প্রবীণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার অঙ্গীকার

‘দেশের মোট জনসংখ্যার এক দশমাংশ বা এক কোটি ৮০ লাখেরও বেশি ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকের বেশির ভাগের প্রতি চলা নির্যাতন প্রতিরোধের বিষয়টি কেবল আর সচেতনতার মাঝে নেই। এখন এটি প্রতিরোধ করতে হবে, একেবারে বন্ধ করতে হবে।’ বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) আয়োজিত সভায় আলোচকরা এসব কথা বলেন। নবীন-প্রবীণের আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি গড়ে তুলে প্রবীণদের আশা- আকাঙ্খক্ষা পূরণের আহ্বানও জানান তারা। সভায় প্রস্তাবিত ‘ঢাকা ঘোষণা ২০২৬’-এ প্রবীণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিতকরণ, ন্যায়বিচারে সহজ প্রবেশাধিকার, প্রবীণবান্ধব সালিশ ও বিচারব্যবস্থা (এডিআর) প্রণয়নেরও অঙ্গীকার করা হয়। সভায় দাবি জানিয়ে বলা হয়, এসব নির্যাতন প্রতিরোধে এবং প্রবীণদের সুন্দর ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সামাজিক ও পারিবারিকভাবে তাদের প্রতি সচেতন ও সহানুভূতিশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে চিকিৎসাভাতা ও ওষুধ-পথ্যের ব্যয় নির্বাহে আরও সুযোগ-সুবিধা, বিশেষত, প্রবীণ

প্রবীণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার অঙ্গীকার

‘দেশের মোট জনসংখ্যার এক দশমাংশ বা এক কোটি ৮০ লাখেরও বেশি ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকের বেশির ভাগের প্রতি চলা নির্যাতন প্রতিরোধের বিষয়টি কেবল আর সচেতনতার মাঝে নেই। এখন এটি প্রতিরোধ করতে হবে, একেবারে বন্ধ করতে হবে।’

বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) আয়োজিত সভায় আলোচকরা এসব কথা বলেন। নবীন-প্রবীণের আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি গড়ে তুলে প্রবীণদের আশা- আকাঙ্খক্ষা পূরণের আহ্বানও জানান তারা।

সভায় প্রস্তাবিত ‘ঢাকা ঘোষণা ২০২৬’-এ প্রবীণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিতকরণ, ন্যায়বিচারে সহজ প্রবেশাধিকার, প্রবীণবান্ধব সালিশ ও বিচারব্যবস্থা (এডিআর) প্রণয়নেরও অঙ্গীকার করা হয়।

সভায় দাবি জানিয়ে বলা হয়, এসব নির্যাতন প্রতিরোধে এবং প্রবীণদের সুন্দর ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সামাজিক ও পারিবারিকভাবে তাদের প্রতি সচেতন ও সহানুভূতিশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে চিকিৎসাভাতা ও ওষুধ-পথ্যের ব্যয় নির্বাহে আরও সুযোগ-সুবিধা, বিশেষত, প্রবীণ নারীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ভাতার পরিমাণ বাড়াতে হবে।

প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনে ‘জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা, ২০১৩’ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে সভা থেকে প্রচলিত ভরণপোষণ আইন পর্যালোচনা করে সমন্বিত প্রবীণ অধিকার আইন প্রবর্তন, এডিআর ও সালিশে প্রবীণ সুরক্ষা, দেশের সব হাসপাতাল ও জেলা লিগ্যাল এইডে প্রবীণ সহায়তা ডেস্ক স্থাপন ছাড়াও প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধ নির্দেশিকার দাবিগুলোও উঠে আসে সভা থেকে।

২০৫০ সালের মধ্যে দেশে প্রবীণের সংখ্যা দ্বিগুণেরও (২২/২৩ শতাংশে পৌঁছাবে) বেশি হবে জানিয়ে সভায় বলা হয়, তখনকার ক্রমবর্ধমান নির্যাতন প্রতিরোধে এখন থেকেই প্রবীণ কার্ড ও প্রবীণ স্বাস্থ্যবিমা চালুসহ তাদের সুরক্ষায় সার্বিক যত্ন নিতে হবে, আর্থিক ও সম্পদের নিরাপত্তা দিতে হবে। একই সঙ্গে বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে মানবিক সেবা থাকতে হবে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বৃদ্ধাশ্রমের সাথে সংযোগ করে দিতে হবে।

দাবিগুলোর জবাবে সভার প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রবীণদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী নাগরিকদের জন্য রেলভ্রমণ বিনামূল্যে এবং মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বয়স্কভাতা ৬৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণদের ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবীণরা বয়সজনিত কারণে অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের থেকেও বেশি অসহায় হয়ে পড়েন। তাই তাদের কল্যাণে রাষ্ট্রের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রবীণদের প্রতি অবহেলা ও নির্যাতনের অনেক ঘটনা কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, বরং এ ক্ষেত্রে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ অপরিহার্য।

সভায় কি-নোট উপস্থাপন করেন রিকের ‘ইমপ্রুভড ইনকাম সিকিউরিটি থ্রু স্ট্রেনদেনদ্ ইন্টারজেনারেশনাল গ্রুপস ফর ওল্ডার পিপল ইন বাংলাদেশ (আইএসআইজিওপি) প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারী গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু।

রিকের নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খানের সভাপতিত্বে কনসালটেশন সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, এফআরইবির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাস, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারপারসন ড. হালিদা হানুম আখতার, নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন হক এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এম এম মাহামুদুল্লাহ।

আইএসআইজিওপি প্রকল্পের সমন্বয়ক খন্দকার রিয়াজের সঞ্চালনায় সভায় আলোচনা করেন নারীমৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, নারী উন্নয়ন শক্তির (এনইউএস) নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জাহাঙ্গীর আলম, আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি ক্লাবের নাজমুল আবেদীন, মো. জিয়াউল ইসলাম ও নবীণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী লুৎফা আক্তার।

বিএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow