং দিতে শেখার মাস। আত্মত্যাগের মাস।
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহ পাকের নির্দেশে সব ধরণের পানাহার থেকে মুক্ত থাকা। এভাবে একমাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদ। প্রতি বছর ঈদের এই আসা যাওয়ার মাঝে অনেক কিছু দেখেছি, অনেক কিছু শুনেছি, অনেক কিছু ভেবেছি, অনেক কিছু উপলব্ধি করেছি। শুধু প্রশ্ন করিনি ‘কেন’? কেন এই ঈদ এবং কী কারণ থাকতে পারে এর পেছনে?
কেন বা কী কারণ এ বিশ্লেষণ যদি সঠিকভাবে না জানা যায় তবে তৃপ্তি বা আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে না, গড়ে ওঠে না বোধ। ভালোবাসার বোধ, ভ্রাতৃত্বের বোধ, ক্ষমার বোধ, ত্যাগের বোধ, বিবেকের বোধ, নৈতিকতার বোধ।
তাইতো প্রশ্ন জেগেছে মনের মাঝে কবে হবে বোধগম্য? আমার প্রচুর আছে কিন্তু তার কিছুই নেই এটা আমার বোধগম্যে এসেছে, কিন্তু আমি কী ভাবছি যার কিছু নেই তার জন্য কিছু করতে? উত্তর হ্যাঁ বা না হতে পারে। কিন্তু বোধগম্যতা যদি সেই ‘কী ভাবছি’ অনুভূতির মূল্যায়ন না দিতে পারে তখন হ্যাঁ বা না উত্তর খুঁজে পাওয়া কঠিন।
এই পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে, যেসব দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে সামারে দীর্ঘদিন ধরে সূর্য ডোবে না। সূর্য অস্ত গেলেও দেখা যায় দিনের আলো। যার কারণে এসব অঞ্চলের মুসলমানরা দিনের দীর্ঘ আলোতেই রোজা পালন করে থাকেন। আবার শীতের সময় বিষয়টি উল্টো হয় যেমন সূর্য দেখাই যায় না, সেক্ষেত্রে এসব অঞ্চলে রোজা সাধারণত অন্যান্য দেশের মুসলমানদের রোজার সময়ের চেয়ে কম হয়। সূর্য না ডোবা দেশ ও অঞ্চলগুলো হলো নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, আলাস্কা, আইসল্যান্ড ও কানাডা। এসব দেশ ও দেশগুলোর কিছু কিছু অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সূর্য ডোবে না। সেসব দেশের মুসলমানরাও যথারীতি রমজানের রোজা পালন করে থাকেন। তবে এ বছর রোজা এমন একটি সময় চলমান যখন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টি সুইডেনের সাউথ এবং নর্থের যে দূরত্ব তাতে করে সময়ের কিছুটা ব্যবধানে রোজা পালন করা হয়েছে। সুইডেন ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলভেদে মুসলমানরা ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত রোজা পালন করেছেন (যা সাধারণত ১৭-২২ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে)। জিনিসপত্রের দাম রোজার মাসে বাড়ানো হয়নি বরং কিছুটা কম বলা যেতে পারে। বিশ্বের সবদেশের মানুষের বাস এখানে। সেক্ষেত্রে ধর্মচর্চায় সুযোগ-সুবিধা অনেক। কাজের ফাঁকে নামাজ রোজার সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়।
সুইডেনের সমাজে যারা প্রভূত অর্থ সম্পদের মালিক তাদের অনেকেই স্ব-অর্থায়নে সমাজসেবামূলক কাজ করে। কিন্তু যাদের সম্পদ কম তারা এলাকায় কোনো মসজিদ, মন্দির, ক্লাব, বা পাঠাগার গড়ার জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।
এ ধরনের সমাজসেবা হলো নিজের খেয়ে সমাজের জন্য কাজ করা। এদের প্রাপ্তি বলতে মানুষের জন্য কাজ করার আনন্দ বৈ আর কিছু না। এসব কাজ সুইডেনে সব সময় হয়ে থাকে। বাংলাদেশে রমজান মাসে আমরা অনেকেই এ ধরনের কাজ করে থাকি যাকাতের একটি অংশ হিসেবে।
সুইডিশদের মধ্যেও ভালো-মন্দ আছে তা সত্ত্বেও কেন যেন মনে হয় সমাজ ব্যবস্থায় ইসলাম ধর্মের অনেক রীতিনীতির সাথে বেশ মিল খুঁজে পাই। যেমন এরা বেতনের এক তৃতীয়াংশ ট্যাক্স দেয়, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। ইদানীং সুইডেনেও ইউরোপের অনেক দেশের মতো মসজিদ তৈরি এবং কমিটি নির্বাচনে লাখ লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে।
ইসলাম ধর্মকে সুইডেন এবং ইউরোপে আগের তুলনায় উদারভাবে দেখা হচ্ছে। যদিও মাঝে মধ্যে নানা সমস্যা দেখা যায়।
