প্রযোজক সমিতির নির্বাচন স্থগিত, আদালতের নির্দেশ
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নির্বাচিত নেতৃত্ব ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) দিয়েছেন আদালত। এ আদেশের ফলে আগামী দুই মাস নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। নির্বাচনসংক্রান্ত এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। ফলে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজন বা এ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রযোজক জাগো নিউজকে বলেন, ‘খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম ইতিমধ্যে দুবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী তারা আর নির্বাচন করতে পারবেন না। নির্বাচন করতে হলে অন্তত একটি মেয়াদ নির্বাচনের বাইরে থেকে পরে আবারও তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। জানা গেছে, এই নিয়ম উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন ওই দুই প্রযোজক নেতা। চলচ্চিত
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নির্বাচিত নেতৃত্ব ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) দিয়েছেন আদালত। এ আদেশের ফলে আগামী দুই মাস নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
নির্বাচনসংক্রান্ত এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। ফলে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজন বা এ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রযোজক জাগো নিউজকে বলেন, ‘খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম ইতিমধ্যে দুবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী তারা আর নির্বাচন করতে পারবেন না। নির্বাচন করতে হলে অন্তত একটি মেয়াদ নির্বাচনের বাইরে থেকে পরে আবারও তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।
জানা গেছে, এই নিয়ম উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন ওই দুই প্রযোজক নেতা। চলচ্চিত্র অঙ্গনে বহুল আলোচিত এ নির্বাচনে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা ইতিমধ্যে প্রচারও শুরু করেছিলেন। কিন্তু আদালতের হস্তক্ষেপে তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া হচ্ছে না।
চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশকদের শীর্ষ এই সংগঠনটি দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত নেতৃত্বের পরিবর্তে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভোটার তালিকা, গঠনতন্ত্র এবং আইনি জটিলতার কারণে প্রতিবারই প্রক্রিয়াটি থমকে গেছে। ফলে কার্যকর নেতৃত্বের অভাবে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও দীর্ঘদিন ঝুলে রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই। এরপর নতুন নির্বাচন আয়োজনের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সমিতির নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে বড় বিরোধ তৈরি হয় ভোটার তালিকা এবং ভোটাধিকারকে কেন্দ্র করে। আগে একজন প্রযোজক একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করলে ‘আমমোক্তারনামা’র মাধ্যমে অতিরিক্ত ভোটাধিকার পেতেন। সমিতির একাংশ দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছিল। ২০২২ সালের ২১ মে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ভোটগ্রহণের দিন হাইকোর্টের নির্দেশে তা স্থগিত হয়ে যায়। একই টিআইএন-এর আওতায় একাধিক ব্যক্তি ভোটার হওয়ার অভিযোগে আদালত নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। এরপরও বিরোধের অবসান হয়নি।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ভোট ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রযোজক যতগুলো চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন না কেন, তিনি একজন ভোটার হিসেবেই গণ্য হবেন। পাশাপাশি সদস্যপদ নবায়ন এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়। প্রথমে ১১ জুলাই ভোটগ্রহণের দিন ধার্য হলেও পরে তা পিছিয়ে ৮ আগস্ট করা হয়।
এমআই/আরএমডি
What's Your Reaction?