পশ্চিমা খ্রিষ্টান দেশগুলোতে রমজানকে প্রায়শই সম্মান জানানো হয়। অফিস, স্কুল বা পাবলিক ইভেন্টে রোজা রাখার কারণে খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকা প্রায়শই সমর্থন পায়। যদিও সরকারি ক্যালেন্ডারে রমজান বিশেষভাবে উল্লেখ থাকে না, ধর্মনিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো মুসলিমদের আধ্যাত্মিক অনুশীলনকে স্বীকৃতি দেয়।
ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বসবাস রাশিয়ায়। দেশটিতে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী। বেসরকারি হিসেবে শুধু মস্কোতেই বাস করেন প্রায় ৪০-৪৫ লাখ মুসলমান। ঈদের দিন রাশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশগুলোতে একদিনের বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়। রাশিয়া একটি বিশাল বড় দেশ। ইউরোপ এবং এশিয়াজুড়ে এর অবস্থান, সেক্ষেত্রে ইউরোপের মধ্যে যে শহরগুলো রয়েছে সেখানেও ঈদ পালন হয়ে থাকে। যদিও ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ঈদ আকাশ-পাতাল ব্যবধান। কারণ ইউরোপে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির বাইরে একটি দিনও বন্ধ রাখা হয় না। তাই ঈদ উপলক্ষে কর্মস্থলে আগেই ছুটির জন্য বলে রাখতে হয় ঈদের নামাজ পড়ার সময়সূচি এবং নামাজ শেষে ফের কর্মস্থলে যেতে হয়। ঈদের যে আনন্দ বাংলাদেশে, তা কখনো অনুভূত হয় না ইউরোপে। এদিক দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশগুলোর কর্মজীবী বাংলাদেশিরা কিছুটা ঈদের আনন্দ পান।
আমি মুসলিম পরিবারে জন্মেছি। সেটি আমার পরিচয়ের অংশ। কিন্তু মানবজাতি আমার বৃহত্তর পরিচয়। ইসলামের শিক্ষা আমাকে শিখিয়েছে, একজন মানুষের জীবন রক্ষা করা মানে সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করা। তাই রমজান যদি আমাকে আল্লাহর দিকে নিয়ে যায়, তবে সেটি আমাকে মানুষের দিকেও নিয়ে যাবে। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা মানুষের প্রতি দায়িত্ব ছাড়া পূর্ণ হয় না।
পঞ্চাশ বছর আগে গ্রামীণ বাংলায় ঈদ মানেই ছিল উৎসবের এক দীর্ঘ প্রাক্কালে আনন্দ। রমজান শুরু হতেই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ধীরে ধীরে উৎসবের আভাস দেখা যেত। বাড়ির কোণে সেহেরি রান্নার ধুম পড়ত, আগুনে ঘি-মসলা মিশিয়ে খিচুড়ি, দুধ-সেমাই তৈরি হতো। নানা বাড়িতে ঋতিমত ঈদের উৎসব প্রতিদিনই পালিত হতো, ছোটদের জন্য নতুন গল্প, বড়দের জন্য আধ্যাত্মিক চর্চা।
রাতের অন্ধকারে ভোরের সেহেরির প্রস্তুতি শুরু হতো। ঘরের ছোটবাচ্চারা অধীর আগ্রহে ঘুম ভেঙে বসত, পরিবারের সঙ্গে সেহেরি খেত। ভোরের হালকা আলো, পাখির কূজন আর রান্নার গন্ধ মিলিয়ে ভেতর এক অদ্ভুত আনন্দের অনুভূতি জাগত।
ইফতারের সময় গ্রামের বাতাসে ভেসে আসত আজানের ডাক। ঘরে পরিবারের সবাই একত্রিত হয়ে দোয়া পড়ত এবং ইফতারের আনন্দ ভাগাভাগি করত। ইফতারের পর নামাজের জন্য সবাই মসজিদে যেত। বাড়ির পাশের ছোট মসজিদে রাতের তারাবির নামাজ পড়া ছিল অভ্যাস, বিশেষ করে ২৭ শে রমজানের রাতটি, মসজিদে সারারাত কাটানো হত আল্লাহর সান্নিধ্যে। নিস্তব্ধতা, মশাল জ্বালানো, কোরআনের তেলাওয়াত, সবই এক আলাদা আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাস দিত। ছোটদের চোখে ঘুম হতো না, তারা বসে শোনত বড়দের তেলাওয়াত, মাঝে মাঝে পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে দোয়া বিনিময় করত।
শেষ রাতের পর ভোরের নামাজ পড়ে গ্রামের প্রতিটি ঘরে শুরু হতো ঈদের দিন। নতুন জামা পরা, বাড়ির বড়দের কাছে সালাম জানানো, মায়ের দোয়া নেওয়া, বকশিস পাওয়া, এসব মুহূর্ত ছিল ছোটদের সবচেয়ে আনন্দের। মুরব্বিদের কোলাকুলি, আত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ, পাড়া-মহল্লায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, সব মিলিয়ে ঈদের দিনটি ছিল এক অবিরাম আনন্দ, পারিবারিক উষ্ণতা এবং সামাজিক বন্ধনের উৎসব।
সেই সরল সময়ের ঈদ ছিল অভ্যন্তরীণ আনন্দ, মানবিক সম্পর্ক এবং আধ্যাত্মিক অনুভূতির এক অপূর্ব মিলন। পঞ্চাশ বছর আগের গ্রামীণ ঈদ আজও স্মৃতিতে উজ্জ্বল, যেন সরলতা, উষ্ণতা এবং আনন্দের এক স্থায়ী অধ্যায়।-
এতক্ষণ অনেক কথাই জানালাম এখন বলি আমার অনুভূতি ‘ঈদ তখন’ প্রথমেই মনে পড়ে গেলো সেই ‘ও মোর রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ কথাটি।
ছোটবেলায় আমার কাছে ঈদের আগের রাতেই ঈদ মনে হত। সে যে কী আনন্দ যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ঈদের আগের দিন রাতে শত চেষ্টা করে দু’চোখের পাতা এক করতে পারিনি। কেন জানি ঘুমের ক্লান্তি শরীরে স্পর্শ করেনি। বিছানায় এদিক সেদিক গড়াগড়ি করতে করতে হঠাৎ সকাল হয়েছে। ঈদের খুশিতে সবকিছু উলটপালট হয়ে যেত। তবুও সব কিছুতে দ্বিগুণ আনন্দের অনুভূতি ঈদকে ঘিরে। রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদ নিয়ে যত সব করণীয় পরিকল্পনা বেড়ে যেত। বিশেষ করে বাসাবাড়ির চাকচিক্য করা এবং নতুন পোশাক সবার জন্য যার ছিল ব্যাপক চাহিদা।
মনে পড়ে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের স্মৃতি ঈদের নামাজের পূর্বে মিষ্টিমুখ অর্থাৎ সেমাই খেয়ে নামাজে যাওয়া যেন একটা সামাজিক রেওয়াজ। না খেলেও জোরপূর্বক খাওয়াতেন মা। এরপর নতুন পোশাক পরে সালামি নিতে অপেক্ষায় থাকতাম। বাবা মা আত্মীয় পরিবার পরিজন বড় সবাইকে সম্মান করলে টাকা হাতে তুলে দিতেন। সেই টাকা দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যেতাম বন্ধুদের নিয়ে।
পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াতাম। সবার বাসায় গিয়ে খীর, সেমাই খেতে খেতে একটা সময় আর খাওয়ার কোন রুচি থাকত না। সব মিলে ছেলে বেলার ঈদ ছিল পরিপূর্ণ বিনোদনে ভরা। যা এখন শুধু স্মৃতি, তবুও মুছে যাওয়া দিনগুলি আমায় যে পিছু ডাকে, স্মৃতি যেন আমার এ হৃদয়ে বেদনার রঙ্গে রঙ্গে ছবি আঁকে। সেই আগের মতো আনন্দ এখন আর হবে না, হবে কী করে বাবা-মা নেই, কোথাও কেউ নেই সেই ছোটবেলার মতো। চার যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসে ঈদ করছি। বিদেশে অর্থের পিছুটান না থাকলেও আনন্দ উল্লাসের অনেক ঘাটতি রয়েছে যা কোনোভাবেই পূরণীয় নয়। দেশের টানে, নাড়ির টানে মন ছুটে চলে সব সময় দেশের পানে। বিশেষ করে বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে দেশকে অনেক বেশি মনে পড়ে। কারণ সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। ফলে বোধগম্য হয় ঈদ হচ্ছে। তবু সব কিছু মেনেই চলতে হয়। দুঃখ আর বেদনার আরেক নাম প্রবাসীদের ঈদ উদযাপন।
মাহে রমজানের এই সময়ে বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশে একটি আন্তরিক আহ্বান জানাতে চাই। আমরা মতাদর্শে ভিন্ন হতে পারি, রাজনৈতিক অবস্থানে ভিন্ন হতে পারি, কিন্তু আমরা একই মাটির সন্তান। এই মাসে অন্তত ঘৃণার ভাষা কমাই, পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়াই, অন্যের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করি। পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে ন্যায়, সততা ও সহমর্মিতাকে অগ্রাধিকার দিই। যদি আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামান্য হলেও নৈতিক সাহস দেখাই, তবে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিক নয়, নৈতিক শক্তিতেও সমৃদ্ধ হবে।
রমজান হোক আমাদের আত্মশুদ্ধির, মানবিক ঐক্যের এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের পথে নতুন অঙ্গীকারের সূচনা।
এবারের ঈদ উদযাপন বয়ে আনুক দেয়া নেয়ার অঙ্গীকার। ঈদ পৃথিবীর সমস্ত মুসলমানদের হৃদয়ের মানবতার দ্বার খুলে দিক তেমনটি আশা কামনা করছি। ঈদ আমাদের জীবনের শূন্যতাকে পূর্ণ করুক।
রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
What's Your Reaction